logo
Advertisement

ফুসফুসের ক্যানসার নিয়ে ১৩ ভুল ধারণা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ফুসফুসের ক্যানসার নিয়ে ১৩ ভুল ধারণা
ছবি: সামা নিউজ

ফুসফুসের ক্যানসার বলতেই অনেকের প্রথমে মনে আসে ধূমপানের কথা। আবার কেউ মনে করেন, ধূমপান না করলে এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা নেই। কারও ধারণা, শুধু দীর্ঘদিনের কাশি থাকলেই ফুসফুসের ক্যানসার হয়েছে বুঝতে হবে। আবার কেউ ভাবেন, একবার ধূমপান ছেড়ে দিলেই ক্যানসারের ঝুঁকি সঙ্গে সঙ্গে আগের মতো হয়ে যায়।

এ ধরনের নানা ধারণার কিছু সত্যের কাছাকাছি, আবার কিছু একেবারেই ভুল। ফুসফুসের ক্যানসার সম্পর্কে ভুল তথ্য কখনো অযথা ভয় তৈরি করতে পারে, আবার কখনো গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গকে অবহেলা করার কারণ হতে পারে।

ধূমপান ফুসফুসের ক্যানসারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণ হলেও এটিই একমাত্র কারণ নয়। ধূমপান না করা মানুষেরও এই ক্যানসার হতে পারে। দ্বিতীয় হাতের ধোঁয়া, বায়ুদূষণ, রেডন, অ্যাসবেস্টসসহ কর্মক্ষেত্রের কিছু ক্ষতিকর পদার্থ এবং পারিবারিক কিছু ঝুঁকিও ভূমিকা রাখতে পারে।

তাই ফুসফুসের ক্যানসার নিয়ে প্রচলিত ১৩টি ধারণার সত্যতা জেনে রাখা জরুরি।

১. শুধু ধূমপায়ীদেরই ফুসফুসের ক্যানসার হয়

এটি একটি ভুল ধারণা। ধূমপান ফুসফুসের ক্যানসারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। কিন্তু ধূমপান না করলেও এই রোগ হতে পারে।

রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (CDC)-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ফুসফুসের ক্যানসারের প্রায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ এমন মানুষের মধ্যে দেখা যায়, যারা কখনো ধূমপান করেননি বা জীবনে ১০০টির কম সিগারেট খেয়েছেন। দ্বিতীয় হাতের ধোঁয়া, রেডন, বায়ুদূষণ, অ্যাসবেস্টসসহ কিছু কর্মক্ষেত্রের রাসায়নিক এবং পারিবারিক জেনেটিক পরিবর্তন ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

অর্থাৎ ধূমপান না করার কারণে ঝুঁকি কমে, কিন্তু ঝুঁকি একেবারে শূন্য হয়ে যায় না।

২. ধূমপান করলেই ফুসফুসের ক্যানসার হবে

এটিও ভুল ধারণা। ধূমপান করলে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়, কিন্তু প্রত্যেক ধূমপায়ীর ফুসফুসের ক্যানসার হবে, এমন নয়।

তবে এই তথ্যকে ধূমপানের পক্ষে যুক্তি হিসেবে নেওয়া যাবে না। রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র বলছে, যারা ধূমপান করেন, তাদের ফুসফুসের ক্যানসার হওয়ার বা এই রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি অধূমপায়ীদের তুলনায় প্রায় ১৫ থেকে ৩০ গুণ বেশি হতে পারে। প্রতিদিন অল্প কয়েকটি সিগারেট বা মাঝে মধ্যে ধূমপান করলেও ঝুঁকি বাড়ে।

তাই ধূমপানের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত হলো ধূমপান পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া।

৩. ধূমপান ছেড়ে দিলে আর ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে না

এ ধারণাটিও ভুল। ধূমপান ছাড়ার পর ঝুঁকি কমতে থাকে, কিন্তু আগে কত বছর এবং কত পরিমাণ ধূমপান করা হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

দীর্ঘদিন ধূমপানের কারণে শরীরে যে ক্ষতি হয়েছে, তা সঙ্গে সঙ্গে পুরোপুরি চলে যায় না। তাই বহু বছর ধূমপান করার পর ছেড়ে দিলেও আগের ধূমপানের ইতিহাস চিকিৎসককে জানানো প্রয়োজন।

