আলজাজিরার কলাম/দূষণকারীরা ক্ষতিপূরণ না দিলে শেষ হবে না দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ধোঁয়াশা ট্র্যাজেডি

সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এক পরিচিত নির্মমতার সাথে ধোঁয়াশা আবার ফিরে এসেছে। বাতাসের গুণমান খারাপ হওয়ায় মালয়েশিয়া স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে, সিঙ্গাপুরে বিপজ্জনক মাত্রার বায়ু দূষণ দেখা গেছে, এবং ফিলিপাইনের কিছু অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা ধোঁয়া কতটা দূর পর্যন্ত ছড়িয়েছে তা স্পষ্ট করে তুলে ধরে।
অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ায়, বন ও পিটল্যান্ডের আগুন—যা এই অঞ্চলের ধোঁয়াশার প্রধান উৎস—বিশেষ করে কালিমান্তানের বিভিন্ন অংশে জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এক দেশে জমি পোড়ানোর মাধ্যমে যা শুরু হয়, তা পুরো অঞ্চলে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থায় পরিণত হতে পারে।
মালয়েশিয়ার যেসব শিশুর স্কুল মিস হচ্ছে, সিঙ্গাপুরের যেসব বাসিন্দা দূষিত বাতাসে শ্বাস নিচ্ছেন, ফিলিপাইনের যেসব জনগোষ্ঠী ভেসে আসা ধোঁয়ার শিকার এবং ইন্দোনেশিয়ার যেসব পরিবার জ্বলন্ত জমির কাছে বাস করছেন—তারা সবাই একই আঞ্চলিক ব্যর্থতার কারণে বিভিন্ন ধরনের মূল্য দিচ্ছেন।
শুষ্ক আবহাওয়া এবং এল নিনো আগুন তীব্র করতে পারে, তবে অনেক আগুনই কৃষির জন্য জমি পরিষ্কার করতে ইচ্ছাকৃতভাবে জ্বালানো হয়।
মূল প্রশ্ন হলো, যেসব কর্মকাণ্ড ব্যাপক জনস্বার্থের ক্ষতি করে, তা কেন সেগুলোর সুফলভোগীদের কাছে আকর্ষণীয় থেকে যায়। যখন সস্তায় জমি প্রস্তুত করার লাভ একজন বা কিছু ব্যক্তি পায়, আর ধোঁয়ার ক্ষতি সাধারণ মানুষ ও সীমান্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, তখন রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা এড়ানো সহজ হয়।
তাই এই ধোঁয়াশা কেবল একটি পরিবেশগত জরুরি অবস্থা বা কূটনৈতিক সদিচ্ছার পরীক্ষা নয়। এটি সাধারণ জীবনযাত্রা ব্যাহত করে, সরকারি সেবাকে চাপে ফেলে এবং পরিবেশগত ক্ষতি কীভাবে সহজেই সৃষ্টিকারীদের কাছ থেকে অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় তা উন্মোচিত করে। এটি একটি অর্থনৈতিক দায়বদ্ধতার ব্যর্থতা।
সস্তায় জমি পরিষ্কারের অর্থনীতি
গাছপালা ও জঙ্গল পরিষ্কার করার জন্য আগুন একটি সস্তা উপায় হতে পারে, বিশেষ করে যেখানে জমির শাসন দুর্বল, বিকল্প পদ্ধতিগুলো ব্যয়বহুল এবং আইনের প্রয়োগ অনিশ্চিত। ব্যক্তিগত হিসাব সোজা: জমি প্রস্তুতিতে কম খরচ করো এবং লাভ নাও।
আগুন শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতা, কর্মদিবস নষ্ট, স্কুল বন্ধ এবং পরিবহন বিঘ্নিত করার পাশাপাশি বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি করে এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন করে। আর এই ক্ষতিগুলো কখনোই পুরোপুরি আগুন জ্বালানোর জন্য দায়ী ব্যক্তিরা বহন করে না।
