সহজেই বানিয়ে নিন মজাদার মুরগির রোস্ট

বাংলাদেশের বিয়ে, ঈদ, দাওয়াত কিংবা বিশেষ পারিবারিক আয়োজনের কথা উঠলেই যে কয়েকটি খাবারের নাম সবার আগে আসে, তার মধ্যে মুরগির রোস্ট অন্যতম। সুগন্ধি মসলা, ঘন ঝোল আর ঝাল মিষ্টি আর নরম মুরগির মাংসের এই পদটি বহু বছর ধরে বাঙালির উৎসবের খাবারের তালিকায় বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
রোস্টের ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। ধারণা করা হয়, মুঘল রান্নার প্রভাব থেকে উপমহাদেশে রোস্ট ধরনের খাবারের জনপ্রিয়তা বাড়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় মসলা, দই, ঘি ও বাদামের ব্যবহার যোগ হয়ে বাংলাদেশি রোস্টের নিজস্ব স্বাদ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে এটি শুধু উৎসবের খাবার নয়, বরং ঘরোয়া আয়োজনেও সমান জনপ্রিয়।
যা যা লাগবে
মুরগি ১টি (প্রায় ১ থেকে ১.২ কেজি)
টক দই আধা কাপ
পেঁয়াজ বাটা ১ কাপ
আদা বাটা ১ টেবিল চামচ
রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ
কাজুবাদাম বাটা ২ টেবিল চামচ
পোস্তদানা বাটা ১ টেবিল চামচ (ঐচ্ছিক)
গুঁড়া দুধ ২ টেবিল চামচ
ঘি ৩ টেবিল চামচ
তেল আধা কাপ
দারুচিনি ২ টুকরা
এলাচ ৪টি
লবঙ্গ ৪টি
তেজপাতা ২টি
গোলমরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ
জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ
ধনে গুঁড়া ১ চা চামচ
মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ
চিনি ১ চা চামচ
লবণ স্বাদমতো
কেওড়া জল ১ চা চামচ
কিশমিশ ও ভাজা পেঁয়াজ সাজানোর জন্য
যেভাবে বানাবেন
প্রথমে মুরগি ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এরপর টক দই, আদা বাটা, রসুন বাটা ও সামান্য লবণ দিয়ে মুরগি অন্তত ৩০ মিনিট মেরিনেট করে রাখুন। একটি পাত্রে তেল ও ঘি গরম করে দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ ও তেজপাতা ফোড়ন দিন। সুগন্ধ বের হলে পেঁয়াজ বাটা দিয়ে মাঝারি আঁচে কষতে থাকুন।
পেঁয়াজের কাঁচা গন্ধ চলে গেলে আদা বাটা, রসুন বাটা, জিরা গুঁড়া, ধনে গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া এবং লবণ যোগ করুন। মসলাগুলো ভালোভাবে কষে নিন। এরপর কাজুবাদাম বাটা, পোস্তদানা বাটা এবং গুঁড়া দুধ মিশিয়ে আরও কয়েক মিনিট রান্না করুন। মসলা থেকে তেল আলাদা হতে শুরু করলে মেরিনেট করা মুরগি দিয়ে দিন।
মুরগিটি চারদিক থেকে ভালোভাবে মসলার সঙ্গে মিশিয়ে ঢেকে রান্না করুন। প্রয়োজন হলে সামান্য গরম পানি যোগ করতে পারেন। মুরগি প্রায় সেদ্ধ হয়ে এলে চিনি ও গোলমরিচ গুঁড়া দিন।
শেষে কেওড়া জল ছিটিয়ে আরও ৫ থেকে ১০ মিনিট অল্প আঁচে রান্না করুন। ঝোল ঘন হয়ে এলে চুলা বন্ধ করে দিন।
পরিবেশন
পরিবেশনের আগে ভাজা পেঁয়াজ ও কিশমিশ দিয়ে সাজিয়ে নিতে পারেন। পোলাও, জর্দা, নান বা সাদা ভাতের সঙ্গে মুরগির রোস্ট দারুণ মানিয়ে যায়। অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে পরিবারের বিশেষ দিনের খাবারে এই পদ সহজেই সবার মন জয় করতে পারে।
টিপস
- আরও মজার স্বাদের জন্য রান্নার শেষে সামান্য ঘি যোগ করা যেতে পারে।
- মুরগি বেশি সময় মেরিনেট করলে মাংস নরম ও রসালো হয়।
- ঝোল খুব পাতলা না রেখে ঘন রাখলে রোস্টের আসল স্বাদ পাওয়া যায়।
- কাজুবাদাম ও গুঁড়া দুধ ব্যবহার করলে রোস্টের গ্রেভি আরও মোলায়েম হয়।
সুগন্ধি মসলা আর সমৃদ্ধ গ্রেভির কারণে মুরগির রোস্ট আজও বাঙালির সবচেয়ে প্রিয় উৎসবের খাবারগুলোর একটি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে উপভোগ করার জন্য এটি হতে পারে যেকোনো বিশেষ দিনের নিখুঁত পদ।