Advertisement

মুরগির মাংস খাওয়ার আগে জেনে নিন গবেষণার এই সতর্কতা

এশিয়া পোস্ট নিউজ
মুরগির মাংস খাওয়ার আগে জেনে নিন গবেষণার এই সতর্কতা
মুরগির মাংস বিশ্বের সবচেয়ে বেশি খাওয়া প্রাণিজ খাদ্যগুলোর একটি।

মুরগির মাংস বিশ্বের সবচেয়ে বেশি খাওয়া প্রাণিজ খাদ্যগুলোর একটি। এটি প্রোটিনের ভালো উৎস হলেও সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, সঠিকভাবে উৎপাদন, সংরক্ষণ ও রান্না না করলে মুরগির মাংস থেকে ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে ক্যাম্পাইলোব্যাক্টর ও সালমোনেলার মতো ব্যাকটেরিয়া এ ধরনের সংক্রমণের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অর্থ এই নয় যে মুরগির মাংস খাওয়া বন্ধ করতে হবে। বরং কাঁচা মুরগি নিরাপদভাবে সংরক্ষণ, সঠিক তাপমাত্রায় রান্না এবং রান্নাঘরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কেন বাড়ছে ঝুঁকি?

গবেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে মুরগির উৎপাদন বেড়েছে অনেক গুণ। একই সঙ্গে বড় পরিসরে খামার পরিচালনা, সরবরাহব্যবস্থা এবং অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিস্তারও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বিশেষ করে ক্যাম্পাইলোব্যাক্টর ব্যাকটেরিয়া এখন বিশ্বের অন্যতম সাধারণ খাদ্যবাহিত সংক্রমণের কারণ। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের অনেক সংক্রমণের সঙ্গে মুরগির মাংসের সম্পর্ক রয়েছে।

কোন ব্যাকটেরিয়া সবচেয়ে বেশি দায়ী?

মুরগির কাঁচা মাংসে সবচেয়ে বেশি যে দুটি জীবাণু পাওয়া যায়, সেগুলো হলো ক্যাম্পাইলোব্যাক্টর ও সালমোনেলা। এই জীবাণু ভালোভাবে রান্না করলে সাধারণত ধ্বংস হয়ে যায়। তবে কাঁচা মাংসের রস অন্য খাবারে লাগলে বা ঠিকভাবে রান্না না হলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

ফুড পয়জনিং হলে কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?

দূষিত খাবার খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের মধ্যে ডায়রিয়া, বমি বা বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, জ্বর, দুর্বলতা ও শরীরে পানিশূন্যতার মতো লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে।

বেশির ভাগ মানুষ কয়েক দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে জটিলতা বেশি হতে পারে।

মুরগির মাংস ধোয়া কি উচিত?

অনেকেই রান্নার আগে কাঁচা মুরগির মাংস ধুয়ে নেন। কিন্তু খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি নিরাপদ অভ্যাস নয়।

মাংস ধোয়ার সময় পানির ছিটায় ব্যাকটেরিয়া সিঙ্ক, রান্নাঘরের টেবিল, বাসন কিংবা অন্য খাবারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে উল্টো সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই কাঁচা মুরগির মাংস না ধুয়ে সরাসরি ভালোভাবে রান্না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।


কীভাবে ঝুঁকি কমাবেন?

ফুড পয়জনিং এড়াতে কয়েকটি নিয়ম মেনে চলা জরুরি।

  • কাঁচা মুরগির মাংস ফ্রিজে আলাদা পাত্রে রাখুন।
  • কাঁচা মাংস কাটার জন্য আলাদা কাটিং বোর্ড ব্যবহার করুন।
  • মাংস ধরার আগে ও পরে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।
  • মাংস পুরোপুরি সিদ্ধ বা ভালোভাবে রান্না করুন।
  • রান্না করা খাবারের সঙ্গে কাঁচা মাংসের সংস্পর্শ হতে দেবেন না।
  • রান্নাঘরের ছুরি, কাটিং বোর্ড ও অন্যান্য সরঞ্জাম ভালোভাবে পরিষ্কার করুন।

কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে?

ফুড পয়জনিং সবারই হতে পারে। তবে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং ডায়াবেটিস, ক্যানসার বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে জটিলতার ঝুঁকি বেশি।

মুরগির মাংস পুষ্টিকর এবং নিরাপদ খাবার হতে পারে, যদি এটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও রান্না করা হয়। আন্তর্জাতিক গবেষণায় ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কাঁচা মাংস নিরাপদভাবে ব্যবহার, ভালোভাবে রান্না করা এবং রান্নাঘরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলেই এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সূত্র: এই সময় অনলাইন, ফুড পয়সনিং