হলান্ডদের আগে নিজেদের সংকটই সামলাতে হচ্ছে সেনেগালকে

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
হলান্ডদের আগে নিজেদের সংকটই সামলাতে হচ্ছে সেনেগালকে
সেনেগাল দল। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে নরওয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে মাঠের বাইরের অস্বস্তিতে পড়েছে সেনেগাল। ফ্রান্সের কাছে ৩-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ শুরু করা আফ্রিকান দলটির সামনে এবার আর্লিং হলান্ডের নরওয়ে। কিন্তু সেই ম্যাচের প্রস্তুতির মাঝেই সামনে এসেছে বোনাস বকেয়া, হোটেল-খাবার নিয়ে অসন্তোষ এবং কোচ পাপে থিয়াওয়ের চুক্তি-সংক্রান্ত জটিলতার খবর।

Advertisement

আফ্রিকান সংবাদমাধ্যম স্পোর্ট নিউজ আফ্রিকার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সেনেগাল শিবিরে অসন্তোষের কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে একটি বড় অভিযোগ খেলোয়াড়দের বোনাস নিয়ে। আফ্রিকা কাপ অব নেশনস এবং বিশ্বকাপ বাছাই-সংক্রান্ত বোনাস এখনো পুরোপুরি খেলোয়াড়দের কাছে পৌঁছায়নি বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বোনাস বিতর্কের পাশাপাশি দলীয় লজিস্টিক নিয়েও অসন্তোষের কথা এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনেগাল দলের বেস ক্যাম্পের হোটেল ও খাবারের মান নিয়ে খেলোয়াড়দের একাংশ সন্তুষ্ট নন। উচ্চ পর্যায়ের খেলাধুলার জন্য খাবারের মান যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন কেউ কেউ। এমনকি কিছু খেলোয়াড় নাকি নিজেদের ডায়েট ঠিক রাখতে হোটেলের বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করছিলেন।

সবচেয়ে অস্বস্তিকর খবর কোচ পাপে থিয়াওকে ঘিরে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, থিয়াও কয়েক মাস ধরে বেতন পাননি এবং তার চুক্তির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। অর্থাৎ বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে সেনেগাল এমন একজন কোচের অধীনে খেলছে বলে দাবি করা হচ্ছে, যার ভবিষ্যৎই আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট নয়।

এই অভিযোগগুলো এখনো সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন প্রকাশ্যে বিস্তারিতভাবে খণ্ডন বা ব্যাখ্যা করেছে কি না, তা পরিষ্কার নয়। তাই পুরো বিষয়টিই আপাতত প্রতিবেদনভিত্তিক অভিযোগ হিসেবে দেখাই নিরাপদ। তবে সময়টা সেনেগালের জন্য মোটেও স্বস্তির নয়। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে মাঠের বাইরের এই খবর দলকে বাড়তি চাপে ফেলতেই পারে।

মাঠের পরিস্থিতিও সেনেগালের জন্য সহজ নয়। প্রথম ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে তারা শুরুতে ভালো লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে হারে। কিলিয়ান এমবাপ্পের দুই গোল ও ব্র্যাডলি বারকোলার গোলে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নেয় ফ্রান্স। সেনেগালের হয়ে ইব্রাহিম এমবায়ে শেষ দিকে গোল করলেও সেটি কেবল ব্যবধান কমিয়েছে।

ফ্রান্স ম্যাচের পর থিয়াও বলেছিলেন, তাঁর দলকে আরও আগ্রাসী ও কার্যকর হতে হবে। বিশেষ করে আক্রমণে সুযোগ কাজে লাগানো এবং রক্ষণে মনোযোগ ধরে রাখা জরুরি। কিন্তু নরওয়ে ম্যাচের আগে প্রশ্ন এখন শুধু কৌশল নিয়ে নয়। দলের মনোযোগ, শিবিরের পরিবেশ এবং খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থাও বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নরওয়ের বিপক্ষে সেনেগালের কাজ আরও কঠিন, কারণ প্রথম ম্যাচে নরওয়ে ইরাককে ৪-১ গোলে হারিয়েছে। আর্লিং হালান্ড করেছেন জোড়া গোল। তাঁর শারীরিক শক্তি, গতি ও ফিনিশিং সামলানোই থিয়াওয়ের দলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ফ্রান্স ম্যাচে কালিদু কুলিবালির রক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। নরওয়ের বিপক্ষে তাঁকে রাখা হবে, নাকি তরুণ মামাদু সারকে সুযোগ দেওয়া হবে, সেটিও ভাবতে হচ্ছে কোচকে।

সেনেগালের আক্রমণে সাদিও মানে, নিকোলাস জ্যাকসন ও ইসমাইলা সারদের মতো খেলোয়াড় আছে। কিন্তু ফ্রান্সের বিপক্ষে সুযোগ তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হাতছাড়া করেছে তারা। নরওয়ের বিপক্ষে জয় না পেলে শেষ ৩২-এর পথ আরও কঠিন হয়ে যাবে। নতুন ৪৮ দলের বিশ্বকাপ ফরম্যাটে সেরা তৃতীয় দলের সুযোগ থাকলেও, দুই ম্যাচে কম পয়েন্টে আটকে গেলে অন্য গ্রুপের ফলের ওপর নির্ভর করতে হবে।