Advertisement

ভাষার কারণে কারও গায়ে হাত তোলা যাবে না: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ভাষার কারণে কারও গায়ে হাত তোলা যাবে না: ব্যারিস্টার ফুয়াদ
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। ছবি : সংগৃহীত

ভাষার কারণে কারও গায়ে হাত তোলা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশনের এক টক শোতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘আমাদের যেখানে একমত হওয়া দরকার, সেটা হচ্ছে, রাজনৈতিক ভাষা বা শব্দচয়নে আমাদের দায়িত্ববোধ যেমন দরকার, তেমনি ভাষার কারণে কারও গায়ে হাত তোলা যাবে না। ‘তবে কিন্তু যদি’ ছাড়া, কোনো কারণ ছাড়াই এটা আমাদের সহ্য করতে পারতে হবে।’

তিনি বলেন, হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাদের ওপর ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীর সন্ত্রাসী হামলায় অনেক নেতা গুরুত্বর আহত হয়েছেন। সাইবার সিকিউরিটি আইনে এর স্পষ্ট সীমা নির্ধারণ করা আছে। কথা যদি সহিংসতা উসকে দেয়, দাঙ্গা সৃষ্টি করে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ব্যাহত করে, তবেই তা অপরাধ বলে গণ্য হবে। তা না হলে কোনো কটূক্তি বা অসৌজন্যমূলক বক্তব্যকে বড়জোর অভদ্রতা বলা যায়; এটি আইনের বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও আলোচনার মাধ্যমে সামলানোর বিষয়।’

‘কারও দলীয় কর্মসূচি পছন্দ না হলেই কাউকে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে না দেওয়া কিংবা শক্তির মহড়া দেওয়া গণতন্ত্র হতে পারে না। শক্তির প্রদর্শন নয়, বরং শক্তিকে সংবরণ করার নামই গণতন্ত্র।’

পরামর্শ দিতে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের বিকল্প তৈরি করতে হলে ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তিদের ঐক্যবদ্ধ লড়াই ও গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা কী ধরনের শাসনব্যবস্থা চেয়েছি, তা নিজেদের বোঝাপড়ার মাধ্যমে ঠিক করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এক ফ্যাসিবাদী পরিবেশে বেড়ে ওঠা তরুণরা মতপ্রকাশের সঠিক চর্চা দেখেনি। এ জন্য তাদের অনলাইনের ভাষার আক্রমণকে কেবল 'অপরাধ' হিসেবে গণ্য করে পিটিয়ে ঠিক করা যাবে না। তাতে ক্ষোভ আরও বাড়বে। এটিকে সংস্কৃতি, রাজনৈতিক অভিভাবকত্ব এবং বন্ধুভাবাপন্ন আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করতে হবে।’

ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক ভাষা প্রয়োগে দায়িত্ববোধ থাকা প্রয়োজন, তেমনি কোনো কথার জবাবে কারও গায়ে হাত তোলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো অহেতুক অজুহাত ছাড়া পরমতকে সহ্য করাই হলো প্রকৃত গণতন্ত্র। আর এই সহনশীলতার দায়িত্ব সরকারের পদে কিংবা ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের পক্ষেই সবসময় বেশি হওয়া উচিত।’