এক ইনিংসে তিন সেঞ্চুরি, আফগানদের ব্যাটিংয়ে রেকর্ডের ছড়াছড়ি

এক ইনিংসে তিন ব্যাটারের সেঞ্চুরি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শারজাহ টেস্টে ব্যাট হাতে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ছে আফগানিস্তান। আগের দিন সেদিকুল্লাহ আতাল ও অভিষিক্ত রহমানুল্লাহ জাদরানের শতকের পর এবার তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছেছেন রহমত শাহ। এর মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ পাঁচ সেঞ্চুরির মালিক হয়েছেন এই অধিনায়ক। তিন ব্যাটারের শতকে জিম্বাবুয়ের পাহাড়সম সংগ্রহের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে আফগানরা।
রোববার (৮ নভেম্বর) শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিনে নিজের শতক পূর্ণ করেন রহমত। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ৯৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। দিনের শুরুতে আরও ছয় রান যোগ করে ক্যারিয়ারের পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন আফগান অধিনায়ক।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রথম ইনিংসে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৪১৪ রান। ২১৩ বলে ৯টি চার ও একটি ছক্কায় ১০৪ রানে অপরাজিত রহমত। অন্য প্রান্তে ২ রান নিয়ে তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন জিয়া-উর-রহমান আকবর। জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংসের ৫০৪ রান থেকে এখনো ৯০ রানে পিছিয়ে আফগানরা।
এর আগে শনিবার তৃতীয় দিনে সেঞ্চুরি করেছিলেন আতাল ও রহমানুল্লাহ। ২১৩ বলে ছয়টি চার ও তিনটি ছক্কায় ১০৫ রান করেন আতাল। অন্যদিকে অভিষেক টেস্টেই দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের নজির গড়েন রহমানুল্লাহ। ১৮৮ বলে ১২টি চার ও একটি ছক্কায় ১১৩ রান করেন এই তরুণ ব্যাটার।
দ্বিতীয় উইকেটে দুজন গড়েন ২০৬ রানের জুটি, যা টেস্ট ক্রিকেটে আফগানিস্তানের দ্বিতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি। আগের রেকর্ডটি ছিল ১৩৯ রানের। ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সেই জুটি গড়েছিলেন ইহসানুল্লাহ ও রহমত শাহ।
শুধু তা-ই নয়, আফগানিস্তানের টেস্ট ইতিহাসে সব উইকেট মিলিয়ে এটি চতুর্থ দুই শতাধিক রানের জুটি। মজার ব্যাপার হলো, আফগানদের আগের তিনটি দুই শতাধিক রানের জুটিও এসেছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।
অভিষেকে সেঞ্চুরি করে আরও একটি রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন রহমানুল্লাহ। আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে অভিষেক টেস্টে শতক করেছেন তিনি। এর আগে ২০২৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বুলাওয়েতে অভিষেকে ১০১ রান করেছিলেন ইসমত আলম। এবার তাকে ছাড়িয়ে অভিষেক টেস্টে দেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড গড়েছেন রহমানুল্লাহ।
অন্যদিকে আতালের জন্যও এই শতক বিশেষ কিছু। বাংলাদেশের বিপক্ষে আগের টেস্টেও সেঞ্চুরি করেছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ফলে টানা দুই টেস্টে শতক করার কীর্তি গড়েছেন তিনি।
অবশ্য দুই সেঞ্চুরির পরও তৃতীয় দিনে কিছুটা চাপে পড়েছিল আফগানিস্তান। ২২০ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পর ২৭৫ রানের মধ্যেই পাঁচ উইকেট পড়ে যায়। সেখান থেকে রহমত শাহ দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলের ইনিংস এগিয়ে নেন।
ইকরাম আলিখিলের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে ৬৫ এবং কায়েস আহমেদের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে আরও ৫৫ রান যোগ করেন রহমত। ইকরাম ৪০ ও কায়েস ২৭ রান করে ফিরে গেলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে শতকের দিকে এগিয়ে যান আফগান অধিনায়ক।
জিম্বাবুয়ের হয়ে এখন পর্যন্ত চার উইকেট নিয়েছেন নিউম্যান নিয়ামহুরি। গ্রায়েম ক্রেমার পেয়েছেন দুটি উইকেট।
এক ইনিংসে তিন সেঞ্চুরির ঘটনা অবশ্য আফগানিস্তানের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম নয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই বুলাওয়ে টেস্টে ৬৯৯ রান করেছিল আফগানরা। সেই ইনিংসে রহমত শাহ ২৩৪, হাশমতউল্লাহ শাহিদি ২৪৬ এবং আফসার জাজাই ১১৩ রান করেছিলেন।
এখনো পর্যন্ত সেটিই আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ টেস্ট সংগ্রহ। এবারও একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তিন ব্যাটারের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের দিকে এগোচ্ছে আফগানিস্তান।
এই ম্যাচে অবশ্য সেঞ্চুরির উৎসব শুরু হয়েছিল জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের হাতেই। প্রথম ইনিংসে ব্রেন্ডন টেলর ১৩১ ও অধিনায়ক ব্রায়ান বেনেট ১২৮ রান করেছিলেন। ফলে দুই দলের প্রথম ইনিংস মিলিয়ে ইতোমধ্যে পাঁচজন ব্যাটার শতক পেয়েছেন।
জিম্বাবুয়ের বড় সংগ্রহের জবাবে শুরুতে চাপে পড়লেও এখন লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করছে আফগানিস্তান। বিশেষ করে রহমতের নেতৃত্বে তিন ব্যাটারের শতক আফগানদের বড় আশার জায়গা। এখন দেখার বিষয়, প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়ের ৫০৪ রান টপকে যেতে পারে কি না তারা।