তবে ধূমপান ছাড়ার উপকার অবশ্যই রয়েছে। ধূমপান বন্ধ করা ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি।

৪. কাশি হলেই ফুসফুসের ক্যানসার

এটিও ভুল ধারণা। কাশি ফুসফুসের ক্যানসারের একটি সম্ভাব্য উপসর্গ হলেও বেশিরভাগ কাশির কারণ ক্যানসার নয়। সর্দি, অ্যালার্জি, হাঁপানি, সংক্রমণ বা ধূমপানের কারণেও দীর্ঘদিন কাশি হতে পারে।

তবে যে কাশি কমছে না বা আগের তুলনায় বাড়ছে, সেটি অবহেলা করা উচিত নয়। ফুসফুসের ক্যানসারে কাশির পাশাপাশি বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, শ্বাস নেওয়ার সময় শব্দ হওয়া, কাশির সঙ্গে রক্ত, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা অকারণে ওজন কমার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

৫. ফুসফুসের ক্যানসারের শুরুতেই লক্ষণ দেখা যায়

এমনটা সবসময় হয় নয়।

এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে ফুসফুসের ক্যানসার শুরুতে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ নাও থাকতে পারে। রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র বলছে, অনেক মানুষের ক্ষেত্রে রোগটি অগ্রসর হওয়ার আগে লক্ষণ দেখা যায় না।

এ কারণেই উচ্চ ঝুঁকির মানুষের জন্য নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্ক্রিনিং গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তবে উপসর্গ নেই মানেই ক্যানসার নেই, এমনও নয়। আবার উপসর্গ আছে মানেই ক্যানসার, সেটিও ঠিক নয়।

৬. বুকের এক্স-রে করলেই ফুসফুসের ক্যানসার ধরা পড়ে

এটি একটি ভুল ধারণা। বুকের এক্স-রে অনেক ফুসফুসের সমস্যা শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু ফুসফুসের ক্যানসারের স্ক্রিনিংয়ের জন্য সাধারণ বুকের এক্স-রে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি নয়।

NCI-এর তথ্য অনুযায়ী, বুকের এক্স-রে দিয়ে ফুসফুসের ক্যানসারের স্ক্রিনিং করলে মৃত্যুর ঝুঁকি কমানোর প্রমাণ পাওয়া যায়নি। উচ্চ ঝুঁকির মানুষের ক্ষেত্রে low-dose CT বা LDCT স্ক্যানই প্রমাণভিত্তিক স্ক্রিনিং পদ্ধতি।

তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শুধু বুকের এক্স-রে করিয়ে ফুসফুসের ক্যানসার নেই বলে নিশ্চিত হওয়া ঠিক নয়।

৭. সবার নিয়মিত ফুসফুসের ক্যানসার স্ক্রিনিং করা উচিত

এটিও ভুল ধারণা। ক্যানসার স্ক্রিনিং এবং উপসর্গের কারণে পরীক্ষা করা এক বিষয় নয়।

স্ক্রিনিং করা হয় এমন মানুষের ক্ষেত্রে, যাদের কোনো উপসর্গ নেই কিন্তু রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের USPSTF-এর সুপারিশ অনুযায়ী, ৫০ থেকে ৮০ বছর বয়সী, অন্তত ২০ প্যাক-ইয়ার ধূমপানের ইতিহাস রয়েছে এবং বর্তমানে ধূমপান করেন বা গত ১৫ বছরের মধ্যে ছেড়েছেন, এমন উচ্চ ঝুঁকির মানুষের জন্য বছরে একবার LDCT স্ক্রিনিং করা হয়।

অন্যদিকে যাদের কখনো ধূমপানের ইতিহাস নেই, তাদের জন্য নিয়মিত ফুসফুসের ক্যানসার স্ক্রিনিং সাধারণভাবে সুপারিশ করা হয় না।

তবে ব্যক্তিগত ঝুঁকি ভিন্ন হতে পারে। তাই বয়স, ধূমপানের ইতিহাস, পারিবারিক ইতিহাস ও অন্যান্য ঝুঁকি বিবেচনা করে চিকিৎসকের সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

