অর্ধশত কোটির মাগুরা আইটি পার্ক এখন ‘ফক্স পার্ক’

শিয়াল, সাপ ও বেজির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে মাগুরার অর্ধশত কোটি টাকার আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার (আইটি পার্ক)। বর্তমানে এই আইটি পার্ক স্থানীয়দের কাছে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ফক্স পার্ক’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। আট বছরেও নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পটি এখন সরকারি অর্থ অপচয় ও অব্যবস্থাপনার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাগুরা শহরের স্টেডিয়ামপাড়ায় নির্মাণাধীন ছয়তলা দৃষ্টিনন্দন গোলাকৃতির ভবনটির চারপাশ এখন ঘন জঙ্গলে ঢেকে গেছে। দিনের বেলাতেও সেখানে শিয়াল, সাপ ও বেজির অবাধ বিচরণ দেখা যায়। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই এখন আর এটিকে আইটি পার্ক না বলে ‘ফক্স পার্ক’ বলেই উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের দাবি, হাজারো যুবকের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের এই প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পটি চালু হলে পিছিয়ে পড়া ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্যও এখানে প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় সব আশায় ‘গুড়ে বালি’ হয়েছে। এ জন্য সরকারের কাছে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে আইটি পার্কটি চালু করার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের আট জেলায় আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের অংশ হিসেবে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে মাগুরা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। শহরের স্টেডিয়ামপাড়ায় সরকারি প্রায় পাঁচ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লিটন ট্রেডার্স ২০১৮ সালের জুলাইয়ে নির্মাণকাজ শুরু করে।

২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আট বছর পরও তা সম্পন্ন হয়নি। একাধিকবার সময় বাড়িয়ে সর্বশেষ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারণ করা হলেও কাজ এখনও অসম্পূর্ণ।
স্থানীয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি অচল থাকায় জেলার হাজারো তরুণ তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য ঘোষিত সুবিধাও বাস্তবায়িত হয়নি।
প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, সরকারের ৫৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের আটটি আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পের মধ্যে সাতটির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে মাগুরার কেন্দ্রটির কাজ এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৪ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী অর্থবছরে অবশিষ্ট কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।





