হামলা বন্ধের বিনিময়ে হুতিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব সৌদির

জ্বালানি স্থাপনা, বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা বন্ধের বিনিময়ে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের একটি আর্থিক প্যাকেজ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। আর এই প্রস্তাবে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে ইরান। তবে এই প্রস্তাবের পাশাপাশি অর্থ হস্তান্তর করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) উপসাগরীয় কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি কর্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ ও বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের মতো বিষয়গুলোর সমাধান করা। বিনিময়ে, হুতিদের সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে হবে।
সংবাদমাধ্যমটিকে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, সংঘাত নিরসনে বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান সোমবার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য তেহরান সফর করেন। সংবাদপত্রের একটি সূত্র দাবি করেছে যে, মন্ত্রী একটি সি-১৩০ সামরিক পরিবহন বিমানে করে এই অর্থ নিয়ে গিয়েছিলেন।
তবে সৌদি আরবের কোনো কর্মকর্তা অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
সৌদির প্রস্তাবে কী কী রয়েছে
সৌদি আরবের প্রস্তাবিত এই আর্থিক প্যাকেজটি আগের কিছু সমঝোতার সঙ্গে সম্পর্কিত। সেই সমঝোতা অনুযায়ী, দেশটি ইয়েমেনের হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি কর্মীদের বেতন প্রদান এবং অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সহায়তা করার কথা ছিল।
বিনিময়ে, হুতিদের একটি যুদ্ধবিরতি মেনে চলার ও সৌদি ভূখণ্ডে হামলা বন্ধ করার কথা ছিল। সৌদি বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামোতে হুতিদের হামলা তীব্রতর হওয়ায়, সর্বশেষ প্রকাশিত প্রস্তাবে সেই ব্যবস্থাগুলো পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
সংবাদপত্রটি জানিয়েছে যে, পূর্বের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থতার জন্য রিয়াদকে অভিযুক্ত করেছে ইয়েমেনি গোষ্ঠীটি।
চুক্তির শর্তাবলি
কথিত চুক্তির শর্তাবলিতে ১০০ কোটি ডলার হস্তান্তর ও সৌদি মন্ত্রীর বিমানে করে অর্থ নিয়ে যাওয়ার দাবি নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত করতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি। এ ছাড়া, হুতিরা এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছে কি না, তাও প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।
ইরান জড়াল কেন
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। হুতিদের সামরিকভাবে সমর্থন করার অভিযোগের সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও তেহরান ইয়েমেন সংঘাতে নিজেকে একটি কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
গত ২০ অক্টোবর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, আলোচনায় সহায়তা করার জন্য তেহরানের প্রস্তাবে সৌদি আরব ও হুতিরা কোনো সাড়া দেয়নি। তাই, সর্বশেষ প্রকাশিত আলোচনাগুলো কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় একটি সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যদিও কোনো চুক্তির বিস্তারিত বিবরণ এবং অবস্থা এখনও অস্পষ্ট।
এদিকে, সৌদি আরব প্রকাশ্যে তেহরানে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনাকে উত্তেজনা হ্রাস ও কূটনৈতিক সমাধানকে উৎসাহিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুবরাজ খালিদ ও সহযোগী দেশগুলোর প্রতিনিধিদের এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল উত্তেজনা প্রশমনে সহায়তা করা। তবে ওই বিবৃতিতে কথিত ১০০ কোটি ডলার প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের জন্য বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ
এমন এক সময়ে যখন উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে হামলা ও বিশৃঙ্খলা আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে, তখন একটি যুদ্ধবিরতি সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো রক্ষা করতে এবং জ্বালানি রপ্তানির ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ইরানের জন্য, মধ্যস্থতা তার কূটনৈতিক প্রভাবকে শক্তিশালী করতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্ধারণে তাকে আরও বড় ভূমিকা দিতে পারে। সৌদি আরবের জন্য, যে কোনো চুক্তিতে হুতি হামলার ফলে সৃষ্ট চলমান হুমকির বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে।