৮. স্ক্রিনিংয়ের জন্য যেকোনো CT স্ক্যান করা যায়

এ ধারণাটিও ঠিক না। ফুসফুসের ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের জন্য সাধারণ CT নয়, নির্দিষ্ট low-dose CT ব্যবহার করা হয়।

LDCT-তে সাধারণত প্রচলিত CT-এর তুলনায় কম মাত্রার রেডিয়েশন ব্যবহার করা হয়। তবে এটিও সবার জন্য প্রয়োজনীয় নয়। অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিনিংয়ের ক্ষেত্রে false positive ফল, অতিরিক্ত পরীক্ষা এবং overdiagnosis-এর মতো সমস্যাও হতে পারে।

তাই শুধু ভয় থেকে নিজের ইচ্ছায় বারবার CT করানো উচিত নয়।

৯. ফুসফুসের ক্যানসার মানেই দ্রুত মৃত্যু

এটি একটি ভুল ধারণা। ফুসফুসের ক্যানসার অবশ্যই গুরুতর রোগ। কিন্তু রোগটি কোন ধরনের, কোন পর্যায়ে ধরা পড়েছে, কতটা ছড়িয়েছে এবং রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য কেমন, তার ওপর চিকিৎসা ও ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করে।

প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে চিকিৎসার সুযোগ বেশি থাকে। এ কারণেই উচ্চ ঝুঁকির মানুষের ক্ষেত্রে প্রমাণভিত্তিক স্ক্রিনিং এবং সন্দেহজনক উপসর্গ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যানসার ধরা পড়ার পর শুধু রোগের নাম শুনে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

১০. ফুসফুসের ক্যানসার হলে চিকিৎসার সুযোগ নেই

এ ধারণাও ভুল। ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসা রোগের ধরন ও পর্যায়ের ওপর নির্ভর করে। অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি এবং ইমিউনোথেরাপির মতো বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়।

কোন চিকিৎসা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করতে ক্যানসারের ধরন, স্টেজ এবং কিছু ক্ষেত্রে টিউমারের নির্দিষ্ট জেনেটিক বৈশিষ্ট্যও বিবেচনা করা হয়।

তাই ফুসফুসের ক্যানসার ধরা পড়লেই চিকিৎসা অসম্ভব, এমন ধারণা সঠিক নয়।

১১. ধূমপান না করলে ফুসফুসের ক্যানসার প্রতিরোধের আর কিছু করার নেই

এটি একটি ভুল ধারণা। ধূমপান না করা বা ধূমপান ছেড়ে দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি। কিন্তু আরও কিছু ঝুঁকি কমানো যায়।

দ্বিতীয় হাতের ধোঁয়া এড়িয়ে চলা, কর্মক্ষেত্রে অ্যাসবেস্টস বা অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থের সংস্পর্শে থাকলে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা এবং রেডনের ঝুঁকি থাকলে বাড়ি পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। বায়ুদূষণের সংস্পর্শও যতটা সম্ভব কমানো ভালো।

সব ঝুঁকি অবশ্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। যেমন পারিবারিক ইতিহাস বা কিছু জেনেটিক ঝুঁকি আমাদের হাতে থাকে না।

২. শুধু অনেক বছর ধূমপান করলেই ফুসফুসের ক্যানসার হয়

এমন ভুল ধারণা। ধূমপানের সময়কাল ও প্রতিদিন কতটা ধূমপান করা হয়, দুটিই ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু অল্প পরিমাণ ধূমপানকে নিরাপদ বলা যায় না।

CDC জানিয়েছে, প্রতিদিন অল্প কয়েকটি সিগারেট বা মাঝে মধ্যে ধূমপান করলেও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘদিন ও বেশি পরিমাণ ধূমপানে ঝুঁকি আরও বাড়ে।

তাই দিনে মাত্র কয়েকটি সিগারেট খাওয়াকে নিরাপদ অভ্যাস হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

১৩. ধূমপান না করলে ফুসফুসের ক্যানসার নিয়ে চিন্তার প্রয়োজন নেই

এটিও একটি ভুল ধারণা। ধূমপান না করা অবশ্যই বড় সুরক্ষা। কিন্তু ঝুঁকি পুরোপুরি শূন্য নয়।

যারা কখনো ধূমপান করেননি, তাদের মধ্যেও ফুসফুসের ক্যানসার হতে পারে। রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রেদর তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় হাতের ধোঁয়া, রেডন, বায়ুদূষণ, কর্মক্ষেত্রের কিছু ক্ষতিকর পদার্থ এবং পারিবারিক কারণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তাই দীর্ঘদিনের বা বাড়তে থাকা কাশি, কাশির সঙ্গে রক্ত, বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বারবার নিউমোনিয়া, অকারণে ওজন কমে যাওয়া বা অস্বাভাবিক ক্লান্তির মতো লক্ষণ থাকলে ধূমপান না করলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্যাক-ইয়ার কী?

ফুসফুসের ক্যানসারের স্ক্রিনিং নিয়ে কথা বললে প্রায়ই প্যাক-ইয়ার শব্দটি আসে। এটি একজন ব্যক্তি মোট কতটা সিগারেট ধূমপান করেছেন, তার একটি হিসাব।

এক প্যাক-ইয়ার বলতে প্রতিদিন গড়ে এক প্যাক সিগারেট এক বছর ধূমপান করাকে বোঝায়। যেমন, দিনে এক প্যাক করে ২০ বছর ধূমপান করলে ২০ প্যাক-ইয়ার। আবার দিনে দুই প্যাক করে ১০ বছর ধূমপান করলেও তা ২০ প্যাক-ইয়ার।

এই হিসাব চিকিৎসককে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি এবং স্ক্রিনিংয়ের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে সাহায্য করতে পারে।

কোন লক্ষণগুলো অবহেলা করবেন না?

ফুসফুসের ক্যানসারের অনেক উপসর্গ অন্য সাধারণ রোগেও দেখা যেতে পারে। তাই কোনো একটি লক্ষণ দেখেই ক্যানসার ধরে নেওয়া উচিত নয়। তবে নিচের পরিবর্তনগুলো দীর্ঘস্থায়ী হলে বা ক্রমশ বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি-

  • দীর্ঘদিনের বা বাড়তে থাকা কাশি
  • কাশির সঙ্গে রক্ত
  • বুকব্যথা
  • শ্বাসকষ্ট
  • শ্বাস নেওয়ার সময় ঘড়ঘড় বা শোঁ শোঁ শব্দ
  • অকারণে ওজন কমে যাওয়া
  • দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা বা ক্লান্তি
  • বারবার নিউমোনিয়া বা ফুসফুসের সংক্রমণ

এসব লক্ষণ থাকলেই যে ক্যানসার হয়েছে তা নয়। কিন্তু কারণটি খুঁজে বের করা জরুরি।

সবচেয়ে বড় সত্য কোনটি?

ফুসফুসের ক্যানসার নিয়ে যত মিথই থাকুক, একটি বিষয় পরিষ্কার। ধূমপান না করা এবং ধূমপান করলে তা ছেড়ে দেওয়া এই রোগের ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে দ্বিতীয় হাতের ধোঁয়া ও কর্মক্ষেত্রের ক্ষতিকর পদার্থের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ঝুঁকি মূল্যায়ন করাও জরুরি।

আর কোনো উপসর্গ দেখা দিলে শুধু ধূমপানের ইতিহাস আছে কি না, সেটির ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ফুসফুসের ক্যানসার নিয়ে ভয় পাওয়ার মতো অনেক তথ্য যেমন ছড়িয়ে আছে, তেমনই অতিরিক্ত আশ্বস্ত করার মতো ভুল ধারণাও রয়েছে। ধূমপান এই রোগের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণ হলেও অধূমপায়ীদের ঝুঁকি একেবারে শূন্য নয়। আবার কাশি হলেই ক্যানসার হয় না, আর ক্যানসার ধরা পড়লেই চিকিৎসার সুযোগ শেষ হয়ে যায় না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা, ধূমপান এড়িয়ে চলা, ক্ষতিকর ধোঁয়া ও রাসায়নিকের সংস্পর্শ কমানো এবং সন্দেহজনক উপসর্গ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। উচ্চ ঝুঁকির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে LDCT স্ক্রিনিং প্রয়োজন কি না, সেটিও ঠিক করা উচিত।

সূত্র: সামা নিউজ