নীরবে শরীরে ছড়াচ্ছে ক্যানসার, সকালে এই একটি লক্ষণে সতর্ক হোন

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর হালকা কাশি হওয়া অনেকের কাছেই স্বাভাবিক মনে হতে পারে। ঠান্ডা, অ্যালার্জি, ধূমপান, নাক দিয়ে সর্দি গলায় পড়া কিংবা ঘরের শুষ্ক বাতাসের কারণেও এমন হতে পারে। তবে কাশি যদি নিয়মিত হতে থাকে এবং কয়েক সপ্তাহ ধরে না কমে, তখন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
ভারতের একটি দৈনিক সংবাদপত্র ও ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর দীর্ঘস্থায়ী কাশিকে ক্যানসারের সম্ভাব্য সতর্কসংকেত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের কাশি পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু সকালে কাশি হলেই ক্যানসার হয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
কেন সকালে কাশি হতে পারে? রাতে ঘুমানোর সময় শ্বাসনালিতে জমে থাকা শ্লেষ্মা বা মিউকাস সকালে উঠে কাশির কারণ হতে পারে। ধূমপানকারীদের ক্ষেত্রেও সকালে কাশি বেশি দেখা যায়। এছাড়া অ্যাজমা, অ্যালার্জি, অ্যাসিড রিফ্লাক্স, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসনালির সংক্রমণসহ বিভিন্ন সমস্যায় কাশি হতে পারে।
তাই শুধু কাশির সময় দেখে রোগ নির্ণয় করা যায় না।
কখন কাশি নিয়ে সতর্ক হবেন?
কাশি যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকে বা ক্রমে বাড়তে থাকে, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে কাশির সঙ্গে অন্য কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়।
যেমন - কাশির সঙ্গে রক্ত আসা, বুক ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘদিন গলা বসে থাকা বা স্বরের পরিবর্তন, বারবার শ্বাসনালির সংক্রমণ, অতিরিক্ত ক্লান্তি ও/বা/এবং দীর্ঘস্থায়ী জ্বর।
জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা স্বর বসে যাওয়ার মতো উপসর্গ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে। তবে এসব উপসর্গের পেছনে ক্যানসার ছাড়াও অনেক সাধারণ কারণ থাকতে পারে।
ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি
দীর্ঘদিন ধূমপান করলে ফুসফুস ও শ্বাসনালির নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই কোনো ধূমপায়ীর যদি নতুন ধরনের কাশি শুরু হয় বা পুরোনো কাশি বদলে যায়, সেটি পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞের বরাতে জানানো হয়েছে, দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাশি থাকলে বিশেষ করে ধূমপায়ীদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সকালে মাথাব্যথাও কি ক্যানসারের লক্ষণ?
কিছু ক্ষেত্রে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথাব্যথা মস্তিষ্কের টিউমারের একটি উপসর্গ হতে পারে। জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউট মস্তিষ্কের টিউমারের সম্ভাব্য লক্ষণের মধ্যে সকালের মাথাব্যথা, বমি, খিঁচুনি, দৃষ্টির সমস্যা, ভারসাম্যহীনতা এবং আচরণ বা মনোযোগের পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছে।
তবে সাধারণ মাথাব্যথার তুলনায় মস্তিষ্কের টিউমারের কারণে হওয়া মাথাব্যথা সাধারণত অন্যান্য উপসর্গের সঙ্গেও দেখা দিতে পারে। তাই শুধু সকালে মাথাব্যথা হলেই ব্রেন টিউমার হয়েছে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
কাশি বা অন্য কোনো উপসর্গ কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। আর কাশির সঙ্গে রক্ত, শ্বাসকষ্ট বা বুকের ব্যথা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
একইভাবে নতুন ধরনের বা ক্রমে বাড়তে থাকা মাথাব্যথার সঙ্গে বমি, দৃষ্টির সমস্যা, খিঁচুনি, দুর্বলতা, কথা বলতে সমস্যা বা আচরণে পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।
ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে কী করবেন?
ক্যানসারের সব কারণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তবে কিছু অভ্যাস ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। যেমন-
- ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য এড়িয়ে চলুন
- অ্যালকোহল গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন বা কমান
- স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার খান
- নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
- প্রয়োজনীয় টিকা নিন
- অতিরিক্ত সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন
সকালে ঘুম থেকে উঠে কাশি হওয়া খুব সাধারণ একটি সমস্যা এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এর কারণ ক্যানসার নয়। কিন্তু কাশি যদি দীর্ঘদিন থাকে, বাড়তে থাকে বা রক্ত, বুক ব্যথা, শ্বাসকষ্ট কিংবা অকারণে ওজন কমার মতো লক্ষণের সঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। উপসর্গকে ভয় পাওয়ার চেয়ে এর কারণ খুঁজে বের করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র:টাইমস অব ইন্ডিয়া
.png)


