logo

প্রেমিকের নির্যাতনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন কাজল

এশিয়া পোস্ট বিনোদন
এশিয়া পোস্ট বিনোদন
প্রেমিকের নির্যাতনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন কাজল
কাজল রাঘবানি। ছবি: অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

ভোজপুরি সিনেমার পরিচিত মুখ কাজল রাঘবানি। পর্দায় তার ঝলমলে উপস্থিতি, জনপ্রিয়তা কিংবা তারকাখ্যাতির বাইরে ব্যক্তিগত জীবনে বয়ে গেছে অনেক কঠিন সময়। সম্প্রতি নিজের জীবনের সেই অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলেছেন এই অভিনেত্রী। জানিয়েছেন, ভালোবাসার সম্পর্কেই একাধিকবার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ‘রাইজ অ্যান্ড ফল’ অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় মৌসুমে অংশ নেওয়া কাজল সহ-প্রতিযোগী অনীশ ভগতের সঙ্গে আলাপকালে এসব অভিজ্ঞতার কথা জানান।

কাজল বলেন, তিনি যাকে ভালোবাসতেন, সেই মানুষটির হাতেই বহুবার মার খেয়েছেন। তবে ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করতে চান না তিনি। তার দাবি, মাটিতে ফেলে তাকে লাথি মারা হতো, এমনকি চুল ধরে টেনে মেঝেতে ফেলে দেওয়া হতো।

কাজলের ভাষায়, ‘আমি যাকে ভালোবাসতাম, সেই মানুষটির হাতে অনেক মার খেয়েছি। আমি এখনো তার নাম বলিনি, ভবিষ্যতেও বলব না। মানুষ বুঝে গেছে সে কে, তাই আমার আর বলার প্রয়োজন নেই।’

নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি আরও জানান, ওই ব্যক্তি তাকে মাটিতে ফেলে মারধর করতেন এবং চুল ধরে এত জোরে টানতেন যে মাথার চুল ছিঁড়ে তার হাতেই উঠে আসত। এতে একসময় মাথার ত্বকও দুর্বল হয়ে যায় বলে দাবি করেন কাজল।

এই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অভিনেত্রী। তিনি জানান, শারীরিক আঘাতের চেয়ে চুল ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনাই তাকে বেশি মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। এরপর থেকে মানুষের ওপর বিশ্বাস রাখতেও তার সমস্যা হচ্ছে।

কাজল বলেন, ‘শারীরিক আঘাত আমাকে তেমন প্রভাবিত করেনি। কিন্তু যখন আমার চুল ছিঁড়ে হাতে উঠে আসত, তখন আমি ভেঙে পড়তাম। এখন আমি কাউকে বিশ্বাস করতে পারি না। জীবনে অনেক কিছুর মুখোমুখি হয়েছি।’

এবারই প্রথম নয়, এর আগেও ব্যক্তিগত জীবনের নানা কঠিন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন কাজল। চলতি বছরের আগস্টে ‘ভোজপুরি বাওয়াল’ অনুষ্ঠানে শুভঙ্কর মিশ্রার সঙ্গে আলাপকালে নিজের শৈশবের কথাও স্মরণ করেন তিনি।

কাজল জানান, তার বাবা তার মাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বাবাকে পরিবার ছেড়ে চলে যেতে দেখেন তিনি। সেই সময়টিকে জীবনের অন্যতম কঠিন সময় হিসেবে বর্ণনা করেন অভিনেত্রী।

কাজলের দাবি, তার বাবা মাকে মারধর করতেন এবং একসময় মদ্যপান শুরু করার পর পারিবারিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। একটি ঘটনার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, তার মা বাবার পা মালিশ করছিলেন। তখন বাবা তাকে এমন জোরে লাথি মারেন যে তিনি গিয়ে দেয়ালে আঘাত পান।

পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে অল্প বয়সেই অভিনয়ে ক্যারিয়ার শুরু করতে হয়েছিল বলেও জানান কাজল। তার ভাষ্য, যদি তখন তিনি সফল হতে পারতেন, তাহলে হয়তো মাকে এসব পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতে পারতেন।

নিজের সম্পর্কের নির্যাতনের বিষয়টি এতদিন প্রকাশ্যে না আনার কারণও জানিয়েছেন কাজল। তিনি বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় বিষয়টি প্রকাশ করলে তার পরিবার আরও বিপদে পড়তে পারে- এমন ভয় ছিল।

কাজলের দাবি, একবার মারধরের পর তাকে তার পরিবারকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। ভয়ে থাকলেও পরদিন তিনি শুটিংয়ে চলে যান। অভিনেত্রীর কথায়, তিনি জানতেন বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলে হয়তো কেউ তার পাশে দাঁড়াবে না। তাই ব্যক্তিগত কষ্ট ভুলে কাজের দিকেই মনোযোগ দিয়েছিলেন।

ভোজপুরি অভিনেতা খেসারি লাল যাদবের সঙ্গে কাজলের সম্পর্ক নিয়েও বহুবার আলোচনা হয়েছে। দুজনের প্রায় পাঁচ বছরের সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে কাজল স্পষ্ট করেছেন, যে ব্যক্তির হাতে ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা তিনি বলেছেন, তিনি খেসারি লাল নন।

কাজলের দাবি, খেসারি লাল একবার তাকে চড় মেরেছিলেন। তবে তিনি যে গুরুতর নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন, সেটি অন্য একজন অভিনেতার বিরুদ্ধে। ওই ব্যক্তির নামও প্রকাশ করেননি কাজল। তার দাবি, সেই অভিনেতা তাকে মেঝেতে ফেলে মারধর করেন এবং চুল ধরে টানেন। পরে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করলে সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

এর আগে খেসারি লালের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও নানা ব্যক্তিগত কথা বলেছেন কাজল। এমনকি একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেছিলেন, তিনি জানতেন খেসারি বিবাহিত এবং সেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অন্য একজন নারী।

২০০৯ সালে গুজরাটি ভাষার সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন কাজল রাঘবানি। পরে ভোজপুরি সিনেমায় নিজের জায়গা তৈরি করেন। ২০১১ সালের ‘সুগনা’ দিয়ে ভোজপুরি সিনেমায় তার যাত্রা শুরু হয়। এরপর ‘রিহাই’, ‘পাটনা সে পাকিস্তান’, ‘ভোজপুরিয়া রাজা’, ‘মেহেন্দি লাগা কে রাখনা’, ‘সংঘর্ষ’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। তার অভিনীত সিনেমার সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।