logo
Advertisement

স্বাস্থ্য পরামর্শে এআইকে বিশ্বাস করা কি উচিত

এশিয়া পোস্ট নিউজ
স্বাস্থ্য পরামর্শে এআইকে বিশ্বাস করা কি উচিত

গত এক বছরে অনেক মানুষ স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য জানতে এআই চ্যাটবট ব্যবহার করছেন। সহজে ডাক্তার পাওয়া না গেলে বা দ্রুত কোনো প্রশ্নের উত্তর দরকার হলে এই প্রযুক্তি বেশ আকর্ষণীয় মনে হয়। সবসময় উপস্থিত থাকা, দ্রুত উত্তর দেওয়া এবং অনেক ক্ষেত্রে ভালো ফল দেওয়া- এসব কারণে চ্যাটবটের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।

Advertisement

তবে প্রশ্ন হলো, এই ধরনের এআই চ্যাটবটের পরামর্শ কতটা নির্ভরযোগ্য! এটি কি সাধারণ ইন্টারনেট সার্চের মতোই, নাকি এতে কিছু বাড়তি ঝুঁকিও আছে।

তবে সব সময় অভিজ্ঞতা ইতিবাচক হয়, এমনটা নয়। একবার হাঁটতে গিয়ে পড়ে গিয়ে পিঠে আঘাত পান তিনি। তখন চ্যাটবট তাকে জরুরি বিভাগে যাওয়ার পরামর্শ দেয় এবং গুরুতর সমস্যা হয়েছে বলে জানায়। কিন্তু পরে দেখা যায়, পরিস্থিতি ততটাও গুরুতর ছিল না। এতে বোঝা যায়, কখনও কখনও চ্যাটবট ভুল সিদ্ধান্তও দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ইংল্যান্ডের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা প্রফেসর স্যার ক্রিস হুইটি বলেন, মানুষ এখন এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে ঠিকই, কিন্তু অনেক সময় এর উত্তর যথেষ্ট নির্ভুল নয় এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভুল তথ্য দিতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যখন চিকিৎসকরা সম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে চ্যাটবটকে পরীক্ষা করেন, তখন এটি প্রায় ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সঠিক ফল দেয়। কিন্তু বাস্তবে মানুষ যখন ধাপে ধাপে তথ্য দেয় বা কিছু তথ্য বাদ পড়ে যায়, তখন চ্যাটবটের সঠিক উত্তরের হার অনেক কমে যায়।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ যখন চ্যাটবটের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে সমস্যা বোঝাতে চেষ্টা করে, তখন সঠিক ফল পাওয়ার হার প্রায় ৩৫ শতাংশে নেমে আসে। অর্থাৎ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভুল সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এখানে মূল সমস্যা হলো, মানুষ সব তথ্য একসঙ্গে দেয় না বা ঠিকভাবে বোঝাতে পারে না। ফলে চ্যাটবটও ভুল ব্যাখ্যা করতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চ্যাটবট ব্যবহার করলে অনেক সময় মনে হয় এটি ব্যক্তিগতভাবে পরামর্শ দিচ্ছে। এতে ব্যবহারকারীরা সেই তথ্যকে বেশি বিশ্বাস করতে পারেন। কিন্তু সাধারণ ওয়েবসাইটে তথ্য খুঁজলে উৎস যাচাই করার সুযোগ বেশি থাকে।

এআই চ্যাটবট দ্রুত ও সহজ তথ্য পাওয়ার একটি উপায় হতে পারে, তবে এটিকে চিকিৎসকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। সাধারণ স্বাস্থ্য তথ্য জানার জন্য এটি সহায়ক হতে পারে, কিন্তু গুরুতর বা জটিল সমস্যায় অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রযুক্তির পাশাপাশি সচেতনতা এবং নির্ভরযোগ্য উৎসের গুরুত্বও সমানভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সূত্র : বিবিসি