হারলে অনেকে উল্টোপাল্টা কথা বলত, সেই সুযোগ দিইনি: মেসি

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
হারলে অনেকে উল্টোপাল্টা কথা বলত, সেই সুযোগ দিইনি: মেসি
লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি লিওনেল মেসির কাছে শুধুই বিশ্বকাপের আরেকটি সেমিফাইনাল ছিল না। আর্জেন্টাইনদের কাছে প্রতিপক্ষটির ঐতিহাসিক গুরুত্বও তার অজানা নয়। তাই পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলের জয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর আবেগ লুকাননি আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে মেসি জানান, মাঠে প্রবেশ ও জাতীয় সংগীতের সময় থেকেই দলের খেলোয়াড়েরা বিশেষ এক অনুভূতি টের পেয়েছিলেন। আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে ম্যাচটির গুরুত্ব তারা জানতেন।

মেসি বলেন, 'এটি আর দশটি জয়ের মতো ছিল না। আর্জেন্টিনার মানুষ জয়টি চেয়েছিল, খেলোয়াড়েরাও চেয়েছিলেন। সেই জয় তাদের আরও একটি বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছে।'

অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে দ্বিতীয়ার্ধে পিছিয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। এরপর মেসির দুটি অ্যাসিস্ট থেকে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ। দলের ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক।

মেসির ভাষায়, কঠিন পরিস্থিতিতেও দলটি বিশ্বাস হারায়নি। নিজেদের খেলার ধরন ধরে রেখে ইংল্যান্ডকে তাদের অর্ধে চেপে ধরেছিল আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত সেখান থেকেই এসেছে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন।

টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠাকে বিরল অর্জন হিসেবেও দেখছেন মেসি। সমালোচকদের উদ্দেশে তার বার্তা, গত চার বছর ধরে আর্জেন্টিনা বিশ্বের সেরা দলগুলোর একটি। আবারও বিশ্বের সেরা দুই দলের মধ্যে জায়গা করে নেওয়া প্রমাণ করে, আগের সাফল্যগুলো আকস্মিক ছিল না এবং কেউ তাদের কিছু উপহারও দেয়নি।

ইংল্যান্ডের কাছে হারলে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হতে পারত, সেটিও জানতেন মেসি। তিনি বলেন, 'ম্যাচটি আমরা হারতে পারতাম না। আর্জেন্টিনায় সব সময়ই দলের কাছে আরও বেশি প্রত্যাশা করা হয়। হারলে অনেকে উল্টোপাল্টা কথা বলত, কিন্তু সেই সুযোগ আমরা দেইনি।’

ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ স্পেন। দলটির খেলার দর্শন ও অধিকাংশ ফুটবলার সম্পর্কে ভালো ধারণা রয়েছে বার্সেলোনার সাবেক অধিনায়কের। তার মতে, দুই দলের সামর্থ্য কাছাকাছি হওয়ায় ফাইনালটি খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।

২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য নিজের দীর্ঘ প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন মেসি। গত এক বছর ধরে কোচ লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে আলোচনা করে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন তিনি। এমনকি আর্জেন্টিনায় ছুটি কাটানোর সময়ও সকাল-বিকেল অনুশীলন করেছেন। আগের কোপা আমেরিকায় চোটের কারণে নিজের সেরা অবস্থায় না থাকায় এবার শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে বিশ্বকাপ উপভোগ করাই ছিল তাঁর লক্ষ্য।

শেষে জয়টি আর্জেন্টিনার মানুষকে উৎসর্গ করেন মেসি। দেশের অর্থনৈতিক ও দৈনন্দিন সংকটের মধ্যে ফুটবল কিছু সময়ের জন্য মানুষকে আনন্দ এবং কষ্ট ভুলে থাকার সুযোগ দেয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এবার সেই মানুষদের আরও একবার বিশ্বকাপের ফাইনালের আনন্দ উপহার দিতে পেরেই সবচেয়ে বেশি তৃপ্ত আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।