ভাঙারিতে স্কুলের বই বিক্রি, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে বিপুল পরিমাণ নতুন ও অব্যবহৃত পাঠ্যপুস্তক ভাঙারির দোকানে বিক্রি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম।
অভিযুক্ত মো. আকতার হোসেন উপজেলার সরকারি হাতেম আলী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন দুপুরে পৌর শহরের বহেরাতলা এলাকার একটি ভাঙারির দোকানের সামনে থেকে বগুড়াগামী একটি ট্রাকে বিপুল পরিমাণ বই ও কার্টন তোলা হচ্ছিল। স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা ট্রাকটি আটকে প্রশাসনকে খবর দেন। পরে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে ২০২৪ ও ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক স্তরের বিপুল পরিমাণ নতুন ও অব্যবহৃত সরকারি পাঠ্যপুস্তক উদ্ধার করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত জাকারিয়া নামে এক হকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি স্বীকার করেন, সরকারি হাতেম আলী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আকতার হোসেনের কাছ থেকে তিনি এসব বই কিনেছেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৩ জুন প্রধান শিক্ষক মো. আকতার হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা কোনো ধরনের নিলাম বিজ্ঞপ্তি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলার বিজ্ঞানাগার থেকে বইগুলো বিক্রি করেন। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও ভোকেশনালসহ বিভিন্ন বিষয়ের মোট ২ হাজার ৩৭৯টি সরকারি পাঠ্যপুস্তক মাত্র ৮ হাজার ৮০৫ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়। বইগুলোর মোট ওজন ছিল ৫৮৭ কেজি।
সরকারি কর্মচারী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে সরকারি সম্পদ বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বই বিক্রির আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।
উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে উদ্ধার হওয়া প্রাথমিক স্তরের বই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার জিম্মায় এবং গাইড বই সংশ্লিষ্ট প্রাপকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে, মাধ্যমিক স্তরের ২ হাজার ৩৭৯টি সরকারি পাঠ্যপুস্তক জব্দ করে হেফাজতে নিয়েছে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ।
মামলার বাদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক মো. কবির হোসেন জানান, উদ্ধার করা বই যাচাই-বাছাই এবং বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পরামর্শে থানায় এজাহার দায়ের করায় কিছুটা সময় লেগেছে।
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





