পাকেতার বিকল্প খুঁজছেন আনচেলত্তি

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
পাকেতার বিকল্প খুঁজছেন আনচেলত্তি
কার্লো আনচেলত্তি। ছবি: সংগৃহীত

জাপানের বিপক্ষে জয়ের পর ব্রাজিলের স্বস্তি দীর্ঘ হয়নি। শেষ ষোলোয় উঠেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, কিন্তু দলের তারকা মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতার চোট কার্লো আনচেলত্তির পরিকল্পনায় নতুন প্রশ্ন তুলেছে। নরওয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সবচেয়ে বড় ভাবনা এখন একটাই, পাকেতার জায়গায় কে খেলবেন?

জাপান ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ দিকে বাঁ ঊরুর পেছনের অংশে চোট পান পাকেতা। বিরতির পর আর মাঠে নামতে পারেননি তিনি। পরে পরীক্ষায় মাংসপেশির চোট ধরা পড়ে। ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন তার ফেরার নির্দিষ্ট সময় জানায়নি। তবে নরওয়ের বিপক্ষে যে তাকে পাওয়া যাবে না তা আপাতত অনিশ্চিত।

আনচেলত্তির জন্য সমস্যা হলো, পাকেতা শুধু একজন মাঝমাঠের খেলোয়াড় নন। ব্রাজিলের ভারসাম্যে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বল ধরে রাখা, আক্রমণের সঙ্গে সংযোগ তৈরি, রক্ষণে সহায়তা এবং বাম দিকের হাফ-স্পেসে জায়গা নেওয়ার কাজ তিনি নিয়মিত করছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে শুধু একজন খেলোয়াড় বদলালেই হবে না, বদলে যেতে পারে পুরো কাঠামো।

সবচেয়ে সরাসরি বিকল্প দানিলো সান্তোস। বোটাফোগোর এই মিডফিল্ডার পাকেতার কাছাকাছি জায়গায় খেলতে পারেন। তিনিও বাঁ পায়ের খেলোয়াড় এবং স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগে ব্রুনো গিমারায়েসের পাশে সেই ভূমিকায় তাকে পরীক্ষা করা হয়েছিল। তাই ৪-৩-৩ কাঠামো ধরে রাখতে চাইলে দানিলোকেই সবচেয়ে স্বাভাবিক পছন্দ মনে করা হচ্ছে।

এই পথে গেলে ব্রাজিলের মাঝমাঠ দাঁড়াতে পারে কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারায়েস ও দানিলো সান্তোসকে নিয়ে। এতে দলের ভারসাম্য বজায় থাকার সম্ভাবনা বেশি। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মাতেউস কুনিয়া ও রায়ান সামনে আগের মতো জায়গা পেতে পারেন। নরওয়ের মতো শারীরিকভাবে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এটি হতে পারে তুলনামূলক নিরাপদ পথ।

আরেকটি ভাবনা হলো মাঝমাঠ আরও শক্ত করা। সেক্ষেত্রে ফাবিনিয়ো বা এদেরসনকে খেলাতে পারেন আনচেলত্তি। তাদের একজনকে কাসেমিরোর পাশে রাখলে রক্ষণভাগের সামনে আরও বেশি শারীরিক শক্তি পাওয়া যাবে। হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড, আন্তোনিও নুসা ও অস্কার ববের পাল্টা আক্রমণ সামলাতে এই পরিকল্পনা কার্যকর হতে পারে।

তবে এই ছকের ঝুঁকিও আছে। ফাবিনিয়ো বা এদেরসন খেললে ব্রুনো গিমারায়েসের ওপর বল এগিয়ে নেওয়া ও আক্রমণ গড়ার চাপ অনেক বেড়ে যাবে। পাকেতার অনুপস্থিতিতে সৃজনশীলতা কমে যেতে পারে। এতে ভিনিসিয়ুস ও কুনিয়ার কাছে বল পৌঁছানো কঠিন হওয়ার আশঙ্কাও থাকবে।

জাপানের বিপক্ষে বিরতির পর আনচেলত্তি যে পথ নিয়েছিলেন, সেটিও আলোচনায় আছে। পাকেতার বদলে এন্দ্রিককে নামিয়ে মাতেউস কুনিয়াকে কিছুটা নিচে নামানো হয়েছিল। এতে ব্রাজিল কখনো ৪-৩-৩, কখনো ৪-২-৪ ধাঁচে খেলেছে। এন্দ্রিক বক্সে উপস্থিতি বাড়িয়েছিলেন এবং জাপানের রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছিলেন।

ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি বলেছিলেন, বক্সে আরও শক্তি দরকার ছিল বলেই এন্দ্রিককে নামানো হয়েছিল। তার মতে, তরুণ ফরোয়ার্ডটি তীব্রতা ও বিপজ্জনক উপস্থিতি এনেছিলেন। তবে শুরু থেকেই এই ছকে নামা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে নরওয়ের মতো সরাসরি ফুটবল খেলা দলের বিপক্ষে।

আরও আক্রমণাত্মক পথ হলো গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে একাদশে আনা। জাপানের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করেছিলেন তিনি। তাঁকে কেন্দ্রে অথবা বাঁ দিকে খেলানো যেতে পারে। বাঁ দিকে খেললে ভিনিসিয়ুস আরও ভেতরে, কুনিয়ার কাছাকাছি অবস্থান নিতে পারেন। এতে ব্রাজিলের আক্রমণে গতি বাড়বে, তবে মাঝমাঠে ফাঁকও তৈরি হতে পারে।

নেইমারের নামও আলোচনায় আছে। তাকে ব্রুনো গিমারায়েসের পাশে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডারের ভূমিকায় ব্যবহার করলে ব্রাজিল সৃজনশীলতা পেতে পারে। কিন্তু এই সম্ভাবনা আপাতত কম। কোচিং স্টাফ মনে করছে, নেইমার এখনো পুরো ৯০ মিনিট খেলার অবস্থায় নেই। তাকে দ্বিতীয়ার্ধে প্রভাব ফেলার অস্ত্র হিসেবেই প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে আনচেলত্তির সামনে তিনটি পথ। প্রথমত, দানিলো সান্তোসকে নামিয়ে ৪-৩-৩ ধরে রাখা। দ্বিতীয়ত, ফাবিনিয়ো বা এদেরসনকে দিয়ে মাঝমাঠ শক্ত করা। তৃতীয়ত, এন্দ্রিক বা মার্তিনেল্লিকে নামিয়ে আরও আক্রমণাত্মক ছকে যাওয়া।

নরওয়ের বিপক্ষে সিদ্ধান্তটি সহজ হবে না। আর্লিং হালান্ড এক মুহূর্তেই ম্যাচ বদলে দিতে পারেন। ওডেগার্ড মাঝমাঠে জায়গা পেলে খেলার গতি ও দিক পাল্টাতে পারেন। নুসা ও অস্কার বব গতি দিয়ে রক্ষণ ভাঙতে পারেন। তাই ব্রাজিলকে একসঙ্গে ভাবতে হবে রক্ষণ, মাঝমাঠের ভারসাম্য এবং আক্রমণের ধার নিয়ে।

ব্রাজিল বৃহস্পতিবার থেকে নরওয়ে ম্যাচের মূল প্রস্তুতিতে বিকল্পগুলো যাচাই করবে। নিউ জার্সিতে রোববার শেষ ষোলোর লড়াই। তার আগে তিনটি অনুশীলনেই আনচেলত্তিকে খুঁজে নিতে হবে উত্তর।