দেশে গণ-অভ্যুত্থান করে দেখিয়েছি: ফরহাদ মজহার

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
দেশে গণ-অভ্যুত্থান করে দেখিয়েছি: ফরহাদ মজহার
কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। ছবি : এশিয়া পোস্ট

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্য অনেক বিস্তৃত উল্লেখ করে কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, জুলাইয়ের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। তারা সমাজ, দেশ ও রাজনীতি নিয়ে ভাবছে এবং নতুনভাবে রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখছে। পরবর্তী প্রজন্মকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে।

সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের ‘আলাপন’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় ফরহাদ মজহার বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিবাচক দিক অবশ্যই আছে। আরেকটা হচ্ছে তার প্রত্যাশার দিক, সম্ভাবনার দিক। শেখ হাসিনা দেশে নেই, ফলে একদিকে জুলাই সফল হয়েছে। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা আমরা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারিনি এবং সেটা কেন পারিনি, তা ভাবা দরকার। এখন খুব খোলা মনে আলোচনা করতে হবে যে, আসলে কী সম্ভাবনা ছিল।

তিনি আরও বলেন, ২০২০ সালের শুরু থেকেই আমি বুঝে গিয়েছিলাম, বাংলাদেশ একটা বড় ধরনের রূপান্তরের জন্য তৈরি হয়ে গেছে। গণ-অভ্যুত্থান যদি হয়ে যায়, তার পরে নতুন রাষ্ট্রটা কীভাবে গঠন করতে হবে, এটার কিন্তু পরিষ্কার রোডম্যাপ বা নকশা আমার ‘গণঅভ্যুত্থান ও গঠন’ বইতে ছিল। বইটি ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট প্রকাশিত হয়। কিন্তু তরুণ সমাজ সেটাকে বাস্তবায়িত করতে পারেনি। তো সেই হিসেবে গণ-অভ্যুত্থান সম্পর্কে আমার যে বক্তব্য ছিল, এটা তো আমি করে দেখিয়েছি। অর্থাৎ দেশে গণ-অভ্যুত্থান ঘটেছে।

বাংলাদেশের রূপান্তরটা গণ-অভ্যুত্থানের পথেই হবে জানিয়ে ফরহাদ মজহার বলেন, বিএনপি একটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, যদি তারা আন্তরিকভাবে আমাদের সমালোচনাগুলোর দিকে মনোযোগ দেয়। সংকটের গোড়াগুলো তারা যদি অ্যাড্রেস (চিহ্নিত) করে, বিশেষ করে রাষ্ট্র গঠনের বিষয়ে। এই বিতর্কগুলো ইতিবাচকভাবে সব পক্ষ যদি মীমাংসা করে এবং অন্তত একটা ইতিবাচক অভিমুখের দিকে আমরা যাওয়ার চেষ্টা করি, তাহলে কিন্তু বিএনপি টিকে থাকতে পারবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এটিকে বিএনপি যদি অবহেলা করে, আমি মনে করি যে আমরা মহাবিপর্যয়ের দিকে যাব। বিএনপিকে তখন আরও বড় গণ-অভ্যুত্থানের মোকাবিলা করতে হবে। কারণ, সমাজের মধ্যে ওই দ্বন্দ্ব ও বিরোধগুলো রয়ে গেছে। তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ একটা গুণগত রূপান্তরের দিকে যাবেই বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ফরহাদ মজহার।