logo
Advertisement

সম্পত্তিতে বোনের অধিকার ও অংশ বণ্টনের পদ্ধতি

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
সম্পত্তিতে বোনের অধিকার ও অংশ বণ্টনের পদ্ধতি
উত্তরাধিকার আইন নিয়ে ইসলামে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ছবি: আমেরিকান হালাল ফাউন্ডেশন

ভাইবোনের সম্পর্ক অত্যন্ত মায়া ও মধুর খুনসুটির। জন্মের পর থেকে ভাইবোন একে অপরের সুখ-দুঃখের সাথি হয়ে বেড়ে ওঠে। সময়ের পরিবর্তনে তারা ভিন্ন পরিবারে অবস্থান করলেও রক্তের এই বন্ধন ছিন্ন হয় না। অনেক পরিবারের ভাইবোনের সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ। ইসলাম উত্তরাধিকার বণ্টনের সুস্পষ্ট বিধান দিয়েছে। ভাইয়ের সম্পত্তিতে একপর্যায়ের বোনের অধিকার নিশ্চিত করেছে। বোনও কখনো ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার সম্পত্তিতে শরিয়াসম্মতভাবে অংশীদার হয়ে যান। তখন তাকে বঞ্চিত করা যাবে না।

মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির বণ্টন নিয়ে কোরআনে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ফারায়েজ সম্পর্কে ইসলামি আইন ও বিধিবিধানসহ নানা বিষয় নিয়ে ‘ফারায়েজ আইন’ শীর্ষক একটি বই লিখেছেন গাজী শামছুর রহমান। বইটির তৃতীয় অধ্যায়ের ৩৮ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে সহদোর বোনের অবস্থা’ নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি।

ইসলামি শরিয়াহ ও ফারায়েজ আইনে পারিবারিক সম্পত্তিতে নারীর অধিকার সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে সহোদর বা আপন বোনের অধিকার রয়েছে। তবে পরিবারে ছেলে, মেয়ে, বাবা কিংবা সহোদর ভাইয়ের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বোনের প্রাপ্য অংশের পরিমাণে পরিবর্তন আসে।

‘ফারায়েজ আইন’ বইয়ের প্রচ্ছদ। ছবি: এশিয়া পোস্ট
‘ফারায়েজ আইন’ বইয়ের প্রচ্ছদ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ফারায়েজ শাস্ত্র অনুযায়ী, মৃতের সম্পত্তিতে সহোদর বোনের অধিকারকে মূলত পাঁচটি ভিন্ন অবস্থায় বিন্যস্ত করা হয়েছে।

১. সহোদরা বোন একজন হলে: মৃত ব্যক্তির যদি ছেলে, মেয়ে, নাতনি ইত্যাদি সন্তান বা অধস্তন ওয়ারিশ না থাকে এবং মাত্র একজন সহোদর বোন থাকে, তবে সে মোট সম্পত্তির অর্ধাংশ বা দুই ভাগের এক ভাগ পাবে।

২. একাধিক সহোদর বোন থাকলে: মৃত ব্যক্তির যদি সন্তানাদি না থাকে এবং একাধিক সহোদরা বোন থাকে, তবে তারা সবাই মিলে যৌথভাবে মোট সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ বা তিন ভাগের দুই ভাগ পাবে। অর্জিত সম্পত্তি নিজেদের মধ্যে সমহারে ভাগ করে নেবে।

৩. সহোদর ভাই থাকলে: সহোদর বোনের সঙ্গে যদি মৃত ব্যক্তির সহোদর ভাইও থাকে, তবে বোন সরাসরি সুনির্দিষ্ট অংশের উত্তরাধিকারী না হয়ে অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে শরিয়াহর নিয়ম অনুযায়ী ভাই বোনের দ্বিগুণ পরিমাণ অংশ পাবে।

৪. মেয়ে বা নাতনি থাকলে: মৃত ব্যক্তির যদি কোনো ছেলে না থাকে, কিন্তু এক বা একাধিক মেয়ে অথবা নাতনি থাকে, তবে সে ক্ষেত্রেও সহোদর বোন অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে গণ্য হবে। এ অবস্থায় মেয়ে বা নাতনিদের নির্ধারিত অংশ বুঝিয়ে দেওয়ার পর যে সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকবে, বোন সেই অবশিষ্ট সম্পত্তি পাবে।

বইটি থেকে লেখার অংশ বিশেষ, পৃষ্ঠা: ৩৮। ছবি: এশিয়া পোস্ট
বইটি থেকে লেখার অংশ বিশেষ, পৃষ্ঠা: ৩৮। ছবি: এশিয়া পোস্ট

৫. বাবা, দাদা, ছেলে বা নাতি থাকলে: মৃত ব্যক্তির যদি ছেলে, নাতি, বাবা অথবা দাদা জীবিত থাকেন, তবে সে ক্ষেত্রে সহোদর বোন সম্পত্তির কোনো অংশ পাবে না।

লেখক পরিচিতি

গাজী শামছুর রহমান (১৯২১-১৯৯৮) বাংলাদেশি আইনবিদ ও আইন সংস্কারক, বিচারক, ভাষাবিদ এবং টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলায় আইনবিষয়ক গ্রন্থ রচনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তার রচিত বইয়ের সংখ্যা শতাধিক। তিনি ১৯৮৫ সালে একুশে পদক পান। তিনি জেলা জজ ছিলেন। সরকারের যুগ্ম সচিব হিসেবে তিনি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট ও বাংলা একাডেমির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন কিছুদিন।