সেনেগালের হৃদয় ভেঙে শেষ ষোলোর মঞ্চে বেলজিয়াম

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
সেনেগালের হৃদয় ভেঙে শেষ ষোলোর মঞ্চে বেলজিয়াম
ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল রোমাঞ্চের সবটুকু রঙ ছড়িয়ে সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিনে জায়গা করে নিয়েছে বেলজিয়াম। একপর্যায়ে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে গিয়েও অবিশ্বাস্য এক ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লিখে অতিরিক্ত সময়ের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে ৩-২ ব্যবধানের জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বেলজিয়ানরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে আফ্রিকান পরাশক্তি সেনেগাল। দুইবার পোস্ট কাঁপানোর পর, ম্যাচের ২৫ মিনিটে হাবিব দিয়ারার দুর্দান্ত গোলে লিড নেয় তারা। পিছিয়ে পড়ে বেলজিয়াম গোল শোধে মরিয়া হলেও সেনেগালের রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে (৫১ মিনিট) একটি লং বল ধরে বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে একা পেয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান ইসমাইলা সার। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকেই গিয়েছিল রেড ডেভিলরা।

ম্যাচ যখন সেনেগালের মুঠোয় এবং তাদের শেষ ষোলো নিশ্চিত মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আসেন দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামা রোমেলু লুকাকু। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার ঠিক ৪ মিনিট আগে (৮৬ মিনিটে) একটি নাটকীয় গোল করে বেলজিয়াম শিবিরে প্রাণ ফেরান এই স্ট্রাইকার। এই এক গোলেই যেন খেই হারিয়ে ফেলে সেনেগালের রক্ষণভাগ। সেই সুযোগে ম্যাচের ৮৯ মিনিটে ইউরি তিলেমানসের দুর্দান্ত এক হেডে সমতায় ফেরে ইউরোপের দলটি। ফলে ২-২ সমতায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের খেলা যখন প্রায় শেষ এবং দুই দলই টাইব্রেকারের মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই আসে ম্যাচের সবচেয়ে বিতর্কিত ও নাটকীয় মুহূর্ত। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় অর্ধাংশের শেষ মিনিটে বেলজিয়ামের তিলেমানসকে বক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন সেনেগালের লামিন কামারা।

দীর্ঘ সময় ভিএআর রিভিউ দেখার পর হন্ডুরাসের রেফারি সাইদ মার্তিনেস পেনাল্টির বাঁশি বাজান। প্রথমে লুকাকু শট নেওয়ার জন্য এগোলেও শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি কিকটি নেন তিলেমানস। সফল স্পট কিকে দলকে ৩-২ ব্যবধানের এক অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন তিনি।

এই জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করা বেলজিয়াম পরবর্তী রাউন্ডে মুখোমুখি হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বসনিয়ার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর বিরুদ্ধে।