ইন্দোনেশিয়ার ২০১৫ সালের অগ্নিকাণ্ড সংকটের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে অন্তত ১৬.১ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির হিসাব করা হয়েছিল, যা সে বছরের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) ১.৯ শতাংশের সমতুল্য। সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে জুন থেকে অক্টোবরের মধ্যে পুড়ে যাওয়া এলাকা ছিল ২৬ লাখ হেক্টর। ব্যাংক এই আগুনকে সস্তায় জমি প্রস্তুতি, খরা এবং দুর্বল প্রয়োগের সাথে যুক্ত করেছিল। তাদের হিসাবে কৃষি, বাণিজ্য, পর্যটন, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা এবং জরুরি পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত ছিল, তবে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য ক্ষতি এবং বাস্তুতন্ত্রের সেবার ক্ষতি বাদ পড়েছিল।
এই পরিসংখ্যানটি ২০২৬ সালের আগুনের মূল্য তালিকা নয়। এটি বারবার ঘটা একটি সংকট কতটা ক্ষতি করতে পারে তা দেখায়। সাম্প্রতিক অনুমান অনুযায়ী চলতি বছর ইন্দোনেশিয়ায় পোড়া এলাকার পরিমাণ ৬ লাখ ৩৭ হাজার থেকে ৯ লাখ হেক্টরের মধ্যে, আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত সাতটি প্রদেশে আগুনের সাথে সম্পর্কিত ২ লাখ ৮৩ হাজার ২৭০টি শ্বাসকষ্টজনিত রোগের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
পশ্চিম কালিমান্তান প্রদেশে, আগুন স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও জীবিকাকেও হুমকির মুখে ফেলেছে, যা তুলে ধরে যে শিখার পাশে থাকা ইন্দোনেশীয়রা প্রতিবেশীদের কাছে ধোঁয়া পৌঁছানোর অনেক আগেই এর মাশুল দেয়।
এটিই মূল অর্থনৈতিক বিকৃতি: পোড়ানোর খরচ পোড়ানোর সিদ্ধান্তের মধ্যে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয় না। যখন লাভ ব্যক্তিগতভাবে অর্জিত হয়, কিন্তু স্বাস্থ্য ব্যয়, আয়ের ক্ষতি এবং পরিবেশগত ক্ষতি সমাজ বহন করে, তখন মোট খরচ বিশাল হওয়া সত্ত্বেও আগুন জ্বালানো অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক থেকে যেতে পারে। ক্ষুদ্র কৃষকদের আগুন জ্বালানোর সাশ্রয়ী ও ব্যবহারিক বিকল্প প্রয়োজন; তথ্য-প্রমাণ আগুনে যুক্ত করলে কোম্পানিগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য দায়বদ্ধতার মুখোমুখি হতে হবে; এবং পিটল্যান্ডে ধারাবাহিক পুনরুদ্ধার ও পানি ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন, কেবল ধোঁয়া রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর হলে জরুরি নজরদারি নয়।
আসিয়ানের দায়বদ্ধতার ঘাটতি
ধোঁয়া সীমান্ত অতিক্রম করে, কিন্তু দায়িত্ব ও প্রয়োগ বহুলাংশে জাতীয় পর্যায়েই রয়ে গেছে। নির্দিষ্ট আগুনে দূষণের উৎস চিহ্নিত করা, দায়ীদের খুঁজে বের করা এবং আন্তঃসীমান্ত ক্ষতি প্রমাণ করা কঠিন হতে পারে। স্যাটেলাইট হটস্পট একটি সতর্কবার্তা, তবে এটি নিজে থেকে প্রমাণ করে না কে আগুন জ্বালিয়েছে বা কোনো কোম্পানি দায়ী কিনা।
দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জাতিসংস্থার (আসিয়ান) নিয়মকানুন একেবারেই নেই তা নয়। এর ট্রান্সবাউন্ডারি হেজ পল্যুশন চুক্তি ২০০২ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং ২০০৩ সালে কার্যকর হয়েছিল; ইন্দোনেশিয়া ২০১৪ সালে এটি অনুমোদন করে। এই অঞ্চলে একটি ‘হেজ-ফ্রি রোডম্যাপ’ এবং ২০২৩-৩০ সালের জন্য টেকসই পিটল্যান্ড ব্যবস্থাপনার কৌশলও রয়েছে। তবে চুক্তিগুলো ধারাবাহিক বাস্তবায়ন, স্বচ্ছ প্রয়োগ বা প্রতিরোধের জন্য অর্থনৈতিক অনুপ্রেরণার বিকল্প হতে পারে না।
চ্যালেঞ্জ হলো এই প্রতিশ্রুতিগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপে রূপান্তর করা। ধোঁয়াশামুক্ত জমি ব্যবস্থাপনার জন্য এর বিনিয়োগ কাঠামোর লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ১.৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা। কিন্তু খরচ, পরিমাপযোগ্য ফলাফল এবং বারবার আগুন লাগার জন্য দায়বদ্ধতা ছাড়া শুধু অর্থই যথেষ্ট হবে না।
এর মানে এই নয় যে প্রতিটি আগুন বড় কর্পোরেশনের কারণে ঘটে বা কুয়ালালামপুর বা সিঙ্গাপুরের সব দূষণ ইন্দোনেশিয়া থেকেই উৎপন্ন হয়। স্থানীয় নির্গমন এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ, এবং আগুনে কোম্পানি, ক্ষুদ্রচাষি বা অন্যান্য পক্ষ জড়িত থাকতে পারে। দায়বদ্ধতার জন্য তদন্ত প্রয়োজন যা দায়ীদের চিহ্নিত করে এবং প্রমাণিত লঙ্ঘনগুলোকে কেবল সন্দেহ থেকে আলাদা করে। ঢালাও দোষারোপ অপরাধীদের সার্বভৌমত্বের তর্কের আড়ালে লুকিয়ে পড়তে দেয়, অন্যদিকে স্বচ্ছ প্রমাণের অভাব প্রতিবেশীদের মধ্যে বিশ্বাস নষ্ট করে।
দূষণকারীদের ওপর ব্যয় চাপানো
ম্যানিলায় নভেম্বরের শীর্ষ সম্মেলনের আগে আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ধোঁয়াশা সংকট নিয়ে আলোচনা করবেন। তাদের আলোচনা এই অঞ্চলকে কেবল ধোঁয়াশা ব্যবস্থাপনা থেকে প্রতিরোধে স্থানান্তর করে কিনা তা দিয়ে বিচার করা উচিত।
প্রথমত, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পুড়ে যাওয়া এলাকা, আগুনের পুনরাবৃত্তি, ইজারা এবং প্রয়োগের ফলাফলের তুলনামূলক তথ্য প্রকাশ করা উচিত। স্যাটেলাইট তথ্যের সাথে মাঠ পর্যায়ের তদন্ত যাচাই করা উচিত এবং ইজারা মানচিত্র সম্প্রদায় ও স্বাধীন গবেষকদের পরীক্ষার জন্য সহজলভ্য করা উচিত। দ্বিতীয়ত, সরকারগুলোর 'দূষণকারী জরিমানা দিবে' নীতি কার্যকর করা উচিত। পরিবেশগত দায়বদ্ধতা তথ্য-প্রমাণভিত্তিক হতে হবে এবং সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রয়োগ করতে হবে, রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
তৃতীয়ত, প্রতিরোধ অর্থনৈতিকভাবে টেকসই হতে হবে। ক্ষুদ্রচাষিদের সাশ্রয়ী বিকল্পের জন্য যন্ত্রপাতি, কারিগরি সহায়তা, ঋণ এবং বাজারে প্রবেশাধিকার প্রয়োজন। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পরে সাময়িক বাজেটের চেয়ে শুষ্ক মৌসুমের আগেই পিটল্যান্ড পুনরায় ভেজানো, ফায়ারব্রেক এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক নজরদারির জন্য অর্থের পূর্বাভাস থাকা প্রয়োজন।
সর্বশেষ, ২০৩০ সালের মধ্যে ধোঁয়াশামুক্ত করতে একটি আঞ্চলিক স্কোরকার্ড আসিয়ানের প্রকাশ করা উচিত। এটি কেবল হটস্পট এবং পুড়ে যাওয়া জমি নয়, বরং বারবার ঘটা আগুন, প্রতিক্রিয়ার সময়, আইন প্রয়োগ, পিটল্যান্ড পুনরুদ্ধার, স্কুল বন্ধ হওয়া এবং বিপজ্জনক বাতাসে জনসংখ্যার ঝুঁকিও ট্র্যাক করা উচিত।
বিগত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আসিয়ানের চুক্তি, কৌশল ও রোডম্যাপ রয়েছে। ধোঁয়াশার প্রত্যাবর্তন এসব প্রচেষ্টাকে অর্থহীন করে তোলে না; এটি দেখায় যে প্রতিরোধ এখনও অপর্যাপ্ত। নেতারা যদি কোনো স্বচ্ছ সমীক্ষা, বিশ্বাসযোগ্য প্রয়োগ এবং বিকল্পের জন্য অর্থায়ন ছাড়াই নভেম্বরের বৈঠক শেষ করেন, তবে এই অঞ্চল আবারও মূল কারণগুলো বজায় রেখে কেবল উপসর্গের চিকিৎসা করবে।
লেখক পরিচিতি
রনি পি সাসমিতা ইন্দোনেশিয়া স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইকোনমিকস অ্যাকশন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক।





