বিদায়ের পর সংবাদ সম্মেলনেই বাবার মৃত্যুর খবর পেলেন কঙ্গো কোচ

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের কষ্ট তখনো তাজা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াই করেও ২-১ গোলে হেরে গেছে কঙ্গো। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলছিলেন কোচ সেবাস্তিয়েন দেজাব্রে। সেখানেই শেষ মুহূর্তে পেলেন আরও বড় ব্যক্তিগত দুঃসংবাদ।
কঙ্গো দলের প্রেস অফিসার সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে জানান, দেজাব্রে তার বাবাকে হারিয়েছেন। খবরটি শোনার পর ফরাসি কোচের মুখে শোক ও বিস্ময়ের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নিজেকে সামলে তিনি শুধু উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। এরপর সংবাদ সম্মেলন শেষ করে কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান।
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে শেষ ৩২-এর ম্যাচে ইংল্যান্ডকে দীর্ঘ সময় চাপে রেখেছিল ডিআর কঙ্গো। সপ্তম মিনিটে ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে এগিয়ে গিয়ে বড় অঘটনের স্বপ্নও দেখিয়েছিল তারা। কিন্তু শেষ ১৫ মিনিটে হ্যারি কেইনের জোড়া গোল ম্যাচের ফল বদলে দেয়। ৭৫ মিনিটে সমতা ফেরানোর পর ৮৬ মিনিটে জয়সূচক গোল করেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
হারের পরও নিজের দলের পারফরম্যান্সে গর্বের কথা বলেছিলেন দেজাব্রে। তার মতে, কঙ্গো বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ফুটবলের ইতিবাচক ছবি তুলে ধরেছে। র্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ডকে তারা অস্বস্তিতে ফেলেছিল, নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছিল এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচে ছিল।
দেজাব্রে বলেন, ইংল্যান্ডকে ম্যাচে ফিরতে বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকারদের একজনের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। তার দল মাঠের প্রস্থ ব্যবহার করে আক্রমণের চেষ্টা করেছে, মাঝমাঠের পথ বন্ধ রাখতে চেয়েছে এবং ইংল্যান্ডের বিল্ড-আপ কঠিন করে তুলেছিল। শেষ পর্যন্ত ফল পক্ষে না এলেও কঙ্গোর লড়াইকে তিনি অগ্রগতির প্রমাণ হিসেবেই দেখেন।
এই বিশ্বকাপ কঙ্গোর জন্য ছিল ঐতিহাসিক। ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলেছে তারা। সেবার দেশটির নাম ছিল জাইর। এবার গ্রুপ পর্বে পর্তুগালের সঙ্গে ড্র, উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয় এবং শেষ ৩২-এ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াই, সব মিলিয়ে কঙ্গোলিজ ফুটবল নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
কিন্তু সেই গর্বের রাতই দেজাব্রের জন্য হয়ে গেল শোকের রাত। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চেই তাকে শুনতে হলো বাবাকে হারানোর খবর। ম্যাচের কষ্টের সঙ্গে ব্যক্তিগত শোক মিশে মুহূর্তটি হয়ে উঠল এই বিশ্বকাপের অন্যতম আবেগঘন দৃশ্য।
ফুটবল কখনো শুধু স্কোরলাইন নয়। কখনো ম্যাচের শেষে মাঠের বাইরের জীবনই বড় হয়ে ওঠে। দেজাব্রের নীরব প্রতিক্রিয়া, ছোট্ট ধন্যবাদ আর দ্রুত বেরিয়ে যাওয়া বিশ্বকাপের কোলাহলের মধ্যেও মানুষের ব্যক্তিগত বেদনার কথা মনে করিয়ে দিল।





