logo

ইতালির শিক্ষার্থীদের স্লোগান /‘যুদ্ধের জন্য নয়, স্কুলের জন্য অর্থ বাড়াও’

ইসমাইল হোসেন স্বপন, ইতালি
‘যুদ্ধের জন্য নয়, স্কুলের জন্য অর্থ বাড়াও’
ইতালি সরকারের শিক্ষানীতি পরিবর্তনের দাবিতে হাজারো শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে আসে। ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

স্কুলের জন্য অর্থ, যুদ্ধের জন্য নয়’ এবং ‘অস্ত্র কমাও, অধিকার বাড়াও’— শুক্রবার এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে ইতালির রাজধানী রোম। দেশটিতে সরকারের শিক্ষানীতি, সরকারি বিদ্যালয়ের অব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের দাবিতে রাজপথে নামে হাজার হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ‘নো মেলোনি ডে’ (No Meloni Day) কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকারের বিভিন্ন নীতি ও শিক্ষামন্ত্রী জুসেপ্পে ভালদিতারার গৃহীত পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন আন্দোলনকারীরা।

তাদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল, সামরিক ব্যয় ও অস্ত্র খাতে বিনিয়োগের পরিবর্তে সরকারি শিক্ষা খাতে অধিক অর্থ বরাদ্দ করা। তাঁদের বক্তব্য, অনেক বিদ্যালয়ের ভবন ও শ্রেণিকক্ষ জরাজীর্ণ, শিক্ষকসংকট রয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। আন্দোলনকারীরা বিদ্যালয়ের ভবন সংস্কার, শ্রেণিকক্ষের উন্নয়ন, শিক্ষকদের কর্মপরিবেশের উন্নতি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সমতাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

ইতালিতে মায়ের হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি শিশু গাড়িচাপায় নিহত

ইতালির রোমসহ দেশটির একাধিক শহরে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের দাবি, রাজধানী রোমের মিছিলে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। শুক্রবার সকালে মিছিলটি কাভুর এলাকা থেকে অগ্রসর হয়ে রোমের ঐতিহাসিক কেন্দ্রের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং কলোসিয়ামের সামনে দিয়ে যায়। মিছিলের চূড়ান্ত গন্তব্য ছিল ভিয়ালে ত্রাস্তেভেরেতে অবস্থিত ইতালির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর।

১ লাখ ৬৫ হাজার কর্মী নেবে ইতালি, সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশিরাও

মিছিলে রাজধানীর বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং একাধিক ছাত্রসংগঠনের সদস্যরা ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানের মাধ্যমে সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার সংকট, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত দুরবস্থা এবং শিক্ষা খাতে অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি সামনে আনেন।

আন্দোলনকারীদের মতে, বিদ্যালয়ের সংকটের জন্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের দায়ী না করে অবকাঠামো, শিক্ষকসংকট ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের ঘাটতি সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এ ছাড়া কারিগরি ও পেশাগত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু করা ‘৪+২’ শিক্ষা সংস্কারেরও বিরোধিতা করেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের আশঙ্কা, এই ব্যবস্থায় শিক্ষার সঙ্গে কর্মবাজারের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাগত বিকাশ ও কর্মসংস্থানের মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ইতালির নামে লিবিয়ায় নিয়ে জিম্মি, দেশ থেকে মুক্তিপণ নেন আ.লীগ নেতা

শিক্ষার্থীদের মিছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় কয়েকটি স্থানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। ভিয়া মারমোরাতা এলাকায় মুখ ঢাকা একদল বিক্ষোভকারী রাস্তায় ময়লার পাত্র সরিয়ে বাধা সৃষ্টি করেন এবং পরে পুলিশ সদস্যদের দিকে আতশবাজি ও বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে পৌঁছানোর পরও উত্তেজনা দেখা দেয়। সেখানে পুলিশের উপস্থিতিতে বিক্ষোভকারীদের একাংশ বোতল, ডিম ও অন্যান্য বস্তু নিক্ষেপ করে এবং অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের উপাদান ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এদিকে, শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে এখন নজর রাখছেন দেশটির সংশ্লিষ্ট মহল।