মাঠে নামার আগে কেন আনারস খান ভিনিসিয়ুস

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
মাঠে নামার আগে কেন আনারস খান ভিনিসিয়ুস
ম্যাচের আগে আনারস খাচ্ছেন ভিনি। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ম্যাচের আগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনায় এসেছে। মাঠে নামার আগে আনারসের টুকরা খাচ্ছিলেন ব্রাজিলের ৭ নম্বর। শুধু ওয়ার্মআপের আগে নয়, হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের বিরতিতেও তাকে একই ফল খেতে দেখা যায়।

ব্রাজিল-হাইতি ম্যাচের সেই দৃশ্য ঘিরেই কৌতূহল। প্রশ্ন উঠেছে, মাঠে নামার আগে ভিনি কেন আনারস খান? এটি কি কোনো কুসংস্কার, নাকি এর পেছনে আছে পুষ্টিগত কারণ?

ভিনির ক্ষেত্রে এই অভ্যাস একেবারে নতুন নয়। রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচের দিনেও তাকে ফল খেতে দেখা গেছে। সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ ২০২৪ সালের স্প্যানিশ সুপার কাপ ফাইনাল। বার্সেলোনার বিপক্ষে সেই ক্লাসিকোর আগে তাকে আনারস খেতে দেখা গিয়েছিল। পরে সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন ভিনি, রিয়াল মাদ্রিদও ৪-১ গোলে জিতে শিরোপা নেয়।

তবে বিষয়টিকে শুধুই সৌভাগ্যের টোটকা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ব্রাজিল দলের স্টাফরা খেলোয়াড়দের জন্য আনারস, কলাসহ নানা ধরনের ফল রাখেন। ম্যাচের আগে বা বিরতিতে ফল খাওয়া উচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে অস্বাভাবিক কিছু নয়। হালকা খাবার হিসেবে ফল দ্রুত শক্তি দিতে পারে, পেট ভারী করে না এবং গরম আবহাওয়ায় শরীরে পানির ঘাটতি সামলাতেও কিছুটা সাহায্য করতে পারে।

আনারসের বড় বৈশিষ্ট্য হলো এতে পানির পরিমাণ বেশি। দীর্ঘ দৌড়, গতি বদল, চাপ ও ঘামের ম্যাচে শরীরকে তরল ধরে রাখতে এমন ফল সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি এতে সহজে হজমযোগ্য কার্বোহাইড্রেট আছে, যা দ্রুত শক্তির জোগান দিতে পারে। এই কারণেই ম্যাচ-পূর্ব বা বিরতির খাবারের তালিকায় অনেক সময় ফল রাখা হয়।

আনারসে ভিটামিন সি থাকে। পরিশ্রমের পর শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস সামলাতে ভিটামিন সি ভূমিকা রাখতে পারে। এতে ব্রোমেলিন নামের একটি এনজাইমও আছে, যা প্রোটিন ভাঙতে সাহায্য করে। তবে এসব উপাদানকে জাদুকরী সমাধান ভাবার কারণ নেই। একটি ফল একা কোনো ফুটবলারের পারফরম্যান্স বদলে দেয় না।

ভিনির আনারস খাওয়ার ঘটনা তাই পুষ্টি, ব্যক্তিগত পছন্দ এবং সমর্থকদের কৌতূহল, তিনটিরই মিশ্রণ। খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স নির্ভর করে প্রস্তুতি, ফিটনেস, ঘুম, পানীয় গ্রহণ, খাদ্য পরিকল্পনা, মানসিক অবস্থা এবং দলের কৌশলের ওপর। আনারস সেখানে বড় পরিকল্পনার ছোট একটি অংশ মাত্র।

ভিনির জন্য বিষয়টি এখন আলাদা আলোচনার জায়গা করে নিয়েছে। ব্রাজিলের জার্সিতে ম্যাচের আগে তার এই অভ্যাস সমর্থকদের চোখে পড়েছে। অনেকে এটিকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবেও দেখতে শুরু করেছেন, যদিও পুষ্টিগত ব্যাখ্যাই এখানে বেশি বাস্তবসম্মত।

ব্রাজিলের সামনে এবার নরওয়ের পরীক্ষা। শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্লিং হালান্ডদের বিপক্ষে ভিনির গতি, ড্রিবলিং ও ফিনিশিং দরকার হবে কার্লো আনচেলত্তির দলের। মাঠে নামার আগে তিনি আবার আনারস খান কি না, সেটিও হয়তো ক্যামেরার নজরে থাকবে।