কেইনের জোড়া গোলে কঙ্গো-ভয় কাটাল ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপের নকআউটে বড় অঘটনের মুখে পড়েছিল ইংল্যান্ড। ৬ মিনিটেই ডিআর কঙ্গোর গোলে পিছিয়ে পড়ে থমাস টুখেলের দল। দীর্ঘ সময় ধরে সমতা ফেরাতে হিমশিম খাওয়া ইংল্যান্ডকে শেষ পর্যন্ত বাঁচালেন হ্যারি কেইন। অধিনায়কের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলোয় উঠল ইংল্যান্ড।
আটলান্টায় শেষ ৩২-এর ম্যাচে শুরুতেই ইংল্যান্ডকে স্তব্ধ করে দেযর কঙ্গো। ৬ মিনিটে অ্যারন ওয়ান-বিসাকার ক্রস থেকে ব্রায়ান সিপেঙ্গা গোল করেন। বক্সের ভেতর ফাঁকা জায়গা পেয়ে পিকফোর্ডকে পরাস্ত করেন আলমেরিয়ার নতুন এই ফরোয়ার্ড। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ডিআর কঙ্গোর প্রথম গোলেই তৈরি হয় বড় চমকের সম্ভাবনা।
ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল অগোছালো। রক্ষণে ভুল, মাঝমাঠে ধীরতা, আক্রমণে অস্থিরতা, সব মিলিয়ে প্রথমার্ধে তারা নিজেদের ছন্দ খুঁজে পায়নি। কঙ্গো শুধু গোল করেই থেমে থাকেনি, পাল্টা আক্রমণে বারবার বিপদ তৈরি করেছে। সিপেঙ্গা, এমবুকু ও উইসার গতিতে ইংলিশ রক্ষণ বারবার অস্বস্তিতে পড়ে।
প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি। বেলিংহামের হেড, কেইনের সুযোগ, রাশফোর্ডের প্রচেষ্টা, একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে তিনি দলকে এগিয়ে রেখে বিরতিতে পাঠান। এক পর্যায়ে ইংল্যান্ড পেনাল্টির দাবিও তুলেছিল, কিন্তু ভিএঅ দেখেও সিদ্ধান্ত বদলায়নি।
বিরতির পর ইংল্যান্ড আরও চাপ বাড়ায়। জুড বেলিংহাম আক্রমণে প্রভাব বাড়ান, ডেকলান রাইস সেট-পিসে বারবার বল তুলতে থাকেন, আর সামনে কেইন জায়গা খুঁজছিলেন। কিন্তু কঙ্গোর রক্ষণ তখনও দৃঢ়। ৫২ মিনিটে বেলিংহামের শট প্রায় গোললাইন পেরিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেটিও ঠেকিয়ে দেয় কঙ্গো।
টুখেল এরপর বদলি এনে আক্রমণে নতুন গতি আনেন। সাকা ও অ্যান্থনি গর্ডন মাঠে নামার পর দুই প্রান্ত থেকে ইংল্যান্ডের চাপ বাড়ে। ৭৪ মিনিটে সেই চাপের ফল মেলে। গর্ডনের ক্রস থেকে বক্সে ঢুকে হ্যারি কেইন গোল করেন। এমপাসি ছুঁয়েও বল ঠেকাতে পারেননি। ইংল্যান্ড স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।
সমতার পর ম্যাচ আরও খোলা হয়ে যায়। কঙ্গোও পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। তারা পাল্টা আক্রমণে সুযোগ খুঁজছিল। এক পর্যায়ে এলিয়া একা বেরিয়ে গেলে পিকফোর্ডকে এগিয়ে এসে বিপদ সামলাতে হয়। কিন্তু শেষ কথা বলার জন্য তখনও অপেক্ষা করছিলেন কেইন।
৮৫ মিনিটে আবারও ইংল্যান্ড অধিনায়ক। দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকা ম্যাচে তাঁর দ্বিতীয় গোলই ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেয়। নিজের সেরা সুযোগগুলোর জন্য অপেক্ষা করতে জানেন কেইন। এই ম্যাচেও সেটিই করলেন। খুব বেশি শট নেননি, কিন্তু যেগুলো নিয়েছেন, সেগুলোই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিয়েছে।
কেইনের জোড়া গোল শুধু ইংল্যান্ডকে শেষ ষোলোয় তুলল না, একটি পুরোনো অস্বস্তিও কাটাল। বিশ্বকাপে আগে গোল হজম করার পর ইংল্যান্ড শেষবার ম্যাচ জিতেছিল ১৯৬৬ সালের ফাইনালে। সেই দীর্ঘ অপেক্ষা এবার শেষ হলো আটলান্টায়।
কঙ্গোর জন্য বিদায়টা কষ্টের। তারা প্রথম ৭০ মিনিটের বেশি সময় ইংল্যান্ডকে চাপে রেখেছিল। শৃঙ্খলিত রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ আর এমপাসির দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ে বড় অঘটনের খুব কাছেও চলে গিয়েছিল সেবাস্তিয়ান দেশাব্রের দল। কিন্তু নকআউটের ম্যাচে বড় তারকার এক-দুই মুহূর্তই পার্থক্য গড়ে দেয়।
তবে শেষ পর্যন্ত নকআউটে ফলই বড় কথা। ইংল্যান্ড পিছিয়ে পড়েছিল, চাপ সামলেছে, তারপর অধিনায়কের জোড়া গোলে ফিরে এসেছে। বিশ্বকাপের এমন রাতেই বোঝা যায়, কেন হ্যারি কেইন এখনও ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ভরসা।





