জোতার স্মৃতি নিয়ে জিতল পর্তুগাল

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়টা পর্তুগালের কাছে শুধু বিশ্বকাপের আরেকটি নকআউট জয় ছিল না। টরন্টোর সেই রাত ছিল আবেগ, স্মৃতি আর শ্রদ্ধারও। ২-১ গোলে জিতে শেষ ৩২ পেরিয়ে শেষ ষোলোয় ওঠার পর রোনালদো-ভিতিনিয়াদের উদ্যাপনের কেন্দ্রে ছিলেন প্রয়াত সতীর্থ দিয়োগো জোতা।
শেষ বাঁশির পর পর্তুগাল দল এগিয়ে যায় নিজেদের সমর্থকদের দিকে। রোনালদোর হাতে ছিল জোতার ২১ নম্বর জার্সি। সতীর্থদের সঙ্গে সেই জার্সি তুলে ধরে তারা যেন জানিয়ে দিলেন, এই জয় শুধু নিজেদের জন্য নয়, জোতার জন্যও।
গত বছর ৩ জুলাই স্পেনে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান দিয়োগো জোতা ও তার ভাই আন্দ্রে সিলভা। জোতার বয়স হয়েছিল মাত্র ২৮ বছর। সেই দুর্ঘটনা শুধু পর্তুগাল নয়, পুরো ফুটবল দুনিয়াকেই শোকস্তব্ধ করেছিল। এক বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে তার স্মৃতিই হয়ে উঠল পর্তুগালের আবেগের বড় উৎস।
জোতার ঘনিষ্ঠ বন্ধু রুবেন নেভেস এখন পর্তুগাল দলে ২১ নম্বর জার্সি পরেন। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীতের সময় জোতার নাম লেখা হাতবন্ধনীতে চুমু দেন তিনি। এরপর স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় ভেসে ওঠে জোতার ছবি। গ্যালারির চারদিক থেকে উঠে আসে করতালি।
সমর্থকেরাও শ্রদ্ধায় অংশ নেন। ম্যাচের ২১ মিনিটে তারা দাঁড়িয়ে জোতার ছবি-সংবলিত ব্যানার উন্মোচন করেন। সঙ্গে ছিল ২১ লেখা বেলুন। পর্তুগালের জার্সিতে জোতার নম্বরটি তাই টরন্টোর গ্যালারিতে হয়ে ওঠে স্মরণের প্রতীক।
ম্যাচের পর রোনালদো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের সঙ্গে ২১ নম্বর জার্সি হাতে ছবি দেন। সেখানে তার বার্তা ছিল, ‘এই জয় আমাদের, দিয়োগো ও পর্তুগালের জন্য।’ মাঠের জয় তাই মুহূর্তেই পেয়ে যায় আরও গভীর অর্থ।
পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেসও জোতার স্মৃতি নিয়ে কথা বলেছেন। এর আগে তিনি জোতাকে পর্তুগাল দলের আলো বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং বিশ্বকাপ স্কোয়াডের সম্মানসূচক সদস্য হিসেবে মনে রাখার কথা বলেছিলেন। ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের পরও তিনি বলেন, জোতা দলের কাছে কী ছিলেন, সেটি এই প্রতীকী মুহূর্তগুলোতেই বোঝা যায়।
মার্তিনেসের কথায়, জোতা এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি বিশ্বাস করতেন। তার প্রতি পর্তুগাল দলের একটি দায়িত্ব আছে। সেই দায়িত্ব নিয়েই দল এগিয়ে যেতে চায়।
মাঠের ফুটবলও ছিল নাটকীয়। ইভান পেরিসিচের গোলে পিছিয়ে পড়েছিল পর্তুগাল। এরপর পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান রোনালদো। যোগ করা সময়ে গনসালো রামোসের হেডে ২-১ গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। শেষ মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়ার সমতার গোল ভিএআরে অফসাইডে বাতিল হওয়ায় জয় নিশ্চিত হয় রোনালদোদের।
রামোসের গোলও এই আবেগের গল্পে আলাদা জায়গা পেল। ম্যাচ শেষে পর্তুগালের জয়সূচক গোলদাতা বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন ওকে নিয়ে কথা বলি। ও আমাদের শক্তি দেয়।’ জোতার অনুপস্থিতি তাই পর্তুগালের ড্রেসিংরুমে শুধু শোক নয়, প্রেরণার জায়গাও হয়ে আছে।
এই জয় পর্তুগালকে শেষ ষোলোয় তুলেছে। সামনে স্পেনের বিপক্ষে আরও বড় লড়াই। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে টরন্টোর রাতটি পর্তুগাল মনে রাখবে অন্য কারণে।
জোতা আর নেই। কিন্তু তার ২১ নম্বর, তার স্মৃতি এবং সতীর্থদের ভালোবাসা এখনো পর্তুগাল দলের সঙ্গে আছে। ক্রোয়েশিয়াকে হারানোর পর রোনালদোদের সেই শ্রদ্ধা বিশ্বকাপের অন্যতম আবেগঘন দৃশ্য হয়ে থাকল।





