বিশ্বকাপ উন্মাদনার মধ্যে ফিলিস্তিনি গোলরক্ষককে হত্যা করল ইসরায়েল

বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা যখন ফিফা বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতে আছেন, ঠিক তখনই গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ফিলিস্তিনের এক প্রতিভাবান ফুটবল গোলরক্ষক। নিহত সেলিম আল-আশকারের বয়স ছিল ৩২ বছর।
বুধবার (১ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার খবরে বলা হয়, গাজার খান ইউনিসের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আল-কারার এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হন সেলিম আল-আশকার।
তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ)। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, মাত্র পাঁচ মাস আগে বিয়ে করেছিলেন সেলিম। তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। প্রথম সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন এই দম্পতি। সাত ভাইবোনের মধ্যে সেলিম ছিলেন একমাত্র ছেলে।
রোয়া নিউজ বলছে, ঘরোয়া ফুটবলে সেলিম গাজার আল-আকসা ও আল-মাসদার ক্লাবের হয়ে খেলেছেন।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফাও জানিয়েছে, বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় তিনি নিহত হন। প্রথম সন্তানের মুখ দেখার আগেই তার জীবন থেমে গেল। ডি-বক্সের ভেতরে থাকা অবস্থায় সেলিম আল-আশকার ইসরায়েলি বাহিনীর দ্বারা আক্রান্ত হন।
পিএফএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদ নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ফুটবল অঙ্গনের সদস্যই ৫৬৭ জন।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ পর্ব চলাকালেই সেলিম আল-আশকার নিহত হন।
বিশ্বজুড়ে দর্শকেরা যখন আধুনিক স্টেডিয়ামে বসে বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগ করছেন, তখন গাজার বাসিন্দারা বিদ্যুৎ বিভ্রাট, বাস্তুচ্যুতি ও চলমান সংঘাতের কারণে টুর্নামেন্টটি ঠিকমতো অনুসরণ করতে পারছেন না।
ফিলিস্তিনি ক্রীড়া কর্মকর্তারা ও স্থানীয় গণমাধ্যম সেলিমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে।
তাদের ভাষ্য, ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারানো ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদদের দীর্ঘ তালিকায় যুক্ত হলো আরও একটি নাম। খান ইউনিসে তার জানাজায় স্থানীয় মানুষের শোকের পাশাপাশি যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও উঠে আসে।





