সুইডেনকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে ঘুরে দাঁড়াল নেদারল্যান্ডস

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
সুইডেনকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে ঘুরে দাঁড়াল নেদারল্যান্ডস
ম্যাচে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়েছে ডাচরা। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে লিড হারিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছিল নেদারল্যান্ডস। আর সুইডেন এসেছিল তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার আত্মবিশ্বাস নিয়ে। হিউস্টনে সেই হিসাবটাই উল্টে দিল ডাচরা। ব্রায়ান ব্রোবি ও কোডি গাকপোর জোড়া গোলে সুইডেনকে ৫-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ ‘এফ’-এ দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল রোনাল্ড কোমানের দল।

Advertisement

নেদারল্যান্ডসের হয়ে শেষ দিকে গোল করেন ক্রাইসেন্সিও সামারভিল। সুইডেনের একমাত্র গোলটি করেন অ্যান্থনি এলাঙ্গা। আগের ম্যাচে জাপানের সঙ্গে ২-২ ড্র করেছিল নেদারল্যান্ডস। তাই সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল কোমানের দলের জন্য জবাব দেওয়ার সুযোগ। সেই সুযোগে শুরু থেকেই আগ্রাসী রূপে দেখা যায় ডাচদের। একাদশে ব্রোবিকে নামানোর সিদ্ধান্ত ম্যাচের শুরুতেই ফল এনে দেয়।

ম্যাচের শুরু থেকেই সুইডেনকে চাপে রাখে নেদারল্যান্ডস। ব্রোবি নিচে নেমে বল ধরে দুই প্রান্তের গাকপো ও ডনিয়েল মালেনকে জায়গা করে দিচ্ছিলেন। সেই পরিকল্পনাতেই ভেঙে যায় সুইডেনের রক্ষণ। ষষ্ঠ মিনিটেই এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। গাকপোর পাস থেকে ব্রোবি গোল করে শুরু করেন ডাচ উৎসব।

এরপর ১৭ মিনিটে আবারও ব্রোবি। এবার ডান দিক থেকে ডেনজেল ডামফ্রিসের ক্রসে কাছের পোস্টে পা বাড়িয়ে বল জালে পাঠান তিনি। ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। সুইডেন তখন কার্যত দিশেহারা।

সুইডেনের আক্রমণে ছিলেন আলেক্সান্ডার ইসাক ও ভিক্টর ইয়োকেরেস। কিন্তু নেদারল্যান্ডসের হাই প্রেস ও ভার্জিল ফন ডাইক, মিকি ফন দে ফেনদের রক্ষণে শুরুতে তারা খুব বেশি জায়গা পাননি। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে কিছুটা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে গ্রাহাম পটারের দল।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে সুইডেন বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়। এরপর নেদারল্যান্ডস গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেন গুরুত্বপূর্ণ সেভও করেন। তবু বিরতিতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ডাচরা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবার ঝড় তোলে নেদারল্যান্ডস। ৪৭ মিনিটে গাকপো গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন। এরপর ৫৪ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন লিভারপুল ফরোয়ার্ড। দ্রুত আক্রমণে সুইডেনের রক্ষণ ভেঙে কাছের পোস্টে নিখুঁত শটে গোল করেন গাকপো। তখনই ম্যাচ কার্যত শেষ হয়ে যায়।

তবু সুইডেন হাল ছাড়েনি। বদলি হিসেবে নামা অ্যান্থনি এলাঙ্গা ৫৯ মিনিটে একটি গোল শোধ করেন। আয়ারির পাস ধরে একা গোলরক্ষকের সামনে গিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান তিনি। গোলটি সুইডেনকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও ম্যাচে ফেরার মতো ধারাবাহিক চাপ তৈরি করতে পারেনি তারা।

শেষ দিকে ইসাকের একটি শট দুর্দান্তভাবে ঠেকান ভারব্রুগেন। সুইডেন কয়েকটি আক্রমণ করলেও নেদারল্যান্ডসের রক্ষণ আর ভাঙতে পারেনি। বরং ৮৯ মিনিটে নেদারল্যান্ডস আবারও গোল পায়। বদলি হিসেবে নামা সামারভিল বক্সের বাইরে থেকে দারুণ শটে বল জালে পাঠিয়ে স্কোরলাইন করেন ৫-১।

এই জয় নেদারল্যান্ডসকে গ্রুপ ‘এফ’-এ শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেল। দুই ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৪। জাপানের বিপক্ষে ড্রয়ের পর সুইডেনের বিপক্ষে বড় জয় শুধু তিন পয়েন্টই নয়, গোল ব্যবধানেও বড় সুবিধা দিল কোমানের দলকে। শেষ ম্যাচে তারা খেলবে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে।

সুইডেনের জন্য এই হার বড় ধাক্কা। প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে হারিয়ে দারুণ শুরু করেছিল তারা। কিন্তু নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে একই ব্যবধানে হেরে গোল ব্যবধানের সেই সুবিধা অনেকটাই মুছে গেল। শেষ ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে তাদের জন্য এখন চাপ আরও বাড়ল।

নেদারল্যান্ডসের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ব্রোবি ও গাকপোর ফর্ম। ব্রোবি নামার পর ডাচ আক্রমণের ধরন বদলে গেছে। তার শারীরিক উপস্থিতি, বল ধরে রাখা এবং বক্সে অবস্থান সুইডেনের রক্ষণকে বারবার বিপদে ফেলেছে। গাকপোও প্রমাণ করেছেন, বড় মঞ্চে তিনি এখনো নেদারল্যান্ডসের সবচেয়ে কার্যকর আক্রমণ অস্ত্রদের একজন।

মাঝমাঠে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং ও রায়ান গ্রাভেনবার্খ ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। দুই প্রান্তে মালেন ও গাকপো বারবার জায়গা পেয়েছেন। ডামফ্রিসের ওভারল্যাপিংও সুইডেনের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। সব মিলিয়ে আগের ম্যাচের তুলনায় অনেক বেশি সংগঠিত ও ধারালো নেদারল্যান্ডসকে দেখা গেছে।

সুইডেনের জন্য হতাশার জায়গা হলো, তাদের আক্রমণভাগে ইসাক ও ইয়োকেরেস থাকলেও ডাচ রক্ষণকে নিয়মিতভাবে ভাঙতে পারেনি। এলাঙ্গা নামার পর গতি বাড়লেও তখন ম্যাচ প্রায় হাতছাড়া। পটারকে শেষ ম্যাচের আগে রক্ষণ ও মাঝমাঠের ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে ভাবতেই হবে।