ঘরে মিষ্টি দই তৈরির সহজ পদ্ধতি ও রেসিপি

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি জাতীয় খাবারের মধ্যে মিষ্টি দই বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সাধারণত দোকান বা মিষ্টির দোকান থেকেই আমরা এটি কিনে খায়, তবে একটু চেষ্টা করলে ঘরেই খুব সহজে তৈরি করা যায় সুস্বাদু মিষ্টি দই।
মিষ্টি দই বানানোর প্রয়োজনীয় উপকরণ
ফুল ফ্যাট তরল দুধ ১ লিটার
চিনি আধা কাপ (স্বাদ অনুযায়ী কম-বেশি করা যায়)
টক দই ২ টেবিল চামচ (স্টার্টার হিসেবে)
তৈরীর প্রক্রিয়া
প্রথমে একটি পাত্রে দুধ নিয়ে মাঝারি আঁচে জ্বাল দিয়ে দুধ কিছুটা ঘন হওয়া পর্যন্ত নাড়তে নাড়তে ফুটাতে হবে, এতে দইয়ের স্বাদ ও ঘনত্ব বাড়ে। সাধারণত ১০ থেকে ১৫ মিনিট দুধ জ্বাল দিলে এটি একটু ঘন হয়ে আসে।
এরপর একটি আলাদা প্যানে চিনি দিয়ে কম আঁচে গলাতে হবে। চিনি ধীরে ধীরে গলে হালকা বাদামি রং ধারণ করলে এতে সামান্য গরম দুধ দিয়ে নেড়ে ক্যারামেল তৈরি করতে হবে। এই ক্যারামেল দইয়ের সুন্দর রং ও স্বাদ এনে দেয়।
এখন ক্যারামেল করা চিনির মিশ্রণটি ফুটানো দুধের সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর দুধটি কিছুটা ঠান্ডা হতে দিতে হবে, যেন এটি কুসুম গরম অবস্থায় থাকে। খুব বেশি গরম থাকলে দই ঠিকভাবে জমবে না।
এরপর একটি বাটিতে সামান্য টক দই নিয়ে তাতে সামান্য দুধ মিশিয়ে ভালোভাবে ফেটে নিতে হবে। এই মিশ্রণটি কুসুম গরম দুধের মধ্যে ঢেলে আলতোভাবে নেড়ে মিশিয়ে নিতে হবে।
সবশেষে মিশ্রণটি মাটির বা কাঁচের পাত্রে ঢেলে ঢেকে রাখতে হবে। সাধারণত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা গরম জায়গায় রেখে দিলে দই জমে যায়। দই জমে গেলে ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে পরিবেশন করলে স্বাদ আরও বাড়ে।
ভালো মিষ্টি দই বানানোর কিছু ঘরোয়া টিপস
ঘন ও সুস্বাদু দই পেতে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। ফুল ফ্যাট দুধ ব্যবহার করলে দই বেশি ঘন হয়। মাটির পাত্রে দই জমালে বাড়তি পানি শোষণ হয়ে যায়, ফলে দই আরও ঘন ও সুস্বাদু হয়। শীতের সময় দই জমাতে পাত্রটি কাপড় দিয়ে ঢেকে গরম জায়গায় রাখা ভালো।