মেসির বিদায়ের দিন গুনবেন না, উপভোগ করুন: দে পল

লিওনেল মেসির প্রতিটি ম্যাচ এখন আর্জেন্টিনা সমর্থকদের কাছে আলাদা আবেগের। ৩৯ বছর বয়সী অধিনায়ক হয়তো জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ বিশ্বকাপ খেলছেন। তবে মেসির বন্ধু ও সতীর্থ রদ্রিগো দে পল চান না, সম্ভাব্য বিদায়ের হিসাব কষতে গিয়ে মানুষ মেসিকে উপভোগ করতে ভুলে যাক।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে দে পল বলেছেন, মেসির আর কত ম্যাচ বাকি, সেই ভাবনায় না গিয়ে তাকে প্রতিদিন উপভোগ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের মতে, মেসি এখনো তাদের সঙ্গে আছেন, সেটিই সবচেয়ে বড় পাওয়া।
দে পলের কথায়, একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে তার কাছে সবচেয়ে জরুরি হলো প্রতিদিন লিও মেসিকে উপভোগ করা। জীবনে অনেক সময় কোনো কিছু হারানোর পর মানুষ সেটির মূল্য বেশি বোঝে। কিন্তু তাদের সৌভাগ্য, মেসি এখনো তাঁদের সঙ্গে আছেন এবং সবাই সেই মুহূর্তগুলো উপভোগ করছেন।
দে পল বলেন, ‘আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিদিন লিও মেসিকে উপভোগ করা, একজন আর্জেন্টাইন নাগরিক হিসেবে যেমনটা সবাই করছে।’
চলতি বিশ্বকাপে মেসি আবারও আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা। তিন ম্যাচে করেছেন ৬ গোল। আলজেরিয়ার বিপক্ষে গ্রুপের প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে শুরু করেছিলেন তিনি। এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল এবং জর্ডানের বিপক্ষে ফ্রি-কিকে গোল করেন। বয়স ৩৯ হলেও মাঠে তার প্রভাব, গোল করার ক্ষমতা এবং দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ এখনো শক্তিশালী।
দে পলের সঙ্গে মেসির সম্পর্কও আলাদা। জাতীয় দলে মেসির পাশে সবসময় দেখা যায় তাকে। মাঠে অধিনায়ককে রক্ষা করা, প্রতিপক্ষের চাপ সামলানো এবং আবেগের মুহূর্তে পাশে থাকার কারণে সমর্থকেরা তাকে অনেক সময় মেসির বডিগার্ড বলেও ডাকেন।
শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও মেসির সঙ্গে বন্ধুত্বকে জীবনের বড় প্রাপ্তি মনে করেন দে পল। তার কাছে লিওনেল মেসির ভালো বন্ধু হতে পারা অনেক বড় ব্যাপার। বন্ধুত্ব মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলোর একটি, আর মেসির সঙ্গে মাঠে ও মাঠের বাইরে সময় ভাগ করে নিতে পারাকে তিনি নিজের সৌভাগ্য মনে করেন।
মেসির সঙ্গে বন্ধুত্ব নিয়ে তিনি বলেন, ‘লিওনেল মেসির ভালো বন্ধু হতে পারা আমার কাছে অনেক বড় ব্যাপার।’
দে পল এখন ক্লাব ফুটবলেও মেসির সতীর্থ। গত বছর আতলেতিকো মাদ্রিদ ছেড়ে তিনি যোগ দেন ইন্টার মায়ামিতে। তাই জাতীয় দল ও ক্লাব, দুই জায়গাতেই মেসির সঙ্গে তার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
তবে আবেগের পাশাপাশি কেপ ভার্দে ম্যাচ নিয়ে সতর্কতাও আছে আর্জেন্টিনা শিবিরে। দে পল স্বীকার করেছেন, ড্র ঘোষণার পর তারা ভেবেছিলেন নকআউটে হয়তো স্পেন বা উরুগুয়ের মতো বড় দলের মুখোমুখি হতে হবে। কিন্তু কেপ ভার্দে গ্রুপ পর্বে চমক দেখিয়ে শেষ ৩২-এ উঠে এসেছে।
কেপ ভার্দে নিয়ে সতর্ক এই মিডফিল্ডার জানান, ‘ড্র হওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম, হয়তো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বা বড় লিগে খেলা ফুটবলারদের দলগুলোর একটির মুখোমুখি হতে হবে।’
অভিষেক বিশ্বকাপেই কেপ ভার্দে দেখিয়েছে তারা শুধু অংশ নিতে আসেনি। স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের গ্রুপ থেকে অপরাজিত থেকে নকআউটে ওঠা দলটিকে তাই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। দে পলও বলেছেন, কেপ ভার্দে গ্রুপ পর্বে ভালো ফুটবল খেলেছে এবং আর্জেন্টিনাকে দায়িত্বশীল ফুটবল খেলতে হবে।
একই সতর্ক সুর কোচ লিওনেল স্কালোনির কথাতেও। তার মতে, কেপ ভার্দে হঠাৎ করে এখানে আসেনি। দলটি রক্ষণে সংগঠিত, ভেতরের জায়গা বন্ধ রাখতে পারে এবং পাল্টা আক্রমণেও বিপজ্জনক। নকআউট ম্যাচে ভুলের সুযোগ কম। একটি খারাপ দিনেই শেষ হয়ে যেতে পারে বিশ্বকাপ অভিযান। তাই আর্জেন্টিনা জয়ের দাবিদার হলেও কেপ ভার্দেকে সম্মান দিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দে পল মনে করেন, নকআউটের অভিজ্ঞতা আর্জেন্টিনার আছে, কিন্তু প্রতিটি ম্যাচের আবেগ আলাদা। বিশ্বকাপের এমন ম্যাচে চাপ, উত্তেজনা ও অনুভূতি সবসময়ই শক্তিশালী থাকে। অভিজ্ঞতা সেই আবেগ সামলাতে সাহায্য করে, তবে আবেগকে সম্মান করাও জরুরি।
মেসিকে ঘিরে আর্জেন্টিনার এই বিশ্বকাপ তাই শুধু শিরোপা রক্ষার অভিযান নয়, এক প্রজন্মের আবেগেরও বড় অধ্যায়। কিন্তু দে পলের বার্তা পরিষ্কার, বিদায়ের সম্ভাবনা নয়, মেসির উপস্থিতিই এখন সবচেয়ে বড় আনন্দ।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আর্জেন্টিনার লক্ষ্য জয়। আর সমর্থকদের জন্য দে পলের আহ্বান, হিসাব নয়, মেসিকে উপভোগ করুন।





