কিয়েভে রাতভর রুশ হামলায় নিহত ১০, আহত অর্ধশতাধিক

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
কিয়েভে রাতভর রুশ হামলায় নিহত ১০, আহত অর্ধশতাধিক
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। আহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মস্কোর সম্ভাব্য ‘ব্যাপক’ হামলার বিষয়ে সতর্ক কররার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলা চালানো হয়।

বুধবার (০১ জুলাই) রাতে এই হামলা চালায় রাশিয়া।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) টেলিগ্রামে জানান, রাশিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানায় একটি আবাসিক ভবনের ছয়টি তলা আংশিকভাবে ধসে পড়ে। এতে অন্তত ১০ জন নিহত হন। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত নয়তলা ভবনের ধ্বংসস্তূপে কয়েকজন আটকা পড়েছেন। উদ্ধারকাজ চলছে।

কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো বলেন, হামলায় দুই শিশুসহ ৫৬ জন আহত হয়েছেন। রাজধানীর অন্তত ৩০টির বেশি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হামলার সময় ক্লিচকো টেলিগ্রামে লিখেছিলেন, কিয়েভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, কিয়েভের কেন্দ্র ও পূর্বাঞ্চলে এক ডজনের বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী সতর্ক করে জানায়, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রাজধানীর দিকে এগিয়ে আসছে।

অনানুষ্ঠানিক টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, হামলা থেকে বাঁচতে অনেক বাসিন্দা পাতাল রেল স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনেককে বগলে শোবার মাদুর নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে যেতে দেখা গেছে।

চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে রাশিয়া নিয়মিতই কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতগুলোর একটি এটি।

রাশিয়ার দাবি

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দূরপাল্লার উচ্চনির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে কিয়েভসহ বিভিন্ন স্থানে ‘ব্যাপক হামলা’ চালিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইউক্রেনের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলার প্রতিশোধ হিসেবে কিয়েভের আশপাশের সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনা এবং পোলতাভা ও দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের কয়েকটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে।

হামলার আগে জেলেনস্কির সতর্কবার্তা

হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে আয়ারল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করার ঘোষণা দেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। একই সঙ্গে তিনি আসন্ন ‘ব্যাপক রুশ হামলার’ বিষয়ে সতর্ক করে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

বুধবার ডাবলিনে আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমাদের কাছে রাশিয়ার আরেকটি বড় হামলার বিষয়ে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।’

পরে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, বৈঠক শেষ করেই তিনি ইউক্রেনে ফিরে যাচ্ছেন।

জেলেনস্কি নাগরিকদের বিমান হামলার সতর্কসংকেত মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বিশেষভাবে সতর্ক থাকুন। নিরাপদ থাকুন এবং নিজেদের পরিবার ও সন্তানদের রক্ষা করুন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি, ভ্লাদিমির পুতিন বেশ কিছুদিন ধরেই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আজ রাতেই আমরা সেই হুমকির মুখোমুখি।’

জেলেনস্কির অভিযোগ, যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেন সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের যোগাযোগের মাধ্যমে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও রাশিয়া তা প্রত্যাখ্যান করছে। তার ভাষায়, পুতিন ‘ইউক্রেন, প্রতিবেশী দেশগুলো এবং পুরো ইউরোপের বিরুদ্ধে আরও আগ্রাসনের পথই বেছে নিয়েছেন।’

এদিকে ইউক্রেনে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অল্প সময়ের জন্য যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। তবে কোনো আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা না ঘটায় পরে সেগুলো ফিরিয়ে নেওয়া হয়।