
ছোট পুঁজি নিয়েও পাকিস্তানকে হারিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গুরুত্বপূর্ণ জয় পেল বাংলাদেশ। সাউদাম্পটনের রোজ বোলে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১২৩ রান তোলে নিগার সুলতানার দল। জবাবে পাকিস্তান থামে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১০০ রানে। বাংলাদেশ পায় ২৩ রানের।
বাংলাদেশের জয়ের বড় নায়ক স্বর্ণা আক্তার। ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে শেষ দিকে তার ২২ বলে অপরাজিত ৩৯ রানের ইনিংসই বাংলাদেশকে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দেয়। ইনিংসে ছিল ৫টি চার, স্ট্রাইক রেট ১৭৭.২৭। পরে বল হাতে নাহিদা আক্তার ও সানজিদা আক্তার মেঘলার স্পিনে পথ হারায় পাকিস্তান। ম্যাচসেরাও হয়েছেন স্বর্ণা।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ১.৫ ওভারে ৫ রানেই ফিরে যান দিলারা আক্তার ও শারমিন আক্তার। দিলারা করেন ৫, শারমিন ফেরেন শূন্য রানে। ৪.৩ ওভারে জুয়াইরিয়া ফেরদৌসও ৭ রানে আউট হলে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ১৩/৩।
সেখান থেকে ইনিংস সামলান অধিনায়ক নিগার সুলতানা ও সোবহানা মোস্তারি। সোবহানা ১৯ বলে ২২ রান করেন ৩টি চারে। নিগার খেলেন ৩৮ বলে ৩৬ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস, তার ব্যাটে ছিল ৫টি চার। এই জুটিই বাংলাদেশকে বড় বিপর্যয় থেকে ফেরায়।
তবে মাঝের ওভারে আবার ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। রিতু মনি ৭ রানে আউট হন। ১৭.২ ওভারে নিগার ফিরলে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৯২/৬। তখনও মনে হচ্ছিল রান ১১০-এর কাছাকাছি থেমে যেতে পারে। কিন্তু শেষ দিকে স্বর্ণা ব্যাটে বদলে যায় ইনিংসের চেহারা।
স্বর্ণা আক্তার দ্রুত রান তুলে বাংলাদেশকে ১২৩/৬ পর্যন্ত নিয়ে যান। রাবেয়া খান ৪ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত এই অতিরিক্ত ২৫-৩০ রানই ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেয়।
পাকিস্তানের হয়ে ফাতিমা সানা ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। সাদিয়া ইকবাল, তাসমিয়া রুবাব, নাশরা সান্ধু ও তুবা হাসান নেন একটি করে উইকেট। নাশরা ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিলেও শেষ দিকে শর্ণাকে আটকাতে পারেনি পাকিস্তান।
১২৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা ছিল ভালো। মুনিবা আলী ও গুল ফিরোজা পাওয়ারপ্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪১ রান তোলেন। গুল ফিরোজা ১৮ বলে ২৩ রান করেন, মুনিবা করেন ৩০ বলে ২৫। প্রথম ৭ ওভার পর্যন্ত ম্যাচে পাকিস্তানই এগিয়ে ছিল।
কিন্তু ৭.৩ ওভারে গুল ফিরোজাকে ফিরিয়ে ব্রেকথ্রু এনে দেন নাহিদা আক্তার। এরপর ৯.২ ওভারে মুনিবাকেও আউট করেন তিনি। ওপেনিং জুটি ভাঙতেই পাকিস্তানের ইনিংসে চাপ বাড়তে থাকে।
১১.২ ওভারে আয়েশা জাফরকে এলবিডব্লিউ করেন সানজিদা আক্তার মেঘলা। তিন বল পর আলিয়া রিয়াজকে বোল্ড করে পাকিস্তানকে আরও চাপে ফেলেন তিনি। ৭০ রানে ২ উইকেট থেকে পাকিস্তান মুহূর্তেই নেমে যায় ৭০/৪-এ।
এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তান। ১৪.২ ওভারে ইরাম জাভেদকে ফেরান রাবেয়া খান। ১৫.৩ ওভারে সাইরা জাবিনকে আউট করেন মেঘলা। ১৬.২ ওভারে তুবা হাসানকে এলবিডব্লিউ করেন রিতু মনি। ১৭.১ ওভারে পাকিস্তান অধিনায়ক ফাতিমা সানাকে ফেরান নাহিদা। তখন পাকিস্তানের স্কোর ৮৪/৮।
শেষ দিকে নাশরা সান্ধু ও তাসমিয়া রুবাব আর উইকেট পড়তে দেননি, কিন্তু ম্যাচে ফেরার মতো রানও তুলতে পারেননি। নাশরা ১০ বলে ৯ রানে অপরাজিত থাকেন, তাসমিয়া ৯ বলে ৭ রানে। পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হয় ১০০/৮-এ।
বাংলাদেশের হয়ে নাহিদা ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। মেঘলা ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে ৩ উইকেট। রাবেয়া ৪ ওভারে ১৭ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন। রিতু মনি ২৪ রানে নেন ১ উইকেট। মারুফা আক্তার উইকেট না পেলেও ৪ ওভারে ১ মেডেনসহ মাত্র ১৮ রান দিয়ে চাপ ধরে রাখেন।