বিসমিল্লাহর বিকল্প হিসেবে ৭৮৬ লেখা যাবে?

প্রত্যেক ভালো কাজ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে শুরু করা সুন্নত। কোনো কোনো ফকিহ বলেছেন, এটা মুস্তাহাব। এর অর্থ পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহ বলেন, ‘যেসব প্রাণীর ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি, তোমরা সেগুলো ভক্ষণ করো না। কারণ তা গুনাহ।’ (সুরা আনআম, আয়াত: ১২১)
আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ খাওয়া শুরু করে, তখন সে যেন বিসমিল্লাহ বলে। আর যদি সে (খাওয়ার শুরুতে) বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যায় তবে সে যেন বলে, বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৭৬৭)
নবী-রাসুলরা প্রতিটি কাজ আল্লাহর নামে শুরু করতেন। এর ধারাবাহিকতায় সাহাবি, তাবেয়ি ও মুমিন-মুসলমানরা সব কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলেছেন এবং লিখেছেন। তাদের কারও মধ্যে বিসমিল্লাহর কোনো সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহারের ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে কাউকে কাউকে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমের পরিবর্তে ‘৭৮৬’ সংখ্যার ব্যবহার করতে দেখা যায়। ঠিক কবে থেকে এবং কীভাবে এর প্রচলন শুরু হয়েছে, তার সঠিক ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায় না।
অনেকে মনে করেন, বিসমিল্লাহর পরিবর্তে ৭৮৬ লেখা যায়। এ সংখ্যা লেখার দ্বারা বিসমিল্লাহর সওয়াব পাওয়া যায়। তাদের মতে, আরবি প্রতিটি বর্ণমালার মান আছে। আলিফের মান ১, বা-এর মান ২, তা-এর মান ৩, মিমের মান ৪০ ইত্যাদি। এভাবে মানের হিসেবে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমে যতগুলো আরবি বর্ণমালা আছে, সবগুলোর মান হলো ৭৮৬। তাই এটি লিখলে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম লেখার সওয়াব পাওয়া যাবে।
ইসলাম বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। শরিয়তে এর কোনো বৈধতা নেই। কোরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াসের কোনো মূলনীতিতে এটি ব্যবহারের বৈধতা পাওয়া যায় না। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমের বিকল্প হিসেবে ৭৮৬ সংখ্যার ব্যবহারে বিসমিল্লাহ পাঠ ও লেখার সওয়াব পাওয়া যাবে না। এ দিয়ে সুন্নতও আদায় হবে না।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারে ‘প্রচলিত ভুল’ শিরোনামের অধীন এক লেখায় বলা হয়েছে, যেসব ক্ষেত্রে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম লেখা সুন্নত বা মুস্তাহাব, সেসব ক্ষেত্রে অনেকেই ৭৮৬ লিখে থাকে। কারও কারও ধারণা, এই সংখ্যাগুলো লিখলে বা উচ্চারণ করলে বিসমিল্লাহ লেখার বা বলার কাজ হয়ে যায়। এটা একটা ভুল ধারণা। মুখে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পাঠ করে যদি এই অংকগুলো লেখা হয়, তাহলে সেটা বিসমিল্লাহর চিহ্ন গণ্য করা যেতে পারে। কিন্তু সরাসরি এই অংকটাকেই বিসমিল্লাহর বিকল্প মনে করা সম্পূর্ণ ভুল। একটি সুন্নত বাদ দিয়ে শুধু আবজাদি অংক লেখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘বিভিন্ন কাগজ, পরীক্ষার খাতা বা বাড়ির গেইটে ৭৮৬ লিখে রাখা হয়। বলা হয়, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমের সংক্ষিপ্ত রূপ এটা। আরবিতে প্রতিটি অক্ষরের মান নির্ণয় করা হয় আবজাদি পদ্ধতিতে। যেমন আলিফের মান এত, বার মান এত ইত্যাদি। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমে যতগুলো অক্ষর আছে, সব অক্ষর গণনা করে এর যে মান আছে, ওই মানকে যোগ করার পর নাকি ৭৮৬ হয়েছে। মনে রাখতে হবে, বিসমিল্লাহর বিকল্প হিসেবে ৭৮৬ লিখলে বিসমিল্লাহ লেখার সুন্নত বা সওয়া পাওয়া যাবে না।
আরবি বর্ণমালার মান নির্ণয়ে যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, তা ইহুদি দার্শনিকের আবিষ্কার বলে জানান শায়খ আহমাদুল্লাহ।



