ঘুম থেকে ওঠার পর যে দোয়া পড়তে বলেছেন রাসুল (সা.)

সুস্থ-সুন্দর ও সুঠাম দেহ বা জীবন লাভের জন্য ঘুম খুব জরুরি। দেহের জন্য খাবার যেমন প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন পরিমিত ঘুম। আল্লাহ তাআলার অশেষ নেয়ামতের অন্যতম নেয়ামত ঘুম। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আমি তোমাদের বিশ্রামের জন্য নিদ্রা দিয়েছি। তোমাদের জন্য রাতকে করেছি আবরণস্বরূপ। দিনকে বানিয়েছি তোমাদের কাজের জন্য।’ (সুরা নাবা, আয়াত: ৯-১১)
ঘুম আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। ঘুমের মাধ্যমে মানুষের ক্লান্তি ও অবসাদ দূর হয়। নতুন উদ্যমে কাজ করার শক্তি জোগায়। সঠিক ও নিয়মতান্ত্রিক ঘুম মানুষের স্বাস্থ্য সুস্থ রাখে। আল্লাহর হুকুম ও হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নত মোতাবেক ঘুমালে এটি ইবাদতও হয়। মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বলেন, ‘আমি (রাতে) ঘুমাই এবং জেগে নামাজ আদায় করি। জেগে থেকে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে যেভাবে সওয়াবের আশা করি, ঠিক তেমনি ঘুমানোর মাধ্যমেও সওয়াবের আশা করি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৯৯৮)
রাতে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি ঘুমানো উচিত। ফজর নামাজ যেন কাজ না হয়, সেদিকে পূর্ণ খেয়াল রাখতে হবে। ঘুম থেকে ওঠার পর আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করা সওয়াবের কাজ। কারণ, ঘুম হলো এক প্রকার ‘মৃত্যু’। ঘুমের পর জাগ্রত ব্যক্তি নতুন জীবন ফিরে পায়। তাই আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করা ইমানি দায়িত্ব। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা আদায় করো, তাহলে আমি অব্যশই তোমারদেকে আরও বাড়িয়ে দেব। আর যদি তোমরা অস্বীকার করো, তাহলে আমার আজাব অবশ্যই কঠিন।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৭)
রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুম থেকে জেগে আল্লাহর প্রশংসা করতেন। কৃতজ্ঞতা আদায় করতেন। দোয়া পড়তেন। দোয়াটি হলো—
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِيْ أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا، وَإِلَيْهِ النُّشُوْرُ
উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহি হিল্লাজি আহ ইয়ানা, বাদামা আমা তানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।
অর্থ: সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মৃত বানানোর পর জীবিত করেছেন। আর তাঁর দিকেই পুনরুত্থান। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩২৪)




