পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানি চলছে

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা অসাংবিধানিক ঘোষণা করে হাইকোর্ট দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের দ্বিতীয় দিনের শুনানি শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করছেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ও ড. শরীফ ভূঁইয়া।
এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি (লিভ টু আপিল) দেন। ওই রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধানকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
লিভ টু আপিলের শুনানিতে আবেদনকারীদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন ড. শরীফ ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন তৎকালীন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।
এর আগে, পৃথক দুটি রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করে রায় দেন। ওই রায়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের সাংবিধানিক সুযোগ সৃষ্টি হলেও বিষয়টি কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি আইনি জটিলতা রয়ে যায়।
পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি আপিল করা হয়। এর একটি করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদকসহ চার ব্যক্তি। এছাড়া নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও পৃথক দুটি আপিল করা হয়। আপিল তিনটিই শুনানির জন্য আদালতের কার্যতালিকায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয় এবং সংবিধানের মোট ৫৪টি বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছিল।




