উদ্ধার করা গাঁজা বিক্রির অভিযোগে থানার ওসি প্রত্যাহার

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কুমিল্লা
উদ্ধার করা গাঁজা বিক্রির অভিযোগে থানার ওসি প্রত্যাহার
পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল বারী। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উদ্ধার করা প্রায় ১৬০ কেজি গাঁজা মাদক কারবারিদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল বারীকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে কুমিল্লা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানের সই করা এক আদেশে থানার ওসিকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।

এর আগে, গত বছরের ১৮ মার্চ সোনারগাঁ থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও মো. আবদুল বারীর বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার বাণিজ্যের অভিযোগে ক্লোজড হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। বর্তমানে নতুন এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২৭ জুন) রাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি কাভার্ডভ্যান ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিসের সামনে অবস্থান করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই রাতে দায়িত্ব পালনরত উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইমাম উদ্দিন এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হাফিজুর রহমান গাড়িটিতে তল্লাশি চালান। অভিযোগ রয়েছে, তল্লাশির সময় গাড়িটি থেকে তিনটি বস্তাভর্তি প্রায় ১৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হলেও তা নিয়ম অনুযায়ী জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়নি এবং থানাতেও জমা দেওয়া হয়নি। বরং ওই রাতেই ধাপে ধাপে তা কয়েকজন মাদক কারবারির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরে একটি কালো রঙের মাইক্রোবাসে করে গাঁজাগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ঘটনাটি পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এলে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ওসি মো. আবদুল বারী। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে একটি পত্রিকায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। দাউদকান্দি মডেল থানায় এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমি চাকরি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত আছি। কিন্তু ভিত্তিহীন অপবাদ মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।