‘মদরিচ যেন অবসর না নেয়’, জয়ের পর রোনালদো

টরন্টোর নাটকীয় রাত শেষে হাসি ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মুখে, কিন্তু সেই হাসির ভেতরেও ছিল আবেগ। পর্তুগাল ২-১ গোলে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে। আর সেই ম্যাচেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছেন রোনালদোর সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ লুকা মদরিচ।
ম্যাচ শেষে ম্যাচসেরা হয়ে রোনালদো কথা বলেছেন মদরিচকে নিয়েও। সবচেয়ে আবেগী অংশটি ছিল ক্রোয়েশিয়ান কিংবদন্তিকে ঘিরেই। প্রতিপক্ষ হিসেবে হারালেও সাবেক সতীর্থের প্রতি শ্রদ্ধা লুকাননি পর্তুগাল অধিনায়ক।
রোনালদো বলেন, মদরিচ ফুটবলের কিংবদন্তি। রিয়াল মাদ্রিদে অনেক বছর একসঙ্গে খেলেছেন তারা। মদরিচের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা আছে। পর্তুগাল অধিনায়ক আরও জানান, তিনি আশা করেন মদরিচ খেলা চালিয়ে যাবেন।
রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে রোনালদো ও মদরিচ একসঙ্গে জিতেছেন একাধিক চ্যাম্পিয়নস লিগ। ক্লাব ফুটবলে তাদের বোঝাপড়া ছিল অসাধারণ। কিন্তু বিশ্বকাপের নকআউটে এবার তারা ছিলেন প্রতিপক্ষ। একজনের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হওয়ার বাস্তবতা ম্যাচটিকে আরও আবেগী করে তুলেছিল।
রোনালদোর জন্য রাতটি ব্যক্তিগতভাবেও বিশেষ। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রথম গোল পেলেন তিনি। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করে পর্তুগালকে ১-১ সমতায় ফেরান ৪১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
তার আগে ৫৩ মিনিটে ইভান পেরিসিচের গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। এরপর পর্তুগালের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে রোনালদোর একটি গোল অফসাইডে বাতিল হয়। পরে ভিএআর দেখে পেনাল্টি পায় পর্তুগাল, আর সেখান থেকে ভুল করেননি অধিনায়ক।
তবে ম্যাচ শেষ পর্যন্ত জিতিয়েছে গনসালো রামোসের গোল। যোগ করা সময়ে তার হেডে ২-১ গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। শেষ মুহূর্তে ইয়োশকো গভার্দিওল বল জালে পাঠালেও অফসাইডে গোল বাতিল হয়। সেই সিদ্ধান্তেই টিকে যায় পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্বপ্ন।
ম্যাচ নিয়ে রোনালদো স্বীকার করেন, পর্তুগালকে ভুগতে হয়েছে। তার মতে, নকআউট ম্যাচে এমন চাপ সামলাতেই হয়। প্রথমার্ধে পর্তুগাল নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে ফিরে আসে। ক্রোয়েশিয়ার গোলের পর দল চাপে পড়ে, তবে পেনাল্টি থেকে সমতায় ফেরার পর পর্তুগাল আবার লড়াইয়ে ফিরে আসে।
রোনালদোকে ম্যাচের শেষ দিকে তুলে নেন কোচ রবার্তো মার্তিনেস। বাইরে বসে শেষ সময়ের নাটক দেখাও তার জন্য সহজ ছিল না। শেষ মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়ার গোল বাতিল হওয়ার আগে বেঞ্চে বসে রোনালদোকেও চিন্তিত দেখাচ্ছিল।
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন এড়াননি রোনালদো। তবে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুর শোনাননি তিনি। আবেগের মুহূর্তে নয়, শান্তভাবে সবকিছু ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়াই তার অবস্থান। আপাতত তার মনোযোগ পর্তুগালের বিশ্বকাপ যাত্রায়।
শেষ ষোলোয় পর্তুগালের প্রতিপক্ষ স্পেন। সে প্রসঙ্গে রোনালদোর বার্তা পরিষ্কার, আগে বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধার জরুরি। সামনে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে, সেটি পর্তুগালও জানে।
ম্যাচটি পর্তুগালের জন্য আরও আবেগময় ছিল দিয়োগো জোতার স্মৃতির কারণে। জোতার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর প্রাক্কালে খেলতে নেমেছিল পর্তুগাল। ম্যাচ শেষে রোনালদো জোতার ২১ নম্বর জার্সি পরে সতীর্থদের সঙ্গে সমর্থকদের সামনে যান। পরে সামাজিক মাধ্যমে তিনি জয়টি নিজেদের, জোতা ও পর্তুগালের জন্য বলে উৎসর্গ করেন।
হারানোর পরও তিনি চান, ফুটবলের আরেক কিংবদন্তি যেন খেলা




