logo

ব্যায়ামে ওজন না কমলেও শরীরে হতে পারে বড় পরিবর্তন

ব্যায়ামে ওজন না কমলেও শরীরে হতে পারে বড় পরিবর্তন
ছবি : সংগৃহীত

অনেকেই ব্যায়াম শুরু করেন ওজন কমানোর আশায়। কয়েক সপ্তাহ হাঁটা, জিম বা শরীরচর্চার পরও যখন ওজনের মেশিনে তেমন পরিবর্তন দেখা যায় না, তখন অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন। কেউ কেউ ভাবেন, এত কষ্ট করেও যদি ওজন না কমে, তাহলে ব্যায়ামেরই বা লাভ কী!

কিন্তু চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, ব্যায়ামের উপকার শুধু ওজন কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত শরীরচর্চা ওজন খুব বেশি না কমলেও হৃদ্‌যন্ত্র, রক্তচাপ, রক্তে শর্করা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপকার এনে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় শরীরের ভেতরের ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো ওজন মাপার যন্ত্রে ধরা পড়ে না।

ওজন একই থাকলেও শরীর বদলাতে পারে

শুধু ব্যায়াম করলেই সবার দ্রুত ওজন কমে না। কারণ ওজন নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে খাদ্যাভ্যাস, ঘুম, মানসিক চাপ, হরমোন ও জিনগত বিষয়ও জড়িত। তবে ব্যায়াম নিয়মিত হলে শরীরের ভেতরে অনেক পরিবর্তন শুরু হয়। যেমন-

  • হৃদ্‌যন্ত্র আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে শুরু করে
  • রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়
  • ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়ে
  • শরীর অক্সিজেন ভালোভাবে ব্যবহার করতে শেখে
  • পেশি শক্তিশালী হয়

ফলে ওজন না কমলেও শরীর আগের চেয়ে বেশি ফিট ও কর্মক্ষম হয়ে উঠতে পারে।

হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত শরীরচর্চা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে বড় ভূমিকা রাখে।

ব্যায়াম উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে, ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সহায়তা করে, রক্তনালিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে।

বিশেষ করে যাদের ওজন বেশি বা পরিবারে হৃদ্‌রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের জন্য নিয়মিত শরীরচর্চা আরও গুরুত্বপূর্ণ।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমাতে পারে

শরীরচর্চা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।

ব্যায়ামের সময় শরীরের পেশি বেশি গ্লুকোজ ব্যবহার করে। এতে রক্তে অতিরিক্ত শর্করা জমে থাকার প্রবণতা কমে।

ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হ্রাস পেতে পারে এবং যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ সহজ হতে পারে।

শুধু ওজন নয়, ফিটনেসও গুরুত্বপূর্ণ

বিশেষজ্ঞরা এখন শুধু ওজন কমাকে সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে দেখেন না। বরং দেখা হয়-

  • আগের চেয়ে বেশি হাঁটা যাচ্ছে কি না
  • সিঁড়ি ভাঙতে কম কষ্ট হচ্ছে কি না
  • শরীর দ্রুত ক্লান্ত হচ্ছে কি না
  • দৈনন্দিন কাজ সহজ লাগছে কি না

এসব পরিবর্তনও শরীর সুস্থ হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

কেন অনেক সময় ওজন কমে না

ব্যায়াম শুরু করার পর অনেকের শরীরে পেশি বাড়তে পারে। পেশি চর্বির তুলনায় ঘন হওয়ায় শরীরের গঠন বদলালেও ওজন একই থাকতে পারে।

আবার কেউ ব্যায়ামের পর বেশি খেয়ে ফেললে ক্যালোরির ভারসাম্যও বদলে যেতে পারে।

তাই শুধু ওজনের দিকে না তাকিয়ে শরীরের সামগ্রিক উন্নতির দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

কী ধরনের ব্যায়াম উপকারী

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শরীরচর্চা উপকারী হতে পারে। যেমন-

  • দ্রুত হাঁটা
  • সাইকেল চালানো
  • সাঁতার
  • যোগব্যায়াম
  • হালকা দৌড়
  • স্ট্রেংথ ট্রেনিং

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত থাকা।

দীর্ঘমেয়াদে অভ্যাস গড়ে তোলাই আসল

শরীরচর্চাকে শুধু কয়েক সপ্তাহের ওজন কমানোর পরিকল্পনা হিসেবে না দেখে, দীর্ঘমেয়াদি জীবনযাপনের অংশ হিসেবে নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত ব্যায়াম একসঙ্গে কাজ করলে উপকার সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।

ব্যায়াম করেও ওজন দ্রুত না কমলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কারণ শরীরের ভেতরে তখনও গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক পরিবর্তন চলতে পারে।

নিয়মিত শরীরচর্চা হৃদ্‌যন্ত্রকে সুস্থ রাখতে, রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে এবং শরীরকে আরও ফিট ও কর্মক্ষম করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ওজনের মেশিনের সংখ্যার চেয়ে সুস্থ অভ্যাস ধরে রাখাটাই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: এনডিটিভি