logo

আপেলের বীজ কি চিবিয়ে খেলে বিপদ হতে পারে, জানুন কতটা ঝুঁকি

আপেলের বীজ কি চিবিয়ে খেলে বিপদ হতে পারে, জানুন কতটা ঝুঁকি
ছবি: টিভি ৯

আপেল স্বাস্থ্যকর ফল হিসেবে পরিচিত। খোসাসহ আপেল খেলে এতে থাকা আঁশসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। কিন্তু আপেল খাওয়ার সময় এর বীজ নিয়ে অনেকের মনে ভয় থাকে। কারণ আপেলের বীজে এমন একটি প্রাকৃতিক যৌগ রয়েছে, যা শরীরে ভেঙে সায়ানাইড তৈরি করতে পারে।

তাহলে কি ভুল করে একটি বা দুটি আপেলের বীজ গিলে ফেললেই বিষক্রিয়া হবে? বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। অল্প কয়েকটি বীজ ভুল করে গিলে ফেললে সাধারণত আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে বীজ চিবিয়ে বা ভেঙে অনেকগুলো খেলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

আপেলের বীজে কী থাকে?

আপেলের বীজে অ্যামিগডালিন নামের একটি প্রাকৃতিক যৌগ থাকে। শরীরের পরিপাকতন্ত্রে এই যৌগ ভেঙে সায়ানাইড তৈরি করতে পারে। সায়ানাইড এমন একটি বিষাক্ত পদার্থ, যা শরীরের কোষের অক্সিজেন ব্যবহারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাধা দিতে পারে।

তবে আপেলের বীজে অ্যামিগডালিনের পরিমাণ খুব বেশি নয়। তার ওপর পুরো বীজের শক্ত আবরণ থাকায় তা না চিবিয়ে গিলে ফেললে ভেতরের উপাদান শরীরে তুলনামূলক কম পরিমাণে পৌঁছায়। এ কারণেই একটি আপেলের সঙ্গে ভুল করে কয়েকটি বীজ গিলে ফেলাকে সাধারণত বিষক্রিয়ার কারণ হিসেবে ধরা হয় না।

একটি বা দুটি বীজ খেলে কি বিপদ হবে?

সাধারণত না। ভুল করে একটি আপেল খাওয়ার সময় দু-একটি আস্ত বীজ গিলে ফেললে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বিষ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, একটি আপেলের ভেতরে থাকা সাধারণ পরিমাণ বীজ গিলে ফেললে সাধারণত বিষক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে না।

তবে এর অর্থ এই নয় যে আপেলের বীজ ইচ্ছা করে খাওয়া নিরাপদ। বিশেষ করে বীজ চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত নয়।

বীজ চিবিয়ে খেলে ঝুঁকি বাড়ে কেন?

আপেলের বীজের শক্ত আবরণ অনেকটা প্রাকৃতিক সুরক্ষার মতো কাজ করে। আস্ত বীজ গিলে ফেললে এর ভেতরের অ্যামিগডালিন শরীরের সংস্পর্শে তুলনামূলক কম আসে।

ছবি: টিভি ৯
ছবি: টিভি ৯

কিন্তু বীজ চিবিয়ে, ভেঙে বা গুঁড়া করে খেলে অ্যামিগডালিন বের হয়ে শরীরের পরিপাকতন্ত্রের সংস্পর্শে বেশি আসতে পারে। তখন তা থেকে সায়ানাইড তৈরির সম্ভাবনাও বাড়ে।

তাই আপেল খাওয়ার সময় বীজ আলাদা করে ফেলে দেওয়াই নিরাপদ অভ্যাস।

বেশি পরিমাণ বীজ খেলে কী হতে পারে?

অনেক পরিমাণ আপেলের বীজ চিবিয়ে খেলে শরীরে সায়ানাইডের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। সায়ানাইড কোষের অক্সিজেন ব্যবহারে বাধা দেয়। এর ফলে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি এবং গুরুতর অবস্থায় কোমার মতো সমস্যা হতে পারে। মারাত্মক বিষক্রিয়ায় হৃদ্‌যন্ত্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যক্রমও ব্যাহত হতে পারে।

তবে দৈনন্দিন জীবনে একটি আপেল খেতে গিয়ে এমন মাত্রার বীজ খাওয়া সাধারণ ঘটনা নয়। বিষ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার তথ্যেও বলা হয়েছে, সায়ানাইড বিষক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে অনেকগুলো বীজ চিবিয়ে খেতে হয়।

ভুল করে আপেলের বীজ গিলে ফেললে কী করবেন?

এক বা কয়েকটি আস্ত বীজ ভুল করে গিলে ফেললে সাধারণত বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। জোর করে বমি করানোর চেষ্টাও করা উচিত নয়।

তবে কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে অনেকগুলো বীজ চিবিয়ে খান, অথবা খাওয়ার পর শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি কিংবা অন্য গুরুতর উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

শিশু অনেক বীজ খেয়ে ফেললে বা কতটা খেয়েছে তা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

আপেলের বীজ কি একেবারেই খাওয়া উচিত নয়?

আপেলের বীজ থেকে সম্ভাব্য ঝুঁকি থাকায় এগুলো খাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আপেল খাওয়ার সময় বীজ ও মাঝের শক্ত অংশ বাদ দিয়ে ফলের অংশ খাওয়াই ভালো।

ছবি: লেইডব্যাক গার্ডেনার
ছবি: লেইডব্যাক গার্ডেনার

বিশেষ করে শিশুদের আপেল দেওয়ার সময় আগে থেকেই বীজ ও কোর সরিয়ে দেওয়া নিরাপদ অভ্যাস। বিষ নিয়ন্ত্রণ সংস্থাও শিশুদের আপেল দেওয়ার আগে বীজ সরিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

শুধু আপেল নয়, আরও কিছু ফলের বীজেও এমন যৌগ থাকে

অ্যামিগডালিন শুধু আপেলের বীজেই পাওয়া যায় না। এফডিএর তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিকট, তেতো কাঠবাদাম, পিচ ও বরইয়ের মতো কিছু ফলের বীজ বা বিচিতেও অ্যামিগডালিন থাকতে পারে। বেশি পরিমাণে এসব বীজ বা বিচি খেলে সায়ানাইড বিষক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তাই কোনো ফলের বীজে বিষাক্ত যৌগ থাকার কথা শুনে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, আবার ইচ্ছা করে বেশি পরিমাণে বীজ খাওয়াও ঠিক নয়।

আপেল খাওয়ার সবচেয়ে নিরাপদ উপায়

আপেল ভালোভাবে ধুয়ে খোসাসহ খেতে পারেন। তবে খাওয়ার সময় বীজ ও শক্ত মাঝের অংশ বাদ দিন। বীজ ভুল করে একটি-দুটি গিলে ফেললে সাধারণত আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বীজ চিবিয়ে বা গুঁড়া করে খাওয়া এড়িয়ে চলা এবং একসঙ্গে অনেক বীজ খেয়ে ফেলার মতো পরিস্থিতি তৈরি না করা।

আপেলের বীজে অ্যামিগডালিন রয়েছে, যা শরীরে ভেঙে সায়ানাইড তৈরি করতে পারে। তাই বীজকে পুরোপুরি নির্দোষ বলা যায় না। তবে একটি আপেল খাওয়ার সময় ভুল করে দু-একটি আস্ত বীজ গিলে ফেললেই বিষক্রিয়া হবে, এমন ধারণাও ঠিক নয়।

তাই আপেল খাওয়ার সময় বীজ ফেলে দিন। ভুল করে অল্প কয়েকটি বীজ গিলে ফেললে সাধারণত দুশ্চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু অনেকগুলো বীজ চিবিয়ে খাওয়া বা খাওয়ার পর বিষক্রিয়ার মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

সূত্র: টিভি ৯