logo

অতিরিক্ত ওজন ডিম্বাশয় ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়: ড. ইশতিয়াক

অতিরিক্ত ওজন ডিম্বাশয় ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়: ড. ইশতিয়াক
ডা. ইশতিয়াক উর রহিম। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বাংলাদেশের নারীদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ‘ডিম্বাশয় ক্যানসার’। প্রাথমিক পর্যায়ে এর লক্ষণগুলো অত্যন্ত অস্পষ্ট থাকায় একে ‘সাইলেন্ট কিলার’ বা নীরব ঘাতক বলা হয়।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, জরায়ুমুখের পরেই ডিম্বাশয় ক্যানসারের অবস্থান। এ ক্যানসার থেকে মুক্ত থাকার উপায় সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকার বারডেম জেনারেল হাসপাতালের কনসালটেন্ট (মেডিকেল অনকোলজি) ডা. ইশতিয়াক উর রহিম ।

সম্প্রতি এশিয়া পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ নীরব ঘাতকের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য ও পরামর্শ দিয়েছেন।

নারীদের জীবনযাপন সম্পর্কে ডা. ইশতিয়াক উর রহিম বলেন, ‘নারীদের জীবনযাপনের সঙ্গে ডিম্বাশয় ক্যানসারের সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও অতিরিক্ত ওজন (যাদের বিএমআই ৩০-এর বেশি) এর ঝুঁকি বাড়ায়। শরীরের অতিরিক্ত চর্বি ইস্ট্রোজেনের মাত্রা ও প্রদাহ বাড়িয়ে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সরাসরি গবেষণাভিত্তিক সম্পর্ক না পাওয়া গেলেও প্রক্রিয়াজাত খাবার, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও লাল মাংসের আধিক্য ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পক্ষান্তরে শাকসবজি, ফলমূল, আমিষ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ সুষম খাবার ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।’

তিনি বলেন, ‘নারীদের নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম শরীরের ওজন ও হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে। এটি সামগ্রিকভাবে ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে। জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির ব্যবহারও (বিশেষ করে অল্প মাত্রার) ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। তবে এর পাশাপাশি স্তন ও জরায়ুমুখ ক্যানসারের সম্ভাবনা বেড়ে যায় বলে এটি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে।’

ইশতিয়াক উর রহিম আরও বলেন, ‘বিআরসিএ-১ জিন ক্ষতিগ্রস্ত ডিএনএ মেরামত করে এবং ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে। বিআরসি এ-১ মিউটেশনের ক্ষেত্রে ওভারি ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা ৩৯-৪৪ শতাংশ এবং বিআরসি এ-২ আকস্মিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ১১-১৭ শতাংশ হতে পারে। বিআরসি এ-২ এবং বিআরসি এ-২ হলো টিউমার সাপ্রেসর জিন। এদের প্রধান কাজ হলো কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি রোধ করে ক্যানসার হওয়া থেকে শরীরকে রক্ষা করা। পারিবারিক বা ৫ ডিগ্রি রিলেটিভদের মধ্যে এ রোগ থাকলে জিন টেস্ট ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং গ্লোবোক্যানের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর ৩ হাজারের অধিক নারী এই ক্যানসারে আক্রান্ত হন। এরমধ্যে ২১০০-২২০০ জন নারী মারা যান।

নূর মামুন

সম্পাদনা

নূর মামুন

জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক | এশিয়া পোস্ট