সাত উইকেট হারিয়েও বৃষ্টিতে রক্ষা ভারতের

জয়ের জন্য প্রয়োজন মাত্র ২২ রান, হাতে তখনো তিন উইকেট। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের পেসারদের দাপটে সেই রান তোলাও কঠিন হয়ে উঠেছিল ভারতের জন্য। ১৩৫ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তখন রীতিমতো বিপর্যস্ত শুভমান গিলের দল। এমন সময় ওয়েলিংটনের আকাশ থেকে নামে বৃষ্টি। বন্ধ হয়ে যায় খেলা। শেষ পর্যন্ত আর মাঠে গড়ায়নি একটি বলও। তবে সেই বৃষ্টিই স্বস্তি এনে দিল ভারতীয় শিবিরে। ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতির হিসাবে চার রানে এগিয়ে থাকায় জয় পেয়ে যায় সফরকারীরা। তাতে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ওয়েলিংটনের এইচএনআরওয়াই স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয় ভারত ও নিউজিল্যান্ড। বৃষ্টির কারণে দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে ৪৭ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। টস জিতে স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ে পাঠান ভারত অধিনায়ক শুভমান গিল। পেসারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৪১ ওভারে মাত্র ১৩৪ রানেই নিউজিল্যান্ডকে অলআউট করে দেয় ভারত।
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও অবশ্য সহজ জয় পায়নি সফরকারীরা। শুরু থেকেই নিউজিল্যান্ডের পেসারদের সামনে বিপাকে পড়ে ভারত। নিজের প্রথম বলেই অধিনায়ক গিলকে ফিরিয়ে দেন জ্যাকব ডাফি। কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন ভারতীয় অধিনায়ক।
এরপর ডাফির দ্বিতীয় ওভারেই ফিরে যান বিরাট কোহলি। ৭ বলে ৭ রান করে বিদায় নেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। আগের ম্যাচে ৭৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে ভারতকে জিতিয়েছিলেন কোহলি। তবে এবার দলকে উদ্ধার করতে পারেননি তিনি।
অন্য প্রান্তে রোহিত শর্মা কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করেন। দুটি চার ও দুটি ছক্কায় ২৮ বলে ২৩ রান করেন তিনি। কিন্তু কাইল জেমিসনের বলে হেনরি নিকোলসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান এই ওপেনার।
এরপর অক্ষর প্যাটেলও ব্যর্থ হন। মাত্র ৭ রান করে ম্যাথিউ ফিশারের শিকার হন তিনি। ৪৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে ভারত।
সেই পরিস্থিতি থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন শ্রেয়াস আইয়ার ও লোকেশ রাহুল। পঞ্চম উইকেটে দুজন যোগ করেন ৩৯ রান। বিশেষ করে আইয়ারের ৪৬ বলে ৩০ রানের ইনিংস ভারতকে ম্যাচে ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে সেই জুটিও ভেঙে দেন জেমিসন। তার বলে টম ল্যাথামের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান আইয়ার। এরপর নামান ধির ১৬ বলে ১২ রান করলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ডাফির বলে টিম সেইফার্টের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। অংশুল কাম্বোজও মাত্র ১ রান করে জেমিসনের শিকার হন।
অন্য প্রান্তে সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মধ্যেও লড়াই চালিয়ে যান রাহুল। ৩৮ বলে দুটি চার ও দুটি ছক্কায় ২৬ রান করে অপরাজিত থাকেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। তার সঙ্গে ১ রানে অপরাজিত ছিলেন আকিব নবী।
ইনিংসের ২৬ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১১৩ রান। জিততে তখনো প্রয়োজন ২২ রান। এমন পরিস্থিতিতেই আবার বৃষ্টি শুরু হয়। মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন দুই দলের ক্রিকেটাররা।
দীর্ঘ অপেক্ষার পরও আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়ায় আর খেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত ডিএলএস পদ্ধতিতে ফল নির্ধারণ করেন ম্যাচ কর্মকর্তারা।
বৃষ্টি নামার সময় ২৬ ওভারে ৭ উইকেট হারানো ভারতের জন্য ডিএলএস পার স্কোর ছিল ১০৯ রান। সেখানে সফরকারীদের সংগ্রহ ছিল ১১৩। ফলে চার রানে জয় পায় ভারত। লক্ষ্য পূরণ না করেও স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে গিলের দল।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে জেমিসন ও ডাফি তিনটি করে উইকেট নেন। দুজনই খরচ করেন ৩৫ রান। এ ছাড়া একটি উইকেট নেন ম্যাথিউ ফিশার।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারতীয় পেসারদের তোপের মুখে পড়ে নিউজিল্যান্ড। শুরুতেই দুই ওপেনার টিম সেইফার্ট ও উইল ইয়ংকে ফিরিয়ে দেন আকিব নবী। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম উইকেট হিসেবে সেইফার্টকে শিকার করেন এই পেসার। এরপর ৬ রান করা ইয়ংকেও ফেরান তিনি।
দলীয় ১১ রানে দুই উইকেট হারানোর পর অংশুল কাম্বোজের বলে বোল্ড হন হেনরি নিকোলস। মাত্র ২৩ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা।
এরপর নিউজিল্যান্ডের মিডল অর্ডারে বড় আঘাত হানেন গুরনুর ব্রার। একই ওভারে টম ল্যাথাম ও গ্লেন ফিলিপসকে ফিরিয়ে স্বাগতিকদের বিপর্যয় আরও বাড়িয়ে দেন এই পেসার। ৫৩ রানেই ৫ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড।
সেই বিপদ থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন ড্যারিল মিচেল ও অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। ষষ্ঠ উইকেটে দুজন যোগ করেন ৫৯ রান। মিচেল ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ১০৪ বলে পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কায় ৫৫ রান করেন। অন্যদিকে ৩৮ বলে ৩১ রান আসে স্যান্টনারের ব্যাট থেকে।
তবে তাদের প্রচেষ্টাও নিউজিল্যান্ডকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেনি। অক্ষর প্যাটেলের বলে মিচেল ফিরে যাওয়ার পর দ্রুতই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস।
ভারতের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন গুরনুর ব্রার। ১০ ওভারে মাত্র ৩০ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন তিনি। এটি ওয়ানডে ক্রিকেটে তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। এমন পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান এই পেসার।
এ ছাড়া আকিব নবী ৩১ রানে, অংশুল কাম্বোজ ২৫ রানে এবং অক্ষর প্যাটেল ২৮ রানে দুটি করে উইকেট নেন। আর্শদীপ সিং কোনো উইকেট না পেলেও ৭ ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ ধরে রাখেন।
শেষ পর্যন্ত ৪১ ওভারে ১৩৪ রানেই গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। ভারতের সামনে দাঁড়ায় ১৩৫ রানের লক্ষ্য। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণ না করেও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছে সফরকারীরা।
এর আগে গত বুধবার অকল্যান্ডে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেও বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে জয় পেয়েছিল ভারত। সেই ম্যাচে ডিএলএস পদ্ধতিতে পাঁচ উইকেটে জিতেছিল গিলের দল। এবার আরও একবার বৃষ্টির হিসাবেই হাসল সফরকারীরা।
টানা দুই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। আগামী মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) হ্যামিল্টনে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল। সেই ম্যাচ জিতলেই সিরিজ নিশ্চিত করবে ভারত।


