logo

মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করায় মুসলিম পরিচয় তুলে সাংবাদিকদের বেধড়ক পিটুনি

ইন্ডিয়া টুডে
ইন্ডিয়া টুডে
বিবিসি বাংলা
বিবিসি বাংলা
মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করায় মুসলিম পরিচয় তুলে সাংবাদিকদের বেধড়ক পিটুনি
দিল্লি পুলিশের বেধড়ক পিটুনির শিকার দুই নারী সাংবাদিক শাহীন খান ও নাফিসা খান। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

ভারতের নয়াদিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাকে তার ‘অপছন্দের’ প্রশ্ন করায় দু্ই নারী সাংবাদিককে তুলে নিয়ে তাদের ধর্মীয় পরিচয় জিজ্ঞাসা করে পুলিশের বিরুদ্ধে বেধড়ক পিটুনির অভিযোগ উঠেছে। মারধরের শিকার সাংবাদিকদের দাবি, তাদের ধর্মীয় পরিচয় (মুসলিম) জানার পর পুলিশের তরফ থেকে অতিরিক্ত শারীরিক নির্যাতন ও গালিগালাজ করা হয়।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত থেকেই অভিযোগকারী দুই জন সাংবাদিকদের একজনের রেকর্ড করা ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে। তবে দিল্লি পুলিশ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও তথ্যগতভাবে অসত্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

পুলিশের মারধরের শিকার দুই নারী সাংবাদিক হলেন শাহীন খান ও নাফিসা খান। তারা ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ‘৪পিএম’-এ কর্মরত। তাদের অভিযোগ, সাকেটের ম্যাক্স হাসপাতালের নতুন শাখার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাকে প্রশ্ন করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয় এবং সেখান থেকে সরাসরি সাকেত থানায় নিয়ে যায়।

দিল্লি পুলিশের কাছে দায়ের করা এক অভিযোগে শাহীন খান জানিয়েছেন যে, ওইদিন সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ তিনি দেখেন এলাকাটি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন যে, রেখা গুপ্তা এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ম্যাক্স হাসপাতালের একটি নতুন ভবনের উদ্বোধনে আসছেন। আর সে কারণেই এই পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হয়েছিল।

শাহীন জানান, তিনি ও তার সহকর্মী নাফিসা খান অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেশ কিছুটা দূরে ছিলেন। তারা মুখ্যমন্ত্রীর একটি কাট-আউটের সামনে দাঁড়িয়ে ভিডিও করেন। ভিডিওতে তিনি বলেন যে, এলাকাটি সাধারণত এতটা পরিষ্কার থাকে না। এমনকি থানা ও হাসপাতালের বাইরেও যেখানে প্রায়শই আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়, সেখানে কেন ভিআইপির আগমন উপলক্ষে এমন পরিপাটি ও ঝকঝকে পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে?

অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ঠিক তখনই কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা পেছন থেকে এগিয়ে আসেন এবং হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি আমাদের ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি যখন ক্যামেরার সামনে এর প্রতিবাদ জানাই, তখন কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্যকে সেখানে ডাকা হয়। আমাকে চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করার পর তারা এখন আমার নাম জানতে চাইছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের আটক করে সাকেত থানায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশের দল আমাদের একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে মারধর করে। মুখ্যমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার শাস্তি হিসেবেই দিল্লি পুলিশ আমার সঙ্গে এমন ব্যবহার করছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কয়েকটি ভিডিওতে সাংবাদিকদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। একটি ভিডিওতে শাহীন খানকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার নামের অংশে খান রয়েছে, আমি মুসলিম। আর সে কারণেই আজ দিল্লি পুলিশের একজন অফিসার আমাদের লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমাদের ব্যাটন দিয়ে মেরেছে এবং বারবার চড় মেরেছে। আমাদের মুসলিম পরিচয়ের কারণে আজ আমাদের প্রতি যে ঘৃণা দেখানো হয়েছে, তার জন্য দিল্লি পুলিশকে জবাবদিহি করতে হবে। আপনাদের জবাব দিতে হবে।’

আরেক ভিডিওতে দেখা যায়, আঘাতের কারণে নাফিসা খান হাঁটতে না পারায় তাকে চ্যাংদোলা করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (দক্ষিণ) অনন্ত মিত্তাল অভিযোগ অস্বীকার করে এক বিবৃতিতে জানান, ওই নারী সাংবাদিকরা তাদের স্কুটার ভিভিআইপিদের নির্ধারিত চলাচলের পথে পার্ক করে রেখেছিলেন।

বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও পথ পরিষ্কার না করায় সুরক্ষাজনিত কারণে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের থানায় নেওয়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করায় কিংবা কোনো ধরণের শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই ভারতে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দল কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টি (এএপি) এই ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন দিল্লি সরকার ও কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে চরম সমালোচনা করেছে।

এছাড়া প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান উইমেন্স প্রেস কর্পস এবং দিল্লি ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টসহ একাধিক সাংবাদিক সংগঠন এক যৌথ বিবৃতিতে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।