উন্নয়নের বলি তিনটি নিমগাছ, কাটা পড়বে আরও ১৬টি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়নকাজের জন্য তিনটি বড় নিমগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। পুরো প্রকল্পের আওতায় পর্যায়ক্রমে নিম, মেহগনি, কাঞ্চন ও কদমসহ আরও ১৬টি গাছ কাটার তালিকা করা হয়েছে। তীব্র খরতাপ আর গুমোট গরমের মধ্যে গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা সূত্র জানায়, শহরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল থেকে বাতের খাঁ মোড়-শান্তিমোড়-বটতলা হয়ে অধীর ন্যাংড়ার মোড় পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার ৮০০ মিটার সড়কটির উন্নয়নকাজ শুরু হয়েছে। প্রায় ২১ কোটি ৯১ লাখ ৭৭ হাজার ৭৭৭ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটির দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর। যথাযথ নিয়ম মেনে কাজটি পেয়েছে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘শরিফ অ্যান্ড সন্স’। গত চার দিন আগে তারা মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে সড়কটি আট মিটারের বেশি চওড়া রয়েছে এবং এই প্রকল্পের মাধ্যমে জায়গাভেদে রাস্তাটি আরও চার মিটারের বেশি প্রশস্ত করা হবে।
সরেজমিনে জেলা হাসপাতাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার ফার্মেসিগুলোর সামনে থাকা তিনটি বড় নিমগাছের ডালপালা কেটে একবারে ন্যাড়া করে রাখা হয়েছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে গাছের অবশিষ্ট অংশও উপড়ে ফেলা হবে। গাছগুলো কেটে ফেলায় পুরো এলাকা এখন ফাঁকা হয়ে পড়েছে। একসময় যে গাছের শীতল ছায়ায় মানুষ আশ্রয় নিত, তা এখন উধাও।

স্থানীয় একটি ফার্মেসির কর্মচারী আব্দুল্লাহ কাফি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এই নিমগাছের তলার দোকানে কাজ করছি। গাছগুলো যত সহজে কেটে ফেলা হলো, এগুলো কিন্তু এত সহজে বড় হয়নি। এখন আমরা চিরতরে নিমগাছের ছায়া ও বাতাস থেকে বঞ্চিত হলাম।’
হাসপাতালসংলগ্ন পেয়ারা বাগান মহল্লার বাসিন্দা সাবিরা ইসলাম তামান্না বলেন, ‘গরমের সময় এই রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় নিমগাছের ছায়ায় শরীর-মন জুড়িয়ে যেত। উন্নয়নের নামে এমন বড় বড় গাছ কেটে ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শরিফ অ্যান্ড সন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পৌরসভা থেকে তাদের যেভাবে নকশা ও কাজের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তারা সেই অনুযায়ী কাজ করছে।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ মো. ইমরান হোসাইন জানান, উন্নয়নকাজের জন্য হাসপাতাল এলাকার ১৬টিসহ মোট ১৯টি গাছ কাটা পড়বে। তারা গাছগুলো বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু রাস্তার নকশার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এত বড় বড় নিমগাছ কাটা পড়াটা নিজের জন্যও কষ্টদায়ক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তৌফিকুল ইসলাম গাছ কাটার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘জনস্বার্থেই রাস্তাটি বড় করা হচ্ছে। এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি বেশ সংকীর্ণ ছিল, যার ফলে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজট সৃষ্টি হতো এবং মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। যানজট নিরসন ও শহরের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের স্বার্থেই বাধ্য হয়ে গাছগুলো কাটতে হচ্ছে।’





