logo

এসি ছাড়াই চলছে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ড

এসি ছাড়াই চলছে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ড
রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ড। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে মাত্র ২৪টি শয্যা। কিন্তু গত ১১ জুন সরেজমিনে দেখা গেছে, সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছে ৪০ জন নবজাতক। বেশির ভাগ শয্যায় দুজন করে শিশু। আর এই স্পর্শকাতর ওয়ার্ডে নেই কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। ভরসা কেবল সিলিং ফ্যান।

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (এসি) ও পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন না থাকায় ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা দেশব্যাপী চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকট সামনে নিয়ে এসেছে। এর মধ্যেই সরকারি হাসপাতালটির এমন চিত্র সামনে এলো।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের নবজাতক ওয়ার্ডসংলগ্ন নবজাতক ইউনিটে এসি চালু থাকলেও অবকাঠামো জটিলতায় সর্বোচ্চ ইনফেকশনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে চিকিৎসা।

নবজাতক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সদ্যোজাত শিশুর শরীরে স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে চারপাশের পরিবেশ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখা আবশ্যক। কারণ, জন্মের পর পরই শিশুদের নিউমোনিয়া থেকে শুরু করে নানা জটিলতা দেখা দেয়। বিশেষ করে কম ওজনের নবজাতকের জটিলতা আরও বেশি হওয়ায় নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখা জরুরি।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের কর্মকর্তারা অবশ্য তাদের নবজাতক ওয়ার্ডের বেহালের জন্য দুষছেন গণপূর্ত বিভাগকে। তাদের দাবি, বারবার চিঠি দিয়েও গণপূর্ত বিভাগের অবহেলায় এসি লাগানো সম্ভব হয়নি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, সাধারণত নবজাতকের ওয়ার্ডে বা ইনকিউবেটরে তাপমাত্রা ২৫ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে এসির বদলে চলছে সিলিং ফ্যান।

স্পর্শকাতর হলেও ওয়ার্ডে একই রোগীর একাধিক স্বজনকে অবস্থান করতে দেখা যায়। এমনকি শয্যায় খাবারও খেতে যায়।

তিন দিনের মেয়েকে নিয়ে ওয়ার্ডে থাকছেন সুমি আক্তার। তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের আগে জন্ম হওয়ায় শিশুটির ওজন তুলনামূলক অনেক কম। আছে নিউমোনিয়াও। ফ্যান দিয়ে তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হয় না।’

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডের দৃশ্য। ছবি: এশিয়া পোস্ট
রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডের দৃশ্য। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সুমি আক্তার বলেন, ‘এক বেডে দুই শিশুর চিকিৎসা চলছে। একজন করে হলেও দুজন মাকে থাকতে হয়। এতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে যেমন ভোগান্তি বাড়ে, আবার সংক্রমণের কারণে সুস্থ হতে বেশি সময় লাগছে। কিন্তু কিছু করারও নেই।’

যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউনেটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. জাকিয়া নাহার এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘নবজাতক মানেই স্পর্শকাতর বিষয়। নবজাতক ইউনিটের পাশাপাশি নবজাতক ওয়ার্ডেও এসি থাকা অনেকটাই বাধ্যতামূলক। কিন্তু এখানে সেটি নেই। প্রতিটি বেডে দ্বিগুণ কিংবা তিন গুণ রোগী চিকিৎসা নেয়। ফলে এসি না থাকায় তাপমাত্রার তারতম্য আরও বেশি ঘটে।’

তিনি বলেন, ‘নবজাতক ওয়ার্ড হলেও শয্যায় বসেই খাবারও খাওয়া হচ্ছে। আবার নবজাতক ইউনিটে পুরোনো কয়েকটি এসি লাগানো হলেও জানালা ও অন্যান্য অবকাঠামো দেখলে সহজেই বোঝা যায় এনআইসিউ সেবার দেওয়ার মতো ন্যূনতম পরিবেশ এখানে নেই। প্রতিটি জানালা দিয়ে বাইরে থেকে বাতাস প্রবেশ করতে পারে। এনআইসিউর ফ্লোর কখনও এমন হয় না। ফলে ইনফেকশনের ঝুঁকি অনেক বেশি।’

হাসপাতালের উপপরিচালক নন্দ দুলাল এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘নবজাতক ওয়ার্ডে এসি থাকা অবশ্যই থাকা দরকার। কিন্তু এসি লাগাতে চলতি অর্থবছরে গণপূর্তকে বারবার চিঠি দেওয়া হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পুরো অবকাঠামোই তাদের দায়িত্ব। তারা যেভাবে করেছে, সেভাবেই হয়। তারপরও আমরা বার বার তাদের বলেছি, যত তাড়াতাড়ি হয় সেই তাগিদ দিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘রোগী অনেক, কিন্তু আমাদের শয্যা তো নির্দিষ্ট। শয্যা অনুযায়ী রোগী ভর্তি করতে গেলে এক-তৃতীয়াংশ রোগীকে ফেরত পাঠাতে হবে। মেডিকেল কলেজ হিসেবে এটা তো আমরা করতে পারি না।