logo

শ্রমিকদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে অস্থিরতা সৃষ্টির প্রমাণ পাওয়া গেছে: মাহদী আমিন

শ্রমিকদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে অস্থিরতা সৃষ্টির প্রমাণ পাওয়া গেছে: মাহদী আমিন
প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। ছবি: বাসস

শ্রমিকদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, ‘সহিংসতা, ভাঙচুর ও নাশকতায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে। শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা সফল হবে না।’

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

ওই পোস্টে মাহদী আমি লিখেছেন, ‘পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগের মধ্যেই একটি মহল শিল্প খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে তাদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে পলাতক অপশক্তির অস্থিরতা সৃষ্টির তথ্যপ্রমাণ ইতোমধ্যে উঠে এসেছে।’

পোস্টে মাহদী আমিন লেখেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি গঠনমূলক ও বহুমাত্রিক আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের একটি ন্যায়সঙ্গত, যৌক্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত হবে। তবে উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, যথাসময়ে মজুরি নির্ধারণের ইতিবাচক উদ্যোগের পরও একটি চিহ্নিত মহল গার্মেন্টস শিল্পকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।’

তিনি লেখেন, ‘শ্রমিকদের বেতনের দাবিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। কারখানায় আক্রমণ ও আগুন দেওয়া, পুলিশের গাড়ি ও বক্সে ভাঙচুর কিংবা যানবাহন ও স্থাপনায় হামলার মতো স্পর্শকাতর কর্মকাণ্ড শ্রমিকদের স্বার্থের পরিপন্থি। কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, গুজব কিংবা উসকানিতে পা দেওয়া যাবে না। পোশাকশিল্প আর পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা বিবেচনায় শ্রমিকদের যৌক্তিক ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার পাশে থাকবে। কারণ, এ শিল্পের সঙ্গে মানুষের জীবন-জীবিকা, কর্মসংস্থান ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি জড়িত।’

কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ হয়ে গেলে শ্রমিকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে মন্তব্য করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ‘এতে বেকারত্ব বাড়বে, রপ্তানি আয় কমবে ও দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সন্ত্রাস, ভাঙচুর ও শিল্প ধ্বংসের সুযোগ দেওয়া যাবে না।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের অস্থিতিশীলতা তৈরির পরিকল্পনা সফল হবে না। সহিংসতা, ভাঙচুর ও নাশকতায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

একই সঙ্গে শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানোর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।

মাহদী আমিন জানান, শ্রমিকদের ন্যায্য ও প্রাপ্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পের সক্ষমতা, উৎপাদন ব্যয়, অন্যান্য খাতের বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে। এ লক্ষ্যে মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

মাহদী আমিন আরও লেখেন, ‘পোশাকশিল্পের সঙ্গে লাখ লাখ শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরবরাহব্যবস্থা এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি জড়িত। তাই মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।’

তবে ফেসবুক পোস্টে এসব তথ্যপ্রমাণের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করেননি মাহদী আমিন।

নূর মামুন

সম্পাদনা

নূর মামুন

জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক | এশিয়া পোস্ট