মস্তিষ্কের ১০ শতাংশ ব্যবহারের দাবি কতটা সত্য, জানুন বিজ্ঞান কী বলে

মানুষ তার মস্তিষ্কের মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহার করে, বাকি ৯০ শতাংশ নাকি প্রায় নিষ্ক্রিয় পড়ে থাকে। কথাটি এতবার শোনা হয়েছে যে অনেকের কাছে এটি বৈজ্ঞানিক সত্য বলেই মনে হয়। সিনেমা, বই, মোটিভেশনাল বক্তব্য থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নানা পোস্টেও এই দাবির দেখা মেলে।
এই ধারণার সঙ্গে আরও একটি আকর্ষণীয় গল্প জুড়ে দেওয়া হয়। বলা হয়, মানুষের মস্তিষ্কের বাকি ৯০ শতাংশ কোনোভাবে সক্রিয় করা গেলে স্মৃতি, বুদ্ধি, সৃজনশীলতা কিংবা মানসিক ক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে।
শুনতে চমৎকার হলেও বিজ্ঞানের সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।
আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান বলছে, মানুষ মস্তিষ্কের মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহার করে না। বরং মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকে। সব অংশ একই মুহূর্তে সমান মাত্রায় সক্রিয় থাকে না, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে বাকি অংশ পড়ে আছে বা কোনো কাজ করে না। মস্তিষ্কের কার্যকলাপ নিয়ে নিউরোইমেজিং গবেষণাও এই ১০ শতাংশের ধারণাকে সমর্থন করে না।
১০ শতাংশের গল্পটি এল কোথা থেকে?
এই ধারণার সুনির্দিষ্ট উৎস নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে পুরোপুরি নিশ্চিত মত নেই। তবে বহু বছর ধরে বিভিন্ন ভুল ব্যাখ্যা, জনপ্রিয় বই এবং আত্মউন্নয়নমূলক লেখার মাধ্যমে ধারণাটি ছড়িয়ে পড়ে।
একটি প্রচলিত ব্যাখ্যায় বলা হয়, বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণা যখন আজকের মতো উন্নত ছিল না, তখন বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্কের সব অংশের কাজ সম্পর্কে জানতেন না। কিছু অংশের নির্দিষ্ট কাজ শনাক্ত করা কঠিন ছিল। সেখান থেকে মস্তিষ্কের কিছু অংশ হয়তো ব্যবহার করা হয় না, এমন ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।
উইলিয়াম জেমসের নামও এই মিথের সঙ্গে প্রায়ই জড়ানো হয়। তিনি মানুষের মানসিক সক্ষমতার একটি বড় অংশ অব্যবহৃত থাকার কথা বলেছিলেন বলে বিভিন্ন লেখায় দাবি করা হয়েছে। কিন্তু ১০ শতাংশ সংখ্যাটি তার কোনো লেখায় পাওয়া যায়নি। Nature Neuroscience-এর একটি আলোচনাতেও বলা হয়েছে, ১০ শতাংশ দাবিটির নির্দিষ্ট উৎস নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করা কঠিন।
পরে আত্মউন্নয়নমূলক বই ও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে এই ধারণা আরও ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত ডেল কার্নেগির বিখ্যাত বই How to Win Friends and Influence People-এর ভূমিকায় উইলিয়াম জেমসের নামে মানুষের মানসিক ক্ষমতার একটি ছোট অংশ ব্যবহারের মতো একটি বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছিল। সেখান থেকেও ১০ শতাংশের ধারণা জনপ্রিয় হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা থাকতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করেন।
তবে কোনো মানুষের মস্তিষ্কের ঠিক ১০ শতাংশ সক্রিয় এবং ৯০ শতাংশ নিষ্ক্রিয়, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ কখনো পাওয়া যায়নি।
তাহলে কি আমরা মস্তিষ্কের ১০০ শতাংশ ব্যবহার করি?
এখানে একটু সূক্ষ্ম বিষয় রয়েছে।
মস্তিষ্কের ১০০ শতাংশ অংশ একই সময়ে একই মাত্রায় সক্রিয় থাকে না। আপনি যখন হাঁটছেন, তখন মস্তিষ্কের কিছু নেটওয়ার্ক তুলনামূলক বেশি সক্রিয় থাকে। বই পড়ার সময় অন্য নেটওয়ার্কগুলো বেশি কাজ করে। আবার কথা বলা, স্মৃতি মনে করা, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া বা গান শোনার সময় মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সমন্বয় তৈরি হয়।
অর্থাৎ মস্তিষ্ক কোনো বৈদ্যুতিক বোর্ডের মতো নয়, যেখানে একসঙ্গে সব সুইচ অন করতে হবে।
BrainFacts-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মানুষ পুরো মস্তিষ্কই ব্যবহার করে, তবে সব অংশ একই সময়ে সক্রিয় থাকে না। কোন অংশ কতটা সক্রিয় হবে, তা নির্ভর করে ব্যক্তি কী কাজ করছেন এবং সেই মুহূর্তে মস্তিষ্কের কী প্রয়োজন তার ওপর।
মস্তিষ্কের কোন অংশ কী কাজ করে?
মস্তিষ্ক একটি বিশাল ও জটিল নেটওয়ার্ক। এর বিভিন্ন অঞ্চল এবং তাদের মধ্যে থাকা সংযোগগুলো শরীর ও মনের নানা কাজ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
চলাফেরা, স্পর্শ অনুভব, দৃষ্টি, শ্রবণ, ভাষা, স্মৃতি, আবেগ, মনোযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং পরিকল্পনার মতো কাজের সঙ্গে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চল ও নেটওয়ার্ক যুক্ত।
এর পাশাপাশি এমন কিছু অংশ রয়েছে, যেগুলো শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদ্স্পন্দন, ঘুম ও জাগরণসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ স্বয়ংক্রিয় কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তাই মস্তিষ্কের ৯০ শতাংশ বাদ দিয়ে একজন মানুষ স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে পারবেন, এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।
মস্তিষ্কের স্ক্যান কী বলছে?
১০ শতাংশের মিথকে ভুল প্রমাণ করার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণগুলোর একটি এসেছে আধুনিক নিউরোইমেজিং প্রযুক্তি থেকে।
fMRI বা functional magnetic resonance imaging-এর মতো প্রযুক্তির মাধ্যমে গবেষকেরা মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। এসব গবেষণায় দেখা যায়, নির্দিষ্ট কোনো কাজ করার সময় মস্তিষ্কের একাধিক অঞ্চল সক্রিয় হয়।
কোনো একটি কাজের সময় মস্তিষ্কের সব অংশ সমানভাবে সক্রিয় না হলেও এর অর্থ এই নয় যে বাকি অংশ নিষ্ক্রিয়। বরং মস্তিষ্কের কার্যকলাপ কাজ, পরিস্থিতি এবং সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়।
এমনকি ঘুমের সময়ও মস্তিষ্ক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় না। ঘুমের বিভিন্ন পর্যায়ে মস্তিষ্কে নানা ধরনের কার্যকলাপ চলতে থাকে। Times of India-এর প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বিশেষজ্ঞও উল্লেখ করেছেন, ঘুম মস্তিষ্কের সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় অবস্থার নাম নয়।
তাহলে fMRI-তে কোনো অংশ কম সক্রিয় দেখা গেলে?
এখানেও একটি ভুল বোঝাবুঝি আছে।
মস্তিষ্কের কোনো অংশের কার্যকলাপ কোনো নির্দিষ্ট মুহূর্তে কম দেখা গেলেই সেটি অকেজো বা অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায় না।
মস্তিষ্কের কাজ অনেকটা একটি অর্কেস্ট্রার মতো। সব বাদ্যযন্ত্র একই সময়ে একই জোরে বাজে না। কোনো অংশ সামনে আসে, অন্য অংশ তখন অপেক্ষাকৃত কম সক্রিয় থাকে। কিন্তু পুরো সংগীত তৈরিতে তাদের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।
Harvard Health-এর ব্যাখ্যাতেও বলা হয়েছে, MRI ও PET-এর মতো মস্তিষ্কের স্ক্যান থেকে দেখা যায় যে মানুষ নিয়মিতভাবে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করে। কোনো নির্দিষ্ট মুহূর্তে কিছু অংশ বেশি সক্রিয় হতে পারে, কিন্তু মস্তিষ্কের এমন কোনো অংশ জানা নেই যেটিকে পুরোপুরি অপ্রয়োজনীয় বা সব সময় অব্যবহৃত বলা যায়।
মস্তিষ্কের ৯০ শতাংশ খুলে ফেললেও কি মানুষ স্বাভাবিক থাকবে?
এই প্রশ্নের উত্তর খুব সহজ। না।
মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের ক্ষতি হলে তার ওপর নির্ভর করে মানুষের চলাফেরা, কথা বলা, স্মৃতি, দৃষ্টি, অনুভূতি বা অন্যান্য সক্ষমতায় সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অবশ্য মস্তিষ্কের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো neuroplasticity বা স্নায়বিক অভিযোজন ক্ষমতা। কিছু ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের কাজ অন্য নেটওয়ার্ক আংশিকভাবে সামলে নিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই অভিযোজন ক্ষমতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
কিন্তু মস্তিষ্কের এই অসাধারণ অভিযোজন ক্ষমতাকে ৯০ শতাংশ মস্তিষ্ক অব্যবহৃত থাকার প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না।
বরং এটি দেখায়, মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সংযোগ কতটা জটিল এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেই নেটওয়ার্ক কীভাবে নিজেদের কাজের ধরন বদলাতে পারে।
সিনেমায় কেন এই ধারণা এত জনপ্রিয়?
বিজ্ঞান ভুল হলেও গল্প হিসেবে ১০ শতাংশের ধারণাটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
ভাবুন, আপনার মাথার ভেতর এমন একটি বিশাল ক্ষমতা লুকিয়ে আছে, যার মাত্র ১০ শতাংশ আপনি ব্যবহার করছেন। বাকি ৯০ শতাংশ যদি কোনোভাবে খুলে ফেলা যায়, তাহলে আপনি হয়তো অসাধারণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী হবেন, মুহূর্তে হাজার তথ্য মনে রাখতে পারবেন কিংবা অসম্ভব কিছু করতে পারবেন।
এই কল্পনাই Hollywood-এর জন্য দারুণ উপাদান।
Lucy-এর মতো সিনেমায় এই ধারণাকে কেন্দ্র করে মানুষের মস্তিষ্কের তথাকথিত সুপ্ত ক্ষমতা নিয়ে গল্প তৈরি হয়েছে। Limitless-এর মতো কাজেও মানুষের মানসিক ক্ষমতা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যাওয়ার ধারণা দেখা যায়। কিন্তু এগুলো বিনোদনের গল্প, বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা নয়। BrainFacts-ও ১০ শতাংশের ধারণাকে স্পষ্টভাবে একটি মিথ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
তাহলে কি মানুষের মস্তিষ্কের কোনো সুপ্ত ক্ষমতা নেই?
এখানেই বিষয়টি সবচেয়ে আকর্ষণীয়।
১০ শতাংশের মিথ ভুল হলেও এর পেছনে যে ধারণাটি মানুষকে আকৃষ্ট করে, সেটির একটি বাস্তব ভিত্তি আছে। মানুষ নিজের মস্তিষ্কের সব সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারে কি না, সেটি একটি আলাদা প্রশ্ন।
মানুষ নতুন ভাষা শিখতে পারে, নতুন দক্ষতা অর্জন করতে পারে, স্মৃতির কৌশল উন্নত করতে পারে, নতুন অভ্যাস তৈরি করতে পারে। শেখার মাধ্যমে মস্তিষ্কের কিছু স্নায়বিক সংযোগ শক্তিশালী বা পুনর্গঠিত হতে পারে।
কিন্তু এসবের জন্য কোনো লুকানো ৯০ শতাংশ মস্তিষ্ককে চালু করার প্রয়োজন নেই।
বরং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ভালো রাখতে ঘুম, শারীরিক সক্রিয়তা, পুষ্টিকর খাবার, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক যোগাযোগ এবং নিয়মিত শেখার মতো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। Times of India-এর প্রতিবেদনে নিউরোলজিস্ট ডা. পঙ্কজ আগরওয়ালও মস্তিষ্কের সুস্থতার ক্ষেত্রে এসব দৈনন্দিন অভ্যাসের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
মস্তিষ্ক ভালো রাখতে কী করা যায়?
মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ধরে রাখার জন্য কোনো রহস্যময় পদ্ধতির প্রয়োজন নেই। বরং সাধারণ কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই গুরুত্বপূর্ণ।
পর্যাপ্ত ঘুম: ঘুমের সময় মস্তিষ্ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকে। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম মনোযোগ, শেখা ও স্মৃতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়মিত শরীরচর্চা: শারীরিক সক্রিয়তা শুধু হৃদ্যন্ত্র ও পেশির জন্য নয়, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।
পুষ্টিকর খাবার: সুষম খাবার মস্তিষ্কসহ পুরো শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ঘুম, মনোযোগ ও সামগ্রিক সুস্থতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই চাপ সামলানোর স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি তৈরি করা জরুরি।
নতুন কিছু শেখা: নতুন ভাষা, বাদ্যযন্ত্র, কোনো দক্ষতা বা নতুন বিষয় শেখা মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখার একটি স্বাভাবিক উপায়। এর অর্থ অবশ্য এই নয় যে মস্তিষ্কের নতুন কোনো অংশ হঠাৎ করে চালু হয়ে যাচ্ছে।
সবচেয়ে বড় ভুলটি কোথায়?
১০ শতাংশের মিথের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এটি মানুষের মস্তিষ্ক সম্পর্কে একটি ভুল ধারণা তৈরি করে।
মস্তিষ্ককে এমন একটি যন্ত্র হিসেবে দেখানো হয়, যার অধিকাংশ ক্ষমতা রহস্যজনকভাবে বন্ধ হয়ে আছে। অথচ বাস্তবে মস্তিষ্কের কার্যক্রম অনেক বেশি জটিল। একই কাজের সঙ্গে একাধিক অঞ্চল যুক্ত হতে পারে, আবার একই অঞ্চল একাধিক কাজেও ভূমিকা রাখতে পারে।
তাই মস্তিষ্কের ক্ষমতাকে একটি নির্দিষ্ট শতাংশ দিয়ে প্রকাশ করার ধারণাটিই বৈজ্ঞানিকভাবে দুর্বল।
মিথ থেকে সত্য
মানুষ তার মস্তিষ্কের মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহার করে, এই কথাটি সত্য নয়। আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান, নিউরোইমেজিং এবং মস্তিষ্কের কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিনের গবেষণা এই ধারণাকে সমর্থন করে না।
তবে এর অর্থ এই নয় যে মানুষ নিজের শেখার ক্ষমতা বা মানসিক দক্ষতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে সব সময় থাকে। মানুষ প্রশিক্ষণ, অভ্যাস, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে অনেক দক্ষতা উন্নত করতে পারে।
পার্থক্যটা হলো, এর জন্য মস্তিষ্কের কোনো গোপন ৯০ শতাংশকে জাগিয়ে তুলতে হবে না।
আসলে রহস্যটা আরও চমৎকার। আমরা মস্তিষ্কের প্রতিটি অংশ কীভাবে একে অপরের সঙ্গে কাজ করে, কীভাবে স্মৃতি তৈরি হয়, কীভাবে শেখার সঙ্গে স্নায়বিক সংযোগ বদলায়, কিংবা ঘুমের সময় মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে, সেসবের অনেক কিছুই এখনও গবেষণার বিষয়।
অর্থাৎ মানুষের মস্তিষ্কের রহস্য হয়তো ৯০ শতাংশ অব্যবহৃত অংশে লুকিয়ে নেই। রহস্য লুকিয়ে আছে সেই মস্তিষ্কের অসাধারণ জটিলতার মধ্যেই।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


-b910e4.jpg)