মাংসপেশির ব্যথা নাকি বড় কোনো সমস্যা, বুঝবেন যেভাবে

হঠাৎ ভারী কিছু তোলা, ব্যায়াম করা বা ভুলভাবে শরীর নড়াচড়া করলে অনেক সময় মাংসপেশিতে টান লাগে। এ ধরনের ব্যথা সাধারণত কয়েক দিন বিশ্রাম নিলে বা সহজ চিকিৎসায় ভালো হয়ে যায়।
তবে সব ব্যথাই যে সাধারণ মাংসপেশির টান, এমন নয়। কখনও কখনও একই ধরনের ব্যথা হাড়ের সমস্যা, স্নায়ুর ক্ষতি, জয়েন্টের রোগ কিংবা হৃদ্রোগের মতো গুরুতর অবস্থারও লক্ষণ হতে পারে। তাই কোন ব্যথা স্বাভাবিক আর কোনটি সতর্ক হওয়ার ইঙ্গিত, তা জানা জরুরি।
মাংসপেশিতে টান লাগলে কী হয়?
মাংসপেশি বা টেনডন অতিরিক্ত টান পড়লে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাকে মাংসপেশির টান বা মাসল স্ট্রেইন বলা হয়।
এর সাধারণ লক্ষণগুলো হলো -
- নির্দিষ্ট জায়গায় ব্যথা
- নড়াচড়া করলে ব্যথা বেড়ে যাওয়া
- পেশিতে শক্তভাব অনুভব করা
- হালকা ফোলাভাব
- আক্রান্ত স্থানে চাপ দিলে ব্যথা লাগা
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কয়েক দিন বিশ্রাম, বরফ সেঁক এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কাজে ফিরলে সমস্যা কমে যায়।
কখন বুঝবেন বিষয়টি আরও গুরুতর হতে পারে?
নিচের যেকোনো লক্ষণ থাকলে শুধু মাসল স্ট্রেইন ভেবে বসে থাকা উচিত নয়।
ব্যথা খুব তীব্র হলে: যদি হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হয় এবং হাত বা পা নড়ানোই কঠিন হয়ে যায়, তাহলে পেশি ছিঁড়ে যাওয়া, লিগামেন্টের আঘাত বা হাড়ের সমস্যার সম্ভাবনা থাকতে পারে।
ব্যথার সঙ্গে অবশভাব থাকলে: ব্যথার পাশাপাশি হাত বা পা অবশ হয়ে যাওয়া, ঝিনঝিনি অনুভব করা বা দুর্বলতা দেখা দিলে স্নায়ুর ওপর চাপ বা স্নায়ুর আঘাতের লক্ষণ হতে পারে।
ফোলা বা কালশিটে দ্রুত বাড়লে: আঘাতের পর খুব দ্রুত ফোলা, নীলচে দাগ বা রক্ত জমাট বাঁধার মতো পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কয়েক সপ্তাহেও না কমলে: সাধারণ মাসল স্ট্রেইনের ব্যথা ধীরে ধীরে কমে আসে। কিন্তু দুই থেকে তিন সপ্তাহ পরও যদি ব্যথা একই রকম থাকে বা আরও বাড়তে থাকে, তাহলে অন্য কোনো কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন।
কখন এটি হৃদ্রোগের লক্ষণ হতে পারে?
বিশেষ করে বাম কাঁধ, বুক, ঘাড়, চোয়াল বা হাতে ব্যথা হলে সতর্ক থাকতে হবে।
যদি ব্যথার সঙ্গে বুকে চাপ লাগা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা ও/বা বমি বমি ভাব দেখা দেয়, তাহলে এটি হৃদ্রোগের জরুরি লক্ষণ হতে পারে। এমন অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
ব্যথা কমাতে কী করবেন?
হালকা মাসল স্ট্রেইনের ক্ষেত্রে -
- আক্রান্ত অংশকে বিশ্রাম দিন।
- প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা বরফ সেঁক দিন।
- প্রয়োজন হলে ইলাস্টিক ব্যান্ডেজ ব্যবহার করুন।
- ফোলা কমাতে আক্রান্ত অংশ কিছুটা উঁচু করে রাখুন।
- ব্যথা কমে গেলে ধীরে ধীরে হালকা স্ট্রেচিং শুরু করুন।
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথার ওষুধ দীর্ঘদিন খাবেন না।
কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন
নিচের যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন -
- তীব্র ব্যথায় হাত বা পা নড়াতে না পারলে
- আঘাতের শব্দ অনুভব করলে
- ব্যথার সঙ্গে অবশভাব বা দুর্বলতা থাকলে
- জ্বরের সঙ্গে পেশিতে ব্যথা হলে
- ব্যথা কয়েক সপ্তাহেও না কমলে
- বুকের ব্যথা বা শ্বাসকষ্টের সঙ্গে ব্যথা হলে
কীভাবে মাংসপেশিতে টান এড়াবেন?
- ব্যায়ামের আগে ওয়ার্ম-আপ করুন।
- শরীরচর্চার শেষে স্ট্রেচিং করুন।
- ভারী জিনিস সঠিক ভঙ্গিতে তুলুন।
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
- নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে পেশি শক্তিশালী রাখুন।
- হঠাৎ অতিরিক্ত ব্যায়াম শুরু করবেন না।
মাংসপেশিতে টান লাগা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটি গুরুতর নয়। তবে ব্যথা যদি অস্বাভাবিক তীব্র হয়, দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় বা এর সঙ্গে অবশভাব, শ্বাসকষ্ট, বুকের ব্যথা কিংবা হাত-পায়ে দুর্বলতার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে এটিকে সাধারণ মাসল স্ট্রেইন ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে গুরুতর জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
সূত্র: এনডিটিভি



