logo

নারীদের নীরব ঘাতক ওভারিয়ান ক্যানসার, সতর্কতামূলক পরামর্শ ডা. নুসরাতের

নারীদের নীরব ঘাতক ওভারিয়ান ক্যানসার, সতর্কতামূলক পরামর্শ ডা. নুসরাতের
অধ্যাপক ডা. নুসরাত হক ও ওভারিয়ান ক্যানসারের গ্রাফিকস। ছবি: কোলাজ

ক্যানসার একটি মরণব্যাধি রোগ। এটি নিয়ে জানা-অজানার শেষ নেই। রোগটির বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। প্রতিটিই ভিন্ন রকম। এরমধ্যে একটি ‘ওভারিয়ান ক্যানসার’। সাধারণত এটি নারীদের হয়ে থাকে। বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে এটি নারীদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। নির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ না থাকায় একে ‘সাইলেন্ট কিলার’ বা ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। এ ক্যানসারের উপসর্গ নিয়ে নারীদের সতর্কতামূলক পরামর্শ দিয়েছেন গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের ক্যানসার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নুসরাত হক।

সম্প্রতি এশিয়া পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নুসরাত হক বলেন, “নারীদের ডিম্বাশয় থেকে উৎপন্ন অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধির মাধ্যমে যে টিউমার বা ম্যালিগনেন্সি তৈরি হয়, তাকে সাধারণত ‘ওভারিয়ান ক্যানসার’ বলা হয়। এটা কিছুটা স্বাভাবিক তলপেটে ব্যথা, অস্বাভাবিক পেট ফোলা, ক্ষুধামন্দা ভাব কিংবা অল্প খাবারে পেট ভরে যাওয়া বা গ্যাসট্রিকের ব্যথার সঙ্গে মিল থাকে। যে কারণে এ লক্ষণগুলো খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করা যায় না। ফলে বেশিরভাগ মহিলাই দেরিতে ডাক্তারের যান।”

তিনি বলেন, ‘৫০-৭০ বছর বয়সিদের এ ক্যানসার হয়ে থাকে। এ ছাড়া কম বয়সীদেরও হতে পারে। প্রতিটা নারীর শরীরে যখন কোনো লক্ষণ বা পরিবর্তন আসে, তখন দ্রুত পরিবারের অন্যদের সঙ্গে কথা বলা বা ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কোনো রোগ শুরুর দিকে যদি শনাক্ত করা সম্ভব হয়, তাহলে সে বিষয়ে সহজে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব। ওভারিয়ান ক্যানসারের ক্ষেত্রেও একই পরামর্শ।’

আরও কিছু লক্ষণের কথা জানিয়ে নুসরাত হক বলেন, ‘এ রোগ হলে, মাঝে মাঝে রক্তপাত হতে পারে। এটি যখন আরও বৃদ্ধি পায়, তখন পেট ফোলা বা পেটে পানি আসা এবং প্রস্রাব ও পায়খানাতে সমস্যা হওয়া এ জাতীয় সমস্যা নিয়েও অনেকে উপস্থিত হতে পারে। সর্বোপরি কোনো লক্ষণ ছাড়াও এ রোগটি হতে পারে। শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা ভাব নিয়ে ডিম্বাশয় ক্যানসারটি প্রকাশিত হতে পারে।’

রোগটির নিরাময় সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ওভারিয়ান ক্যানসার যখন তৃতীয় বা চতুর্থ স্টেজে বৃদ্ধি পায়, তখন এর লক্ষণ প্রকাশ পায়। তাই প্রতিটি নারীর কাছে আমার অনুরোধ, আপনি যখনই নিজের শরীরের কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন, তখনই পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলুন। প্রয়োজনে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। তাহলে এ রোগটি নির্ণয় ও চিকিৎসা করা সহজ হবে। তবে, রোগটি দ্বিতীয় বা তৃতীয় ধাপে চলে এলেও বাংলাদেশে এর চিকিৎসা সম্ভব।’