logo
Advertisement

এই ৮ ধরনের মানুষের কফি খাওয়ার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এই ৮ ধরনের মানুষের কফি খাওয়ার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি
ছবি: এ প্লাস

সকালের ঘুমঘুম ভাব কাটাতে এক কাপ কফি অনেকেরই নিত্যদিনের সঙ্গী। কাজের ফাঁকে ক্লান্তি কমাতেও অনেকে কফির ওপর নির্ভর করেন। পরিমিত কফি বেশির ভাগ সুস্থ মানুষের জন্য সাধারণত সমস্যা তৈরি করে না। তবে সবার শরীরে ক্যাফেইনের প্রভাব এক রকম নয়। কারও ক্ষেত্রে কফি খেলে বুক ধড়ফড়, অস্থিরতা, ঘুমের সমস্যা বা অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা বাড়তে পারে।

বিশেষ কিছু শারীরিক অবস্থা থাকলে কফি পান করার পরিমাণ কমানো, নির্দিষ্ট সময়ে পান করা বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে এমন আট ধরনের মানুষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে এই আট শ্রেণির সবাইকে আজীবন কফি পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। ব্যক্তিভেদে ক্যাফেইনের সহনশীলতা ও শারীরিক অবস্থা আলাদা।

যারা ক্যাফেইনে বেশি সংবেদনশীল

কিছু মানুষের শরীর অল্প পরিমাণ ক্যাফেইনেও বেশি প্রতিক্রিয়া দেখায়। এক কাপ কফি পান করার পরই যদি বুক ধড়ফড়, হাত কাঁপা, অস্থিরতা, উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা বা পেটের অস্বস্তি শুরু হয়, তাহলে ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতা থাকতে পারে।

এ ধরনের মানুষের ক্ষেত্রে কফির পরিমাণ কমিয়ে দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি চা, চকোলেট, কোমল পানীয় এবং ক্যাফেইনযুক্ত কিছু ওষুধ থেকেও ক্যাফেইন শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই দিনে মোট কতটা ক্যাফেইন গ্রহণ করছেন, সেটিও বিবেচনা করা জরুরি।

গর্ভাবস্থায় যারা বেশি কফি পান করেন

গর্ভাবস্থায় কফি পুরোপুরি নিষিদ্ধ, এমন নয়। তবে ক্যাফেইনের পরিমাণ সীমিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টসের পরামর্শ অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় দিনে ২০০ মিলিগ্রামের কম ক্যাফেইন গ্রহণকে সাধারণত পরিমিত মাত্রা হিসেবে ধরা হয়।

এখানে শুধু কফির কথা ভাবলে হবে না। চা, চকোলেট, কোমল পানীয় এবং কিছু ওষুধ থেকেও ক্যাফেইন পাওয়া যায়। তাই দিনের মোট ক্যাফেইন গ্রহণ হিসাব করা দরকার।

হৃদ্‌রোগ বা হৃদস্পন্দনের সমস্যা রয়েছে যাদের

ক্যাফেইন সাময়িকভাবে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়াতে পারে। তাই যাদের হৃদ্‌রোগ, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন বা উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা রয়েছে, তারা কফি পান করার পর কোনো অস্বস্তি হচ্ছে কি না, সেদিকে নজর দিতে পারেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এই শ্রেণির মানুষকে বিশেষ সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।

তবে হৃদ্‌রোগ আছে মানেই প্রত্যেককে কফি একেবারে বন্ধ করতে হবে, এমন সিদ্ধান্ত নিজে থেকে নেওয়া ঠিক নয়। নিয়মিত কফি পান করেন এবং হৃদ্‌রোগের চিকিৎসা চলছে, এমন হলে চিকিৎসকের সঙ্গে নিজের ক্যাফেইন গ্রহণ নিয়ে আলোচনা করা ভালো।

অ্যাসিডিটি বা অম্লতা এবং জিইআরডি রয়েছে যাদের

কফি অনেকের অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বুকজ্বালার সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। জাতীয় ডায়াবেটিস, পরিপাক ও কিডনি রোগবিষয়ক ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, কফি ও অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় কিছু মানুষের জিইআরডির উপসর্গ বাড়াতে পারে।

কফি খাওয়ার পর যদি নিয়মিত বুকজ্বালা, টক ঢেঁকুর বা মুখে পাকস্থলীর খাবার উঠে আসার মতো সমস্যা হয়, তাহলে কফি আপনার উপসর্গের একটি কারণ কি না, তা খেয়াল করা দরকার। উপসর্গ বারবার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষ করে খালি পেটে কফি পান করলে কারও কারও অস্বস্তি বাড়তে পারে। তাই নিজের শরীরে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হচ্ছে, সেটি বুঝে কফির পরিমাণ ও সময় পরিবর্তন করা যেতে পারে।

শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা

ক্যাফেইন শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ঘুম, উদ্বেগ এবং হৃদস্পন্দনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। মূল প্রতিবেদনে শিশুদের ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা এবং কিশোরদের গ্রহণ সীমিত রাখার কথা বলা হয়েছে।

শিশুদের ক্ষেত্রে কফি শুধু ক্যাফেইনের কারণে নয়, অতিরিক্ত চিনি ও ক্রিমের কারণেও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হয়ে উঠতে পারে। তাই ছোটদের নিয়মিত কফি পান করানোর অভ্যাস না করাই ভালো।

যারা উদ্বেগ বা অস্থিরতায় ভোগেন

ক্যাফেইন স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। ফলে যাদের ক্যাফেইনে সংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বেশি কফি পান করলে অস্থিরতা, বুক ধড়ফড়, নার্ভাস লাগা বা উদ্বেগের অনুভূতি বাড়তে পারে।

উদ্বেগের সঙ্গে ঘুমের সমস্যাও থাকলে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কফির কারণে ঘুম কমে গেলে পরদিন ক্লান্তি ও অস্থিরতা বাড়তে পারে। ফলে একটি চক্র তৈরি হতে পারে যেখানে কম ঘুম ও বেশি ক্যাফেইন একে অপরকে আরও খারাপ করে।

যাদের ঘুমের সমস্যা বা অনিদ্রা রয়েছে

বিকেল বা সন্ধ্যার পর এক কাপ কফি খেলেও কারও ঘুমে সমস্যা হতে পারে। ক্যাফেইনের প্রভাব ব্যক্তিভেদে আলাদা হলেও এটি ঘুম আসতে দেরি করাতে বা ঘুমের মান খারাপ করতে পারে। গর্ভাবস্থায়ও ক্যাফেইন ঘুমের সমস্যা বাড়াতে পারে বলে আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টস উল্লেখ করেছে।

যাদের আগে থেকেই অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে বিকেল ও সন্ধ্যার কফি এড়িয়ে চলা উপকারী হতে পারে।

হাড়ের ঘনত্ব নিয়ে সমস্যা রয়েছে যাদের

মূল প্রতিবেদনে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন এমন মানুষদেরও কফি গ্রহণে সতর্ক হওয়ার কথা বলা হয়েছে। অতিরিক্ত কফি পান এবং খাবারে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি থাকলে হাড়ের স্বাস্থ্যের বিষয়ে বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন।

তবে শুধু কফি খেলেই হাড় দুর্বল হয়ে যাবে, এমন সরল সিদ্ধান্ত ঠিক নয়। মোট খাদ্যাভ্যাস, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ, বয়স, শারীরিক কার্যকলাপ এবং অন্যান্য ঝুঁকিও বিবেচনা করতে হয়।

কফি খেলেই কি সবার জন্য ক্ষতি?

না। কফি সবার জন্য ক্ষতিকর, এমন দাবি করার মতো তথ্য নেই। বরং মূল বিষয় হলো কতটা কফি পান করছেন এবং আপনার শরীর সেটি কীভাবে গ্রহণ করছে।

কেউ কফি পান করে কোনো সমস্যা অনুভব করেন না, আবার কারও ক্ষেত্রে অল্প পরিমাণেই ঘুমের সমস্যা বা বুকজ্বালা হতে পারে। তাই অন্য একজন দিনে কয়েক কাপ কফি পান করছেন দেখে নিজের ক্ষেত্রেও একই পরিমাণ নিরাপদ ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

বিশেষ করে গর্ভাবস্থা, হৃদ্‌রোগ, জিইআরডি, উদ্বেগ বা অনিদ্রার মতো নির্দিষ্ট সমস্যা থাকলে ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


কফির পাশাপাশি মোট ক্যাফেইনও হিসাব করুন

দিনে কত কাপ কফি পান করছেন, শুধু সেটি হিসাব করলেই হবে না। চা, চকোলেট, কোমল পানীয়, শক্তিবর্ধক পানীয় এবং কিছু ওষুধেও ক্যাফেইন থাকতে পারে। ফলে বিভিন্ন উৎস মিলিয়ে মোট ক্যাফেইন গ্রহণ প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়ে যেতে পারে। গর্ভাবস্থায় এ বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তাই কফি খাওয়ার পর যদি নিয়মিত অস্বস্তি হয়, প্রথমে কফির পরিমাণ কমিয়ে শরীরের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যেতে পারে। উপসর্গ তীব্র হলে বা বারবার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া