সবার শেষে যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবেন

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
সবার শেষে যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবেন
ছবি: সংগৃহীত

মুসলমান একসময় অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তবে এর আগে গুনাহকারীরা শাস্তির মুখোমুখি হবে। গুনাহের কারণে নির্ধারিত শাস্তি শেষে আল্লাহ তাকে জান্নাত দেবেন। জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যারা জাহান্নামের স্থায়ী বাসিন্দা, তারা সেখানে মরবেও না, বাঁচবেও না; বরং জীবস্মৃত হয়ে থাকবে। তবে যেসব মুমিন নির্দিষ্ট গুনাহের কারণে আগুনের গ্রাসে পরিণত হয়েছিল, তাদের আল্লাহ আপেক্ষিক মৃত্যু প্রদান করবেন। একপর্যায়ে যখন তারা কয়লায় পরিণত হবে, তখন আল্লাহ তাদের বিষয়ে সুপারিশের অনুমতি দেবেন। তখন তাদেরকে দলে দলে সমবেত করা হবে। জান্নাতের প্রস্রবণে মেলে ধরা হবে। এরপর বলা হবে, তোমরা তাদের ওপর পানি ঢেলে দাও। তখন তারা পলিমাটিতে বীজ থেকে জন্ম নেওয়া সজীব চারা গাছের মতো নতুন জীবন লাভ করবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৫)

একাধিক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, মহান আল্লাহ এমন ব্যক্তিকেও জাহান্নাম থেকে বের করবেন, যার হৃদয়ে এক দিনার, অর্ধ দিনার কিংবা অণু পরিমাণ ইমান রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, তিনি এমন লোকদেরও একসময় জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন, যারা জীবনে কখনোই কোনো ভালো কাজ করেনি। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ জান্নাতবাসীকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। যাকে ইচ্ছা, তাকেই শুধু আপন অনুগ্রহে প্রবেশ করাবেন। তিনি জাহান্নামবাসীদের জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। এরপর (ফেরেশতাদের) বলবেন, খেয়াল রেখো, যার হৃদয়ে সরিষার দানা পরিমাণ ইমান পাবে, তাকেও জাহান্নাম থেকে বের করবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৪)

সবার শেষে যে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে, রাসুলুল্লাহ (সা.) একাধিক হাদিসে তার বিষয়ে বর্ণনা করেছেন। মহান আল্লাহর সঙ্গে তার কথোপকথন এবং তাকে আল্লাহর দেওয়া অবিশ্বাস্য নেয়ামত ও সম্মাননা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি জানি, কে সবার পরে জাহান্নাম থেকে বের হবে এবং কে সবার পরে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সর্বশেষ ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে হামাগুড়ি দিয়ে বের হবে। আল্লাহ তাকে বলবেন, যাও, জান্নাতে প্রবেশ করো। সে জান্নাতের কাছে আসবে। তার মনে হবে, জান্নাত লোকে লোকারণ্য হয়ে আছে। একচুল জায়গা নেই সেখানে। ফলে সেই ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ফিরে গিয়ে বলবে, হে আল্লাহ, জান্নাত তো ভরে গেছে। তখন আল্লাহ বলবেন, যাও, জান্নাতে প্রবেশ করো। তোমার জন্য এক পৃথিবী পরিমাণ এবং তার সঙ্গে আরও দশ পৃথিবী পরিমাণ বিশাল জান্নাত রয়েছে। সে অবাক হয়ে বলবে, আপনি কি মহা পরাক্রমশালী হয়ে আমার সঙ্গে ঠাট্টা করছেন? বর্ণনাকারী বলেন, এই হাদিস বলার সময় আল্লাহর রাসুল হেসে ফেলেন। তার দাঁতের মাড়ি পর্যন্তও দেখা গেছে। বলা হয়ে থাকে, জান্নাতে এই লোকটিই সবচেয়ে কম মর্যাদাপ্রাপ্ত হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৫৭১)

আরেক হাদিসে আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি জানি সর্বশেষ কোন ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে বের হবে। সর্বশেষ ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে হামাগুড়ি দিয়ে বের হবে। তাকে বলা হবে, যাও, জান্নাতে প্রবেশ করো। সে জান্নাতে গিয়ে দেখবে, মানুষজন নিজ নিজ আসন গ্রহণ করে ফেলেছে। তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমার কি জাহান্নামে কাটানো সময়ের কথা মনে আছে? সে বলবে, জি আমার মনে আছে। তখন তাকে বলা হবে, তুমি চাইতে থাকো। সে চাইতে থাকবে। এরপর তাকে বলা হবে, তুমি এতক্ষণ যা কামনা করেছ, তোমাকে তা দেওয়া হলো। একই সঙ্গে দেওয়া হলো, দুনিয়ার চেয়ে ১০ গুণ বড় জান্নাত। তখন সে বলবে, আপনি কি আমার সঙ্গে পরিহাস করছেন। অথচ আপনি বিশ্বজাহানের অধিপতি। বর্ণনাকারী বলেন, হাদিসটি বলার সময় আল্লাহর রাসুল (সা.) হেসে ছিলেন। এমনকি তার মাড়ির দাঁত প্রকাশিত হয়েছেল।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৬)