logo

পুষ্টিবিদের মতে বাচ্চাদের রোজা রাখার প্রস্তুতি ও করণীয়

পুষ্টিবিদের মতে বাচ্চাদের রোজা রাখার প্রস্তুতি ও করণীয়

রমজান মাস আমাদের আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য ও শৃঙ্খলার শিক্ষা দেয়। অনেক বাবা-মা চান, তাদের সন্তান ছোটবেলা থেকেই রোজার সঙ্গে পরিচিত হোক। এটি অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। তবে শুধু আবেগ দিয়ে নয়, বাচ্চার বয়স, শারীরিক সক্ষমতা এবং পুষ্টিগত অবস্থার কথা বিবেচনা করে ধীরে ধীরে রোজার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

কোন বয়সে কীভাবে রোজা শুরু করা উচিত

পুষ্টিবিদ মাহমুদা আফরিন (পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড, শ্যামলী ও নোয়াখালী শাখা) বলছেন, ৭ থেকে ৯ বছর বয়সি শিশুদের পূর্ণ রোজা না রেখে অল্প সময়ের জন্য রোজার অভ্যাস করানো নিরাপদ। এতে তারা ধীরে ধীরে প্রস্তুত হতে পারে।

১০ থেকে ১২ বছর বয়সে পূর্ণ রোজা শুরু করা যেতে পারে, তবে এই সময়েও অভিভাবকদের নিয়মিত নজরদারি জরুরি।

রোজার আগে শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি

শিশুদের রোজা রাখার আগে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া দরকার। প্রথমেই বাচ্চাদের ঘুমের রুটিন ঠিক করতে হবে। সেহরির জন্য রাতে একটু আগে ঘুমাতে পাঠানো ভালো। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

শিশুদের রোজার গুরুত্ব ও তাৎপর্য সহজ ভাষায় বোঝাতে হবে। বাচ্ছাদের কখনোই জোর করে রোজা রাখতে বাধ্য করা উচিত নয়। খেয়াল রাখবেন, রোজা যেন তাদের জন্য আনন্দের অভিজ্ঞতা হয়, চাপের নয়।

সেহরিতে যা খাবার দেবেন

সেহরির খাবার এমন হওয়া উচিত যা দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায়। যেমন :

- লাল চালের ভাত, আটার রুটি বা ওটসের মতো জটিল কার্বোহাইড্রেট

- ডিম, মাছ, ডাল বা দইয়ের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার

- বাদাম বা অল্প পরিমাণ ঘি থেকে স্বাস্থ্যকর চর্বি

- কলা বা আপেলের মতো সহজপাচ্য ফল

- ঝাল ও অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো

ইফতারে যা খাওয়াবেন

ইফতার শুরু করা যেতে পারে পানি বা হালকা গুড়ের শরবত দিয়ে। সঙ্গে এক থেকে দুইটি খেজুর দেওয়া যায়। এরপর দিতে পারেন- ঘরে তৈরি হালকা খাবার, ছোলা, নরম সবজি খিচুড়ি, দই-গুড়-চিড়া মিক্স, ফল বা স্যুপ আর ভাজাপোড়া থাকলে খুব অল্প পরিমাণে সীমিত রাখা উচিত।

যখন সতর্ক হবেন

রোজার সময় যদি বাচ্চার মাথা ঘোরে, অতিরিক্ত দুর্বল লাগে, বমি ভাব হয়, আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে যায় তাহলে দ্রুত রোজা ভাঙাতে হবে। এছাড়া দুপুরের পর অতিরিক্ত খেলাধুলা সীমিত রাখা ভালো।

যেসব বাচ্চাদের রোজা না রাখাই নিরাপদ

- অতিরিক্ত কম ওজন বা অপুষ্টিতে ভোগা শিশু

- ডায়াবেটিস, কিডনি বা হৃদরোগসহ দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় আক্রান্ত শিশু

- যেসব শিশু নিয়মিত ওষুধ সেবন করে

বাচ্চাদের রোজা শেখাতে হবে ধীরে ধীরে। তাদের সুস্থতা সবার আগে। রোজা যেন তাদের জন্য আনন্দ, শিক্ষা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অভিজ্ঞতা হয়। কষ্টের নয়। প্রয়োজনে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।