মুস্তাফা মনোয়ারকে শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে মানুষের ভিড়

এশিয়া পোস্ট বিনোদন
মুস্তাফা মনোয়ারকে শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে মানুষের ভিড়
শিল্প ও সংস্কৃতি জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র মুস্তাফা মনোয়ার। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতি জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র মুস্তাফা মনোয়ারকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত করলেন সর্বস্তরের মানুষ। একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী, পাপেটশিল্পের পথিকৃৎ এবং প্রখ্যাত এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে শেষ বিদায় ও শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

Advertisement


মঙ্গলবার (৩০ জুন) শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হন তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী, শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিকর্মীসহ হাজারো ভক্ত-অনুরাগী।

বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী, নির্দেশক মুস্তাফা মনোয়ার সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

আজ সকালে বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রাঙ্গণে এই শিল্পগুরুর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেলা ১১টার দিকে সেখান থেকে তার মরদেহ নিয়ে আসা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। প্রিয় ব্যক্তিত্বকে হারিয়ে সেখানে উপস্থিত অনুরাগীদের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তার মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে। সেখানে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় জানাজা। এরপর চারুকলা অনুষদসহ কিছু জায়গায় শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে দেশের শিল্প-সংস্কৃতির এই কিংবদন্তিকে।

শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন মুস্তাফা মনোয়ার। এ ছাড়া নানা সম্মাননায় ভূষিত ছিলেন তিনি। কবি গোলাম মোস্তফার ছেলে মুস্তাফা মনোয়ারের জন্ম ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর। দেশজুড়ে, স্তব্ধ হয়ে পড়েছে শিল্প-সংস্কৃতির আঙিনা।

মুস্তাফা মনোয়ারের প্রয়াণের খবরে সামাজিকমাধ্যমে তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছেন নেটিজেনরা। শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করে অনেকেই তার আত্মার শান্তিকামনা করে আবেগঘন বার্তা দিচ্ছেন। বাংলাদেশের পারুল-বাউলের রূপকার চলে গেছেন চিরতরে। তবে শিল্পাঙ্গনে তার অবদান কোটি বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে থাকবে চিরকাল।