হাসপাতালে ‘সড়ক দুর্ঘটনা’ উল্লেখ, পরিবারের দাবি পিটিয়ে হত্যা

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে জমিজমা ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে সাবেক শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে।
বুধবার (১ জুলাই) ভোরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত মানিক মিয়া (৪০) পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার আজিবুল ইসলামের ছেলে এবং গৌরীপুর উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি ছিলেন।
অভিযুক্ত সুয়েব মুন্সি ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তবে অভিযুক্ত যুবদল নেতা এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ঘটনাটি মাদক ব্যবসার অভ্যন্তরীণ বিরোধের ফল।
নিহতের ছোট ভাই সুখ মিয়ার দাবি, অভিযুক্ত সুয়েব মুন্সির পরিবারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। পাশাপাশি অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তাদের পরিবার বিভিন্ন সময় এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়। এর আগেও সুয়েব মুন্সি তাদের পরিবারের সদস্যদের মারধর করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
নিহতের পরিবার জানায়, গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বসে থাকা অবস্থায় সুয়েব মুন্সি ১০ থেকে ১৫ জন সহযোগী নিয়ে মানিক মিয়ার ওপর হামলা চালান। গুরুতর আহত করার পর হামলাকারীরা তাকে সতিশা রোড এলাকায় নিয়ে গিয়ে তার স্ত্রী সেলিনার কাছে রেখে চলে যায়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে বুধবার ভোরে তিনি মারা যান।
পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তির সময় প্রভাব খাটিয়ে ঘটনাটিকে ‘সড়ক দুর্ঘটনা’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে তদন্তকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্যই এমনটা করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) জবায়দুল হক বলেন, স্বজনদের কাছ থেকে আমি জেনেছি মানিক মিয়াকে মারধর করা হয়েছিল। তবে ভর্তির কাগজে কেন ‘সড়ক দুর্ঘটনা’ লেখা হয়েছে, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।
এদিকে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, নিহতের পরিবার হাসপাতাল পরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করলে তদন্ত সাপেক্ষে ভর্তি নথির তথ্য সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুয়েব মুন্সি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমার বা আমার সহযোগীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। নিহত ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং মাদক ব্যবসার অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকেই এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি শামসুল হক বলেন, ঘটনার সময় আমি ঢাকায় ছিলাম। বিষয়টি শুনেছি, তবে বিস্তারিত তথ্য না জেনে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মানিক মিয়ার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতের পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